ভাইরাল

অভাব নিত্যদিনের সঙ্গী, টিনের চালের বাড়ি, মা বাঁধেন বিড়ি! সেইসব এরমাঝেও পড়াশোনা করে উচ্চ মাধ্যমিকে পঞ্চম স্থান অধিকার করে নিল বাঁকুড়ার সোমনাথ

কিছুদিন আগেই প্রকাশিত হল রাজ্যের উচ্চমাধ্যমিকের ফলাফল। প্রতি বছরের তুলনায় এ বছর পাশের হার বেড়েছে। এবছর পাস করেছে মোট ৮৮.৬৩ শতাংশ। বিভিন্ন জেলা থেকে মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীরা নিজেদের নাম উজ্জ্বল করেছে। তার মধ্যে অন্যতম একজন হল বাঁকুড়া জেলার সোমনাথ। এবছর উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় সোমনাথ পঞ্চম স্থান অধিকার করেছে। বাঁকুড়া গ্রামের অত্যন্ত দরিদ্র পরিবারের ছেলে সোমনাথ। সোমনাথের মা বিড়ি বেঁধে সংসারে রোজগার করে, বাবা কর্মহীন। আর এই সবের মধ্যেও নিজের পড়াশোনা চালিয়ে যেত সোমনাথ এবং উচ্চমাধ্যমিকে দারুন ফলাফল করে নিজের এবং মা-বাবার মুখ উজ্জ্বল করেছে।

সোমনাথ এবং তার পরিবার বাঁকুড়া জেলার সানবাঁধার তমালতলা বাসিন্দা। সোমনাথের বাবা একসময় সবজি বিক্রেতার কাজ করতেন। কিন্তু চার বছর আগে এক দুর্ঘটনায় একটি পা ভেঙ্গে যায় সোমনাথের বাবার। তারপর থেকেই বাড়িতেই কর্মহীন হয়ে পড়ে আছেন তিনি। তারপর থেকেই সোমনাথের মা সংসারের সমস্ত হাল ধরেছে। বিড়ি বাঁধার কাজ করে সংসারের যতটুকু আয় হয় তাই দিয়ে সোমনাথ দের কষ্টে-সৃষ্টে চলে যায়। কারণ বিড়ি বেঁধে কতটুকুইবা আয় হয়। আর এসবের মধ্য থেকেও সোমনাথ নিজের পড়াশোনা চালিয়ে গেছে উচ্চমাধ্যমিকে এত ভাল ফলাফল করেছে।

ইচ্ছে থাকলেই যে মানুষ নিজের লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারে সেটা আবারও প্রমাণ করে দিয়েছে সোমনাথ। বাঁকুড়া জেলার গোয়েস্কা বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছে সোমনাথ। সংসারে অভাব-অনটন থাকলেও কঠোর পরিশ্রমে পড়াশোনা ঠিক চালিয়ে গিয়েছে। তার মোট প্রাপ্ত নম্বর হলো ৪৯৪। তার এই সাফল্যে খুশি তার মা-বাবা ও নিজের এই সাফল্যের জন্য তার মা-বাবার একটা বড় ভূমিকার কথা জানিয়েছে। তার মা যদি পরিশ্রম না করে সোমনাথ কে না পড়াশোনা করা তো তাহলে হয়তো সোমনাথ আজ এই জায়গায় আসতে পারতো না। সোমনাথ ভালো পরীক্ষা দিয়েছিল ঠিকই কিন্তু পঞ্চম হবে এই কথাটা ভাবতে পারিনি। এরপরে সোমনাথ ভূগোল নিয়ে পড়াশোনা করে শিক্ষক হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তার ইচ্ছে সে শিক্ষক হয়ে গ্রামের সেবা করবে। তবে আগামী দিনে ছেলের পড়াশুনার খরচ চালিয়ে যাওয়া সোমনাথের মায়ের নেই। তাই সকলের কাছে সাহায্যের আবেদন করেছে সোমনাথ এবং তার মা।

Back to top button