শিক্ষকের চাকরি ছেড়ে মৌমাছি প্রতিপালক করে আজ ৪০ লক্ষ টাকা ইনকাম করে এই ব্যক্তি, জানুন তার দুঃসাহসিক পদক্ষেপের গল্প

বর্তমান যুগে চাকরির জন্য হাহাকার চারিদিকে। একটা চাকরি পাওয়ার জন্য ছেলেবেলা থেকেই শুরু হয়ে যায় প্রস্তুতি। সরকারি গ্রুপ ডি চাকরির জন্য রয়েছে প্রচুর প্রতিযোগিতা।

আর সেই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেন লক্ষ লক্ষ মানুষ। আর একসময় হরিয়ানার বাসিন্দা জগৎ পাল সিং শিক্ষকতা ছেড়ে মৌমাছি প্রতিপালক হয়েছিলেন। তার এই দুঃসাহসিক পদক্ষেপের কথাই এখন জানবো।

এ যুগে যারা চাষ করেন তারা প্রত্যেকেই চান তাদের ছেলে মেয়েরা যেন চাষবাস না করে তারা যেন ভালো করে পড়াশোনা শিখিয়ে একটা চাকরি করতে পারে যাতে তাদের ভবিষ্যৎ সুনিশ্চিত হয়।

তবে এক সময় জগৎ পাল সিং তোর শিক্ষকতার চাকরি ছেড়ে মৌমাছি প্রতিপালক হয়ে যান। তিনি বিয়েড করেছেন এবং তারপরে স্কুলের শিক্ষকতায় যোগদান করেন।

তিনি প্রায় কুড়ি বছর স্কুলে শিক্ষকতার চাকরি করেছিলেন। এরপর তার মনে হয়েছিল নতুন কিছু করা উচিৎ। পরে তিনি তাঁর এক বন্ধুর সাথে দেখা করেছিলেন যিনি মৌমাছি পালনকারী হিসেবে কাজ করতেন। তার কাজ দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি ঠিক করেন যে তিনি চাকরি ছেড়ে মৌমাছি প্রতিপালক হবেন।

এরপর থেকে তিনি চাকরি ছেড়ে এই কাজেই নিযুক্ত হয়ে যান। ওই সময় সোশ্যাল মিডিয়া কিংবা নেট কানেকশন ছিল না তার কাছে। ওই সময় তিনি বিভিন্ন মৌমাছি প্রতিপালকদের সঙ্গে বৈঠক করে এবং অজস্র বই এনে সেগুলো পড়ে তার থেকে তথ্য সংগ্রহ করতে থাকেন।

এরপর তিনি ত্রিশটি বাক্সে মৌমাছি প্রতিপালন শুরু করেন। তিনি তার স্ত্রীকেও এই কাজে পাশে পেয়েছিলেন। জগৎ পাল সিং-এর স্ত্রী ঐ মধু নিয়ে গিয়ে বাজারে বিক্রি করতেন এবং তিনিও বাজারের দোকানদারদের সাথে পরামর্শ করতেন যাতে তার মধুর ব্র্যান্ডকে আরও জনপ্রিয় করা যায়।

বর্তমানে তিনি ১০ রকমের মধু তৈরি করেন এবং তার বার্ষিক আয় ৪০ লক্ষ টাকা। নিম মধু, তুলসী মধু, সেলারী মধু, বেরি মধু, সরিষার মধু ইত্যাদি ধরণের মধু তৈরি করেন।

তিনি তার এই কাজ নিয়ে বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেক রকম ভিডিও শেয়ার করেন। হোয়াটসঅ্যাপে অনেক গ্রুপও বানিয়েছেন। এছাড়াও বিভিন্নভাবে তিনি তার ব্র্যান্ডের মধুর প্রচার করে। তিনি প্রতিদিন প্রায় ২০০ টি করে অর্ডার পান এবং সেগুলো ঠিকানা অনুযায়ী বাই পোস্টে পৌঁছে দেওয়া হয়।

দুঃসাহসী পদক্ষেপ সব সময় খারাপ হয় না। হরিয়ানার বাসিন্দা জগৎ পাল সিং সেটাই প্রমান করে দিয়েছেন। যদি নতুন কিছু করার ইচ্ছা থাকে তাহলে সেটি করাই যায়। তারিক আজ অনেকেই অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে নতুন কিছু করার। বাঁধাধরা নিয়মের বাইরে গিয়ে কিছু করার।