Story

ফুটপাথে শুয়েও রাত কাটিয়েছেন! আজ ভারতের প্রথম কিন্নর বিচারপতি জয়িতা! অবহেলা, ঘৃণা ও শত অপমান সহ্য করে আজ সফল বাংলার জয়িতা মন্ডল

যুগ এগিয়ে গেছে অনেকটা। যুগের সাথে সাথে বদলেছে আমাদের চারপাশের জগৎ। তবে যেটা এখনো পুরোপুরি বদলানো যায় নি সেটা হলো মানুষের মানসিকতা। কিছু কিছু জিনিস আছে যা আগেও মানুষ বাঁকা চোখে দেখত আর এখনও ঠিক একই ভাবে দেখে। আমাদের সমাজ এখনও বৃহন্নলাদের বাঁকা চোখেই দেখেন । তারাও যে অন্যদের মতো সাধারণ – স্বাভাবিক মানুষ সেটাই কেউ বুঝতে চাননা। এ সমাজে বৃহন্নলাদের বেঁচে থাকতে গেলে সহ্য করতে হয় অনেক অবহেলা।

অবহেলা, ঘৃণা সহ্য করতে হয় নিজের পরিবারের কাছ থেকেও। সমাজ এবং পরিবারের থেকে অবহেলা-ঘৃণা সহ্য করেও নিজের জীবনে আজ সফল বাংলার প্রথম কিন্নর বিচারপতি। এখন আমরা জেনে নেব জয়িতা মন্ডলের জীবন সংগ্রামের গল্প। জয়িতা মন্ডল হলেন বাংলার প্রথম কিন্নর বিচারপতি। তিনি আজ সিভিল কোর্টের একজন প্রতিষ্ঠিত বিচারক। আমাদের সমাজ বৃহন্নলাদের বিভিন্নভাবে অপমান করে জয়িতার ক্ষেত্রেও তার অন্যথা হয়নি। জয়িতা বাঙালি হিন্দু পরিবারে জন্মেছিলেন। ছোট থেকেই তাকে সহ্য করতে হয়েছে মানুষের ঘৃণা অপমান।

দশম শ্রেণির পর সে স্কুল ছেড়ে দেয়। তার নিজের পরিবার ও তাকে মন থেকে গ্রহণ করেনি। এরপর তিনি বহুদিন রাস্তার বাসস্ট্যান্ডে ঘুমোতেন। রাস্তায় রাস্তায় ভিক্ষাও করেছেন এক সময়ে। তবে এতো প্রতিকুলতার সত্বেও তিনি আজ প্রতিষ্ঠিত। আজ সমাজের অনেক গণ্যমান্য ব্যক্তিরা তার সামনে মাথা ঝোঁকান। এরপর তিনি উত্তর দিনাজপুরের ইসলামপুরে চলে যান। ইসলামপুরে যাওয়ার পর তিনি ট্রান্সজেন্ডার কমিউনিটিতে কাজ করতে শুরু করেন। এর পাশাপাশি তিনি তার পড়াশোনাটাও শেষ করতে থাকেন। ২০১০ সালে তিনি ল-এর ডিগ্রি অর্জন করেন।

এরপর তিনি ‘দিনাজপুর নতুন আলো’ নামে একটি সংস্থা খোলেন যে সংস্থা বহু মানুষের দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। ২০১৭ সালের ৮-ই জুলাই প্রথম কিন্নর বিচারপতি হিসেবে জয়িতা মন্ডল উত্তর দিনাজপুরের ইসলামপুর লোক আদালতে যান। বর্তমানে জয়িতা মন্ডল একজন প্রতিষ্ঠিত বিচারপতি। তিনি প্রমাণ করে দিয়েছেন এ সমাজের কাছে তারাও অন্য সাধারণ মানুষ গুলোর মত ঘুরে দাঁড়ানোর সাহস রাখে। তাদেরও অধিকার আছে নিজেদের স্বপ্ন পূরণ করার। সাধারণ থেকে তারাও হয়ে উঠতে পারে অসাধারণ। তাদেরও সমান অধিকার আছে সমাজে সুস্থ স্বাভাবিক ভাবে বাঁচার।

Back to top button