Story

“অভিনয় করে মাতিয়ে দেওয়ার মতো একটাও চরিত্র পেলাম না”, বারসিঙ্গার থেকে জনপ্রিয় খলনায়ক! রইল সৌমিত্র বন্দোপাধ্যায় এর জীবন কাহিনী

হুগলির একটি ছোট পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন অভিনেতা সৌমিত্র বন্দোপাধ্যায়। ছোট থেকেই ছিল গানের সখ। নায়ক নয় বরং তিনি একজন গায়ক হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেতে চেয়ে ছিলেন। তবে জীবন চাকা তার অন্যদিকে ঘুরে ছিল। যদিও গানের হাত ধরেই তিনি প্রবেশ করেছিলেন এই দুনিয়ায়।

সকলের প্রিয় খলনায়ক তিনি। এতটাই প্রাণবন্ত অভিনয় ছিল তার কোন অনুষ্ঠানে স্টেজে উঠলেই অভিনেতাকে ঘিরে শোরগোল পড়ে যেত। দর্শক বুঝতো না যে পর্দার সৌমিত্রর সাথে স্টেজে অনুষ্ঠান করতে আসা সৌমিত্রর কোন মিলই নেই।

তিনি গানটা এতটাই ভালবাসতেন যে কলকাতার এক বারের গায়ক হিসেবে নিজের কর্মজীবন শুরু করেন। কিশোর কুমারের গান অবিকল তার গলায় ফুটে উঠত। নাচে গানে তিনি মাতিয়ে রাখতেন। যদি এই গান গাওয়া নিয়ে পরিবারের তরফ থেকে একাধিক আপত্তি ছিল। সবসময়ই বাবা-মা দাবি করে এসেছেন ইংরেজি মিডিয়াম থেকে পড়াশোনা করার ছেলে কেন বারের মতো জায়গায় গান গাইবে! তবে গানের প্রতি প্রবল আগ্রহ থেকেই শুরু গ্ল্যামার জগতে প্রবেশ করা। ছোট ছোট বেশ কয়েকটি চরিত্রে অভিনয় করতে দেখা যেত তাকে।

১৯৮২ সালে পরিচালক গৌতম মুখোপাধ্যায় ছবি ত্রয়ী তার জীবনে টার্নিং পয়েন্ট হয়ে দাঁড়ালো। এই ছবিতে মুখ্য চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন তিনি। নায়িকার চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন দেবশ্রী রায় এবং সঙ্গে ছিলেন মিঠুন চক্রবর্তীও। সিনেমার সাথে সাথে এই ছবির সবকটি গান সুপারহিট তকমা পেয়েছিল। এই ছবিটি বক্স অফিসে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পাওয়ার পরেই ঘরে ঘরে বেশ পরিচিতি লাভ করেন অভিনেতা সৌমিত্র বন্দোপাধ্যায়।

তবে তিনি নায়কের চরিত্রে অভিনয় করতে পারলেও তার কথা বলার হাবভাব, শরীরের অঙ্গ ভঙ্গি এমনই ছিল যে নায়কের চরিত্র ছেড়ে ক্রমশই খলনায়কের চরিত্রে অভিনয় করার জন্য প্রস্তাব পেতে লাগলেন। কখনো বড়লোকের বিগড়ে যাওয়া ছেলের ভূমিকায় আবার কখনো গুন্ডাদের ভূমিকায় অভিনয় করতে লাগলেন তিনি। গুরুদক্ষিণা, মঙ্গলদীপ, ইন্দ্রজিৎ, হীরক জয়ন্তী ইত্যাদি ছবিতে একই ধরনের চরিত্রেই দেখা গেল তাকে।

তবে অভিনেতার আক্ষেপ রয়ে গেছিল যে, অভিনয় দিয়ে মাতিয়ে দেওয়ার মতো চরিত্র তিনি একটাও পাননি। হয়তো এই হতাশাই অভিনেতার জীবনে কালো মেঘ ঘনিয়ে এনেছিল। মদ হয়ে উঠলো তার অপরিহার্য প্রাত্যাহিক জীবনের এক সঙ্গী। কখন মদ খেতে খেতে যে ওই মাদকদ্রব্যটি তাকে খেতে শুরু করে দিয়েছিল অভিনেতা তা ঘুনাক্ষরেও টের পাননি। অভিনেত্রী রীতা কয়রালকে বিয়ে করে বেশ সুখে শান্তিতে জীবন কাটাচ্ছিলেন। তবে এই দাম্পত্যজীবন বেশিদিন স্থায়ী হয়নি তার। এর কারণ ছিল অভিনেতার আকস্মিক মৃত্যু। ২০০০ সালে মাত্র ৪৬ বছর বয়সে অভিনেতা মৃত্যুবরণ করেন।

Back to top button