Story

‘পরিচালকের হাতে চড় পর্যন্ত খেয়েছি, সকলেরই পায়ে পড়তে হয়েছে,’ নিজের অভিনয় জীবনের শুরুর দিকের স্ট্রাগলের কথা বললেন অভিনেত্রী অনামিকা সাহা

বাংলা চলচ্চিত্র জগতের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেত্রী হলেন অনামিকা সাহা। আশি নব্বই দশকে চুটিয়ে বাংলা ছবিতে অভিনয় করেছিলেন অভিনেত্রী। তাকে আমরা বেশিরভাগ সময়েই সব ছবির ঘরনায়িকা চরিত্রই দেখতে পেয়েছি। খলনায়িকা চরিত্রে তার অভিনয় প্রতিবারই দর্শকদের মন কেটে নিয়েছে। তখনকার সময় খলনায়িকা চরিত্রে অনামিকা সাহা ছাড়া যেন আর কাউকে ভাবাই যেত না। তবে অনামিকা সাহার আসল নাম অনামিকা নয়, তার মা বাবার দেওয়া নাম হলো ঊষা। ইন্ডাস্ট্রিতে আসার পরেই তার নাম অনামিকা হয়ে যায়।

তবে এবারে অভিনেত্রী ইন্ডাস্ট্রির উপর নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করলেন। অভিনেত্রী কিছুদিন আগেই জানিয়েছেন অভিনেত্রী অপরাজিতা আঢ্যকে নাকি অনামিকার হাত ধরে ইন্ডাস্ট্রিতে প্রবেশ করেছিলেন। কিন্তু কোথাও অপরাজিতা আঢ্য অনামিকা সাহার কৃতিত্ব উল্লেখ করেনা। অন্যদিকে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের দিকে আঙ্গুল তুলেছেন অভিনেত্রী। তিনি জানিয়েছেন ক্যামেরার সামনে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় তাকে পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করে শ্রদ্ধা দেখালোও ক্যামেরার বাইরে অভিনেত্রী গায়ে হাত তুলতেও ছাড়েনি তিনি।

সম্প্রতি কিছুদিন আগে নিজের অভিজ্ঞতার কথা সকলের সামনে তুলে ধরেন অভিনেত্রী। অনামিকা সাহা জানিয়েছেন ‘আগেকার দিনে এই মানসিক স্বাস্থ্যের ব্যাপারটা’কে এতটা গুরুত্ব দেওয়া হতো না। আমাদের সময় তো সব দেখেই শিখতে হত। শুটিং ফ্লোরে বড় শিল্পীদের অভিনয় দেখে আমরা শিখতাম। তাঁদের অভিনয় দেখার সুযোগ পাওয়াটাই ছিল বিরাট চ্যালেঞ্জ। বড় শিল্পীদের অভিনয় দেখার জন্য পরিচালকের পায়ে পর্যন্ত পড়তে হতো আমাদের। বলতাম ‘আমি একটু দেখব যে কিরম করে ওঁরা অভিনয় করেন।’

এমনকি অভিনেত্রী জানিয়েছেন অভিনয় শিখতে গিয়ে তিনি জ্ঞানেশ মুখোপাধ্যায়ের কাছে চড় পর্যন্ত খেয়েছিলেন। আসলে ফেডারী ফৌজ নামের একটি নাটকের অভিনয় করতে গিয়ে রিয়াসেলের সময় হঠাৎ অভিনেত্রী হাত থেকে বাবার দেওয়া সোনার খড়ি পড়ে যায় এবং ফেলে তিনি মাঝপথে সেই ঘড়ি তুলে যান তখনই জ্ঞানেশ্বরবাবু তাকে ডেকে বলে ‘টেনে এক থাপ্পর মারবো।’ এরপর তিনি স্পষ্টভাবেই জানিয়ে দিয়েছিলেন অভিনয়ের করার সময় যেন অন্য কোন দিকে আর মন না যায়। তবে অভিনেত্রী জানিয়েছেন বর্তমান সময়ে অভিনয় শেখা খুব সহজ। এখন সহজেই যে কেউ চাইলে অভিনয় জগতে আসতে পারে। চারিদিকে রয়েছে অনেক অভিনয় শেখার স্কুল। আগেকার দিনের মতো বড়দের দেখে দেখে শেখার দিন নেই।

Back to top button