“আমার মা ভারতমাতা, আর কাউকে মা বলতে পারবো না”, নাম না করে মমতাকে বিঁধলেন শুভেন্দু

মন্ত্রীত্ব থেকে পদত্যাগ করলেও ছাড়েননি তখনও বিধায়কের পদ,বিজেপিতে যোগ দেবেন কিনা জানাননি,বারংবার বৈঠক দলের সাথে,তবুও পরিষ্কার হচ্ছিলো না শুভেন্দু অধিকারীর রাজনৈতিক ভবিষ্যত ও বর্তমান অবস্থান৷ তারপর ইস্তফা দিলেন বিধায়কের পদ থেকেও!আজ সেই দীর্ঘ জল্পনার অবসান ঘটিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে হাতে তুলে নিলেন পদ্মপতাকা৷ মেদিনীপুরের অমিত শাহের জনসভাতে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দিলেন বিজেপিতে৷

মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন আরও নয় জন তৃণমূল বিধায়ক এবং একজূন সাংসদ৷ তৃণমূল ছেড়েছেন সকলেই,যোগ দেবেন বিজেপিতে৷ সামনে শুধু দেখা যাচ্ছে মানুষের মাথা৷ সকলের সামনে গ্রহণ করলেন উত্তরীয়৷ তারপর হুঙ্কার দিলেন,”তোলাবাজ ভাইপো হঠাও৷” তৃণমূলের ওপর জমে থাকা ক্ষোভ উগড়ে দিয়ে বলেন,”যখন কোভিড আক্রান্ত ছিলাম,দলের কেউ খোঁজ নেয়নি৷ অমিত শাহ খোঁজ নিয়েছিলেন৷” মুকুল রায় তাকে প্রায়ই বলতেন যদি আত্মসম্মান থাকে তাহলে তৃণমূলে থাকিস না৷ তৃণমূল কর্মীদের খোলা চিঠি দেন৷

সেখানে বলেন,”যারা পার্টি তৈরী করেছে তাদের গুরুত্ব দেওয়া হয় না,সুবিধা পায় যারা স্বার্থ নিয়ে চলে৷” আজ দিলীপ ঘোষের হাত ধরে মঞ্চে ওঠেন প্রাক্তন তৃণমূল মন্ত্রী৷ উঠেই হাত ধরেন “বড়ো ভাই” অমিত শাহের৷ প্রণাম করেন পায়ে হাত দিয়ে৷ শ্লোগান দেন,”ভারতমাতার জয়৷”

মেদিনীপুরের সভা থেকে জোর গলায় বলেন,”আমার একমাত্র মা আমার জন্মদাত্রী মা গায়েত্রী অধিকারী,অপরজন হলেন ভারতমাতা,আর কাউকে মা বলতে পারব না৷ আমি আগে ভারতীয়,তারপর বাঙালি৷” তৃণমূলকে সরাসরি আক্রমণ করে শুভেন্দু বলেন,”বিগত দশ বছরে কোনো পরিবর্তন হয়নি৷ রাজ্যের অবস্থা শোচনীয়,অর্থনীতি ধ্বসে গেছে,রাজ্যে নতুন করে কর্মসংস্থান হচ্ছে না৷”

তাই তিনি মনে প্রাণে চান যাতে দিল্লিতে আর কলকাতায় একই সরকার থাকে৷ উপস্থিত মানুষ আর গোটা বাংলার মানুষের উদ্দেশ্যে শুভেন্দু বলেন,”যদি বাংলাকে বাঁচাতে হয় তাহলে বাংলাকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর হাতে তুলে দিন৷ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে বাংলা এগিয়ে যাবে৷”

এছাড়াও আজ শুভেন্দুর গলায় শোনা গেল বিজেপির প্রতি শ্রদ্ধা৷ তিনি বলেন,”লোকসভা নির্বাচনের আগে বিজেপি হঠাও বলেছিলাম,বলেছিলাম বিজেপি ভারত ছাড়ো,আর আজ বলছি তোলাবাজ ভাইপো হঠাও৷” এভাবেই আজ শুভেন্দু অধিকারীর শ্লোগানের সুরে ধ্বনিত হয়ে উঠল মেদিনীপুরের জনসভা৷ একই মঞ্চে দেখা গেল অমিত শাহ আর শুভেন্দুকে৷ নির্বাচনের প্রাক্কালে তৃণমূল বিরাট এক ধাক্কা খেল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল৷