টলিউড

“কেউ আসে না আমার খেলা দেখতে, জয় দেখতে, বাবাও না, মাও না!” লড়াইয়ের কথা লিখলেন মিলি

উত্তরবঙ্গের জলপাইগুড়ির কন্যা মিমি। ছোটবেলা থেকেই আর পাঁচটা মেয়ের মতোই বড় হয়েছেন তিনি। মধ্যবিত্ত পরিবার, পাড়া-প্রতিবেশী, সেই চিরাচরিত চিন্তাভাবনার বিরুদ্ধে লড়াই করে আজ টলি পাড়ার জনপ্রিয় অভিনেত্রী হয়ে উঠেছেন তিনি। শুধু তাই নয়, কিছুদিন আগে পর্যন্ত সাংসদ ছিলেন। অভিনেত্রী হিসেবে যেভাবে তিনি নিজেকে প্রমাণ করেছেন ঠিক সেই ভাবেই সাংসদ হিসেবে কাজের প্রমাণ দিয়েছেন এলাকাবাসীর কাছে।

আরও পড়ুন : মাত্র ৩ মাসের ইয়ালিনি! এরই মাঝে “বেবিবাম্পে” হাত দিয়ে ছবি পোস্ট শুভশ্রীর, আসছে কি তৃতীয় সন্তান?

এবার নিজের দীর্ঘদিনের সেই লড়াইয়ের কাহিনী লিখলেন মিমি চক্রবর্তী।। তিনি লেখেন, জলপাইগুড়িতে তিনি বড় হয়েছেন। সেখানকার মানুষ সকাল দশটা থেকে পাঁচটা পর্যন্ত চাকরি আর ভাতঘুমে আটকে। তবে ছোটবেলা থেকেই এমন গতে বাঁধা জীবন পছন্দ ছিল না তাঁর। পড়াশোনায় তার দিদি বেশি ভালো ছিল।

পাশাপাশি নজরুল গীতি রবীন্দ্র সংগীত গাইতো। সেই সময় গায়ের রং পুড়িয়ে কবাডি খেলা ব্যাডমিন্টন খেলা পছন্দ করতেন মিমি। পুরস্কারও পেয়েছেন। মিমির আফসোস, “কেউ আসে না আমার খেলা দেখতে, জয় দেখতে, বাবাও না, মাও না। তাঁদের সব চিন্তার কারণ আমি। বড়দের কথা শুনি না, হাফ প্যান্ট পরি।”

তবে কেউ উপরে উঠতে চাইলে পাড়ার লোকে যেরকম কান ভাঙ্গানি দেয় ঠিক একইভাবে মিমির ক্ষেত্রেও পাড়ার লোকের কান ভাঙানি ছিল. এসবের মাঝে অভিনেত্রীর প্রথম মেডেল গুলি হয়তো হারিয়ে গিয়েছে।

খেলাধুলায় প্রথম হওয়ার সেই মেডেল যদি আজ খুঁজতে বসেন তাহলে হয়তো আর পাবেন না। ওই সময় লড়াইয়ে একা লাগতো মিমির। ঈশ্বর ছিলেন তার সম্বল। তবে কলকাতাকে তিনি প্রথম দেখেন বড় পিসির মেয়ের বিয়েতে। সেই থেকেই মনের জেদ ছিল এই শহরে থেকে পড়াশোনা করবেন।

তবে সে ক্ষেত্রে মা-বাবা পরিবার পরিজন কাউকে পাশে পাননি মিমি। জলপাইগুড়ির কলেজে পড়তেও রিকশা ভাড়া লাগবে, সেই জায়গায় মিমি কিনা বলেছেন কলকাতায় গিয়ে পড়াশোনা করবেন? এ কথা বলেছিলেন মিমির মা। মিমির বায়নার একেবারেই সহমত পোষণ করেননি তিনি। তার ওপর পাড়ার লোকের কথা তো লেগেই রয়েছে।

তবে জেদ কম ছিল না মিমির। তাঁর কথায়,”দুদিন খাওয়া বন্ধ করে দিয়েছিলাম, বাড়ির লোক বাধ্য হয়েছিল”। তবে শর্ত ছিল পিসির বাড়ির কাছে কোন কলেজে ভর্তি হতে হবে। “মেয়েদের ক্ষেত্রে আসলে কোন কিছু সহজ নয়”, বলছেন মিমি।

আরও পড়ুন : কাঞ্চনের ঠিকানা শ্রীময়ী, পিঙ্কির নতুন জীবনের ঠিকানা কোথায় জানেন? বিশেষ পোস্ট পিঙ্কির

সেই মিমি আজ নামি অভিনেত্রী। পাড়ার লোকে বলতো,”গ্রামের মেয়ে, কোনওদিনও অভিনয় হবে না। আজ সেই মুখগুলো দেখি না।” মেয়ে বলে সবকিছু মেনে নিতে নারাজ মিমি। তিনি বলেন,”আমি মানি না…”।

তবে সোশ্যাল মিডিয়ার পাতায় আজও মিমিকে নিয়ে যখন তার বিয়ের প্রশ্ন করা হয় বেশ খারাপ লাগে তার। বাবা-মায়ের পরে আর কেউ নেই মিমির। অভিনেত্রীর কথায়,”
জীবন একার এ আমার অভিযোগ নয়, এ আমার শান্তির।”

Back to top button

Ad Blocker Detected!

Refresh