বিবাহবিচ্ছেদ,একাধিক প্রেমে ভাঙন, তবুও নিজের জায়গায় অনড় চল্লিশের স্বস্তিকা

অভিনেত্রী স্বস্তিকা মুখার্জী আজকের বাংলা ছবির জগতে এক ব্যতিক্রমী নাম৷ সম্প্রতি সিনেমার পাশাপাশি ওয়েব প্ল্যাটফর্মেও অভিনয় করে মন জয় করছেন দর্শকদের৷ দক্ষ স্বস্তিকা কিছু এমন চরিত্র বাছেন,যা প্রথাগতের থেকে আলাদা,একেবারে নতুন কিছু৷ ফলে সবকটি চরিত্রই হয়ে ওঠে অনন্য৷ চলতি বছরেই অভিনেত্রী পা দিয়েছেন চল্লিশে৷ পেরিয়ে এসেছেন জীবনের অনেকগুলি পর্যায়৷ কাটিয়েছেন অনেক বসন্ত৷ বাংলা সিনেমার খানিক অন্য ঘরানার ছবিতেই তারা সবালীলতা চোখ টানে৷

শুরুটা করেছিলেন মাত্র আঠারো বছর বয়সে “হেমন্তের পাখি” বলে এক ছবিতে৷ অভিনয় করেছিলেন একটি ছোট চরিত্রে,চরিত্রটি ছোট হলেও গুরুত্বপূর্ণ ছিল৷ এরপরেই তার বাবা অভিনেতা সন্তু মুখোপাধ্যায় বিয়ে দিয়ে দেন স্বস্তিকার থেকে বয়সে বেশ অনেকটা বড়ো প্রমিত যেনের সাথে৷ আর বিয়ের পর কন্যা সন্তানের জন্ম দিলে তার ওপর শুরু হয় শ্বশুরবাড়ির শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন৷

আর পাঁচজন সাধারণ মেয়ের মতোই নিজের বাড়িতে এসে সবকিছু জানালেও কোনো ফল হয় না৷ স্বস্তিকার মা —বাবা তাকে মানিয়ে নিতে বলেন৷ অত্যাচারের মাত্রা দিনের পর দিন বেড়ে যাওয়ায় স্বস্তিকা একদিন মেয়েকে নিয়ে বেরিয়ে আসেন ওই বাড়ি থেকে৷ তবে এবার চলবে কীভাবে? সিঙ্গেল মাদার স্বস্তিকার শুরু হয় লড়াই৷ নিজের আর মেয়ের খরচ চালানোর জন্য বিভিন্ন সিনেমা আর টেলিফিল্মে অভিনয় করতে শুরু করেন,ধীরে ধীরে জনপ্রিয়তা পেতে শুরু করেন৷ এরই সাথে পড়াশোনাও বন্ধ করেননি,যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইতিহাসে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন৷ বিবাহবিচ্ছেদ হয় প্রমিত সেনের সাথে৷ তবে আগে নির্যাতনের অভিযোগে প্রমিতের নামে অভিযোগ ও মামলা দায়ের করলেন৷ স্বামীর থেকে কখনও খোরপোষ চাননি সাবলম্বী স্বস্তিকা৷

এরপর থেকে জড়িয়ে পড়েন একাধিক প্রেমের সম্পর্কে৷ অভিনেতা জিৎ—এর সাথে “মস্তান” ছবিতে অভিনয়ের সময়ে দুজন ঘনিষ্ঠ হন৷ তবে কোনো এক কারণে তাদের সম্পর্কের অবসান ঘটে৷ এছাড়াও পরমব্রতের সাথেও একসময়ে জড়িয়ে পড়েন সম্পর্কে৷ চৌরঙ্গীর রুফটপ রেস্তোরায় পরমব্রত তাকে প্রোপোজও করেন৷ তবে পরমব্রতের মা কখনই তাদের ঘনিষ্ঠতা মেনে নেননি৷ এরপরই পরমব্রত ফিল্ম মেকিং নিয়ে পড়তে যান বিদেশে,সেখানে ইকা নামক এক ডাচ মেয়ের সাথে সম্পর্ক শুরু করেন আর ইমেলের মাধ্যমে স্বস্তিকার সাথে ব্রেক আপ করে দেন৷

মাঝে স্বস্তিকার সাথে পরিচালক সৃজিত মুখার্জীর ঘনিষ্ঠতা গাঢ় হয়৷স্বস্তিকার শুটিং ফ্লোরে মাঝেমধ্যেই চলে যেতেন সৃজিত৷ এই সম্পর্কটির মেয়াদও ছিল না বেশিদিন৷ মিথিলাকে বিয়ে করেন সৃজিত৷ এরপর পরিচালক সুমন মুখোপাধ্যায়ের সাথে বহুদিন ছিলেন প্রেমের সম্পর্কে৷ সুমন যে বিবাহিত তা জানতেন না স্বস্তিকা,এক নাম করা হোটেলে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন৷ পরে সুস্থ হলে সুমনের সাথেই মুম্বাইয়ের ফ্ল্যাটে লিভ—ইনে থাকতে শুরু করেন স্বস্তিকা৷ মুম্বাইতে কাজও শুরু করেন তিনি৷ তবে ইতি ঘটে এই সম্পর্কেরও৷

সাহসী,স্ট্রং স্বস্তিকা কখনও হাল ছাড়েননি৷ ব্যক্তিগত জীবনে এত জটিলতা থাকা সত্ত্বেও কাজ করে গেছেন একের পর এক৷ প্রফেশনল জীবনে কখনও ব্যক্তিগত জীবনের প্রভাব পড়তে দেননি৷ ক্রিটিসাইজড হয়েও হেরে যাননি৷ নিজেকে দাঁড় করিয়ে রেখেছেন শক্ত করে৷