বলিউড

‘রণবীরের ওই ছবি আমার মায়েরও পছন্দ, ভাবাবেগে আঘাত লাগেনি, আমার নারীত্ব অপমানিত হয়নি’, পাশে দাঁড়ালেন বাঙালি মেয়ে সুমনা চক্রবর্ত্তী

বর্তমানে রণবীর সিংয়ের নগ্ন ফটোশুট নিয়ে তোলপাড় সারা সোশ্যাল মিডিয়া। মুম্বাই পুলিশের কাছে FIR করা হয়েছে রণবীর সিং এর নামে। ANI-এর খবর অনুযায়ী, ভারতীয় দন্ডবিধির ২৯২, ২৯৩, ৫০৯ এবং আইটি সেকশনের ধারা অনুযায়ী তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের হয়েছে মামলা। অভিযোগে বলা হয়েছে এই ধরনের নগ্ন ফটোশুট করে রণবীর সিং নারীদের অপমান করছে তাদের আবেগ নিয়ে খেলছে। তবে এই প্রসঙ্গে বাঙালি অভিনেত্রী সুমনা চক্রবর্তী রণবীর সিং এর পাশে দাঁড়িয়েছেন।

নিজের ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে রণবীর সিং এর পাশে দাঁড়িয়ে সুমন লিখেছেন ‘আমি একজন মহিলা। তবে এক্ষেত্রে কোথাও আমার নারীত্বকে ছোট করা হয়েছে বলে আমার মনে হয়নি। এমনকি, আমার অনুভূতিতে আঘাত লাগেনি।’ শুধু নিজের বক্তব্যই নয়, বয়সে প্রবীণ, মা শিবর্গ চক্রবর্তীর বক্তব্য তুলে ধরেছেন সুমনা। এর আগে নিজের ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে অভিনেত্রী সুমনার মা শিবর্গ চক্রবর্তীর লিখেছিলেন, ‘ছবিগুলি দারুণ ছিল, একমাত্র ঈশ্বরই জানেন কোন অনুভূতিতে আঘাত লেগেছে। হয়তো ওরাঁ আরও দেখতে চেয়েছিলেন।’

প্রসঙ্গত, রণবীর সিং এর নগ্ন ফটোশ্যুট নিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে চেম্বুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন মুম্বই এর বেদিকা চৌবে নামে একজন আইনজীবী। তাঁর অভিযোগ ছিল, ‘এধরনের ফটোশ্যুট মহিলাদের নারীত্বকে ছোট করেছে এবং তাঁদের অনুভূতিকে আঘাত করেছে।’ এখানেই শেষ নয় রণবীরে বিরুদ্ধে মুম্বই-ভিত্তিক একটি NGO গত সোমবার চেম্বুর পুলিসের দ্বারস্থ হয়েছিল। এই দুই অভিযোগের ভিত্তিতে মুম্বই পুলিস রণবীরের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারায়, যেমন ২৯২ (অশ্লীল বই বিক্রি ইত্যাদি), ২৯৩ (তরুণদের কাছে অশ্লীল জিনিস বিক্রি), ৫০৯ (শব্দ, অঙ্গভঙ্গি বা কাজের মাধ্যমে নারীত্বকে অপমান করা) এর অধীনে মামলা দায়ের করেছে। তবে রণবীর এর পাশে দাঁড়িয়েছেন বলিউডের একাধিক অভিনেতা অভিনেত্রী। তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছেন আলিয়া ভাট, অর্জুন কাপুর, রাখি সাওয়ান্ত, পরিচালক রামগোপাল বর্মা।

অন্যদিকে রণবীর সিং এর ফটোশ্যুট নিয়ে সোচ্চার হয়েছিলেন তৃণমূল সাংসদ, অভিনেত্রী মিমি চক্রবর্তী। তাঁর প্রশ্ন, ‘কোনও মেয়ে এমনটা করলে কি এভাবেই প্রশংসা হত?’গত শুক্রবার রণবীরের ফটোশ্যুট প্রসঙ্গে টুইটারে মিমি চক্রবর্তী লেখেন, ‘রণবীরের ফটোশ্যুট নিয়ে নেটদুনিয়ায় আগুন ধরেছে। কমেন্টের বন্যা বয়ে যাচ্ছে। অনেকেই কমেন্ট বক্সে আগুনের ইমোজি দিচ্ছেন। আমি ভাবছি, একজন মেয়ে এমন ফটোশ্যুট করলে, তিনি কি ঠিক একই প্রশংসা কুড়োতেন! এতক্ষণে হয়ত সেই মেয়েটি বাড়ি ভাঙচুর করা হত, কিংবা বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হত। তাঁকে নোংরা ভাষায় গালি দিতে কিংবা খুনের হুমকি দিতে অনেকেই ছাড়ত না।’

Back to top button