ভাইরাল

‘দু-বছরে কি শিখেছিস?’ শিক্ষকের প্রশ্নের উত্তরে ‘কাঁচা বাদাম’ গান গাইলো এক ছাত্র, ছোটদের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত অনেকেই

করোনা পরিস্থিতির জেরে গত দু’বছর স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ছিল। মাঝে খুললেও করোনার জেরে আবারো বন্ধ হয়ে যায় তা। তবে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসের শুরুর দিকে স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়গুলি পুনরায় খুলেছে। আবারো ছাত্র-ছাত্রীদের দেখা যাচ্ছে সেই পুরনো আমেজে। কিন্তু এই দু’বছরে তাদের যে এক বিপুল ক্ষতি হয়েছে, তা স্পষ্ট অনেকক্ষেত্রেই। বাড়িতে বসে পড়াশোনা করার ফল যে খুব সুখকর নয় তা স্পষ্ট।

সম্প্রতি নেটমাধ্যমের পাতায় একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে, যেখানে দেখা যাচ্ছে এক ছাত্রকে তার শিক্ষক জিজ্ঞাসা করছে গত দু’বছরে সে কি শিখেছে? তার উত্তরে সোশ্যাল মিডিয়ার ট্রেন্ডিং ‘কাঁচা বাদাম’ গানটি গেয়ে দিয়েছে। এই শুনে সেখানে উপস্থিত সকলেই রীতিমতো হেসে ওঠে। নেটনাগরিকদের একাংশ এই ঘটনাটিকে মজার ছলে নিলেও বর্তমানের শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত অনেকেই।

করোনার জেলে এতদিন ধরে অনলাইন ক্লাস চলেছে। তবে সেইসমস্ত ক্লাস শিক্ষার্থীদের বিশেষ সুবিধা করতে পারেনি। শহরের দিকেয ছাত্রছাত্রীরা অনলাইনে ক্লাস করলেও, গ্রামের দিকে সেইসবের বালাই ছিল না বললেই চলে। বর্তমানে স্কুল খোলার পর ছাত্র-ছাত্রীদের এমন অবস্থা দেখে মাথায় হাত শিক্ষকদেরও। গত দু’বছরে তাদের যে অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে গিয়েছে তা পূরণ করা যাবে কিনা বলা মুশকিল। তবে এ শুধু একটি ঘটনা উঠে এসেছে সকলের সামনে। এমন আরও অনেক ঘটনা ঘটছে চারিদিকে।

কয়েকদিন আগে জানা গিয়েছিল একটি স্কুলের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রছাত্রীদের শুরু থেকে শেখানো হচ্ছে। বুঝলেন কিছু! শুনলে অবাক হবেন। গত দু’বছরে পড়াশোনার সাথে সম্পর্ক না থাকায় তারা অক্ষরগুলো পর্যন্ত ভুলে গিয়েছে, তা সেই স্কুলের শিক্ষক জানিয়েছেন নিজেই। স্কুল খোলার পর তাদের অক্ষর চেনাতে হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে কীভাবে সিলেবাস শেষ হবে, তা নিয়ে মাথায় হাত শিক্ষকদেরও।

আবার অনেক ক্ষেত্রে স্মার্টফোন হাতে চলে আসায় ক্ষতি হয়েছে শিক্ষার্থীদের। বর্তমানে ভার্চুয়াল দুনিয়া এবং একাকীত্ব তাদের যে অনেকটাই গ্রাস করে নিয়েছে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। এই ভার্চুয়াল দুনিয়া তাদের পড়াশোনার ক্ষেত্রে ক্ষতি সাধন করেছে অনেকটাই, তা মানছেন বিশেষজ্ঞরাও। এই পরিস্থিতিতে চেষ্টা করেও তাদের দূরে রাখা যাচ্ছে না ভার্চুয়াল দুনিয়া থেকে। সকলেই মনেপ্রাণে চাইছেন পরিস্থিতি আবারো স্বাভাবিক হোক। নাহলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ক্ষতি হবে আরো।

Back to top button