Story

সত্যিই কি দুর্ঘটনায় মারা গিয়েছিলেন মহুয়া রায়চৌধুরী? সেদিন রাতে কি ঘটেছিল অভিনেত্রী মহুয়ার সঙ্গে, আজও এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজে চলেছে তার অনুরাগীরা

টলিউড ইন্ডাস্ট্রির প্রথম সারির অভিনেত্রীদের মধ্যে অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেত্রী ছিলেন মহুয়া রায়চৌধুরী। খুব কম সময়ের মধ্যেই তিনি সাফল্যের চূড়ান্ত শিখরে পৌঁছে গিয়েছিলেন। একের পর এক হিট সিনেমায় অভিনয় করে গেছেন এই অভিনেত্রী। ‘শ্রীমান পৃথ্বীরাজ’ ছবির হাত ধরে প্রবেশ করেছিলেন অভিনয় জীবনে।

এরপর থেকে তাকে আর পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি। তবে তার এই সাফল্যে গাড়ির চাকা থেমে গিয়েছিল মাঝপথেই। ১৯৮৫ সালে মারা যান এই অভিনেত্রী। তবে তার মৃত্যু রহস্য আজও অজানা। তিনি কি সত্যিই কি দুর্ঘটনায় মারা গিয়েছিলেন? নাকি তাকে ষড়যন্ত্র করে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল এই পৃথিবী থেকে? না আজ এইসব প্রশ্নের উত্তর অধরা।

১৯৮৫ সালে তার বাড়ি থেকেই তার অর্ধেক অগ্নিদগ্ধ দেহ পাওয়া গিয়েছিল। মারা যাওয়ার সময় তার হাতে ২০টি ছবি ছিল। এত সাফল্যের মাঝেও একাকীত্ব তাকে বড্ড কষ্ট দিত। এই কারণেই হয়তো তিনি কিশোরকন্ঠী গায়ক তিলকের প্রেমে পড়েছিলেন। তিলকের বাবার অমতে বিয়ে করেছিলেন তাকে।

এরপর থেকেই শুরু হয় তিলককে জীবনে প্রতিষ্ঠিত করে তোলার লড়াই। তিলকের দাদা অলোক চক্রবর্তী তিলক-মহুয়া জুটিকে নিয়ে প্রযোজনা করলেন ফিল্ম ‘আনন্দমেলা’। তিলকের দাদা অলক চক্রবর্তী একজন সামান্য ব্যাঙ্কের চাকুরীজীবি হয়ে সিনেমা প্রযোজনার টাকা কোথায় পেলেন তা জানা যায়নি। তবে সিনেমাটি একেবারে চলেনি দর্শকমহলে।

এরপরই তিলক ও মহুয়া রায়চৌধুরীর উশৃঙ্খল জীবনযাপন শুরু হয়। যা তাদের জীবনকে একটু একটু করে নষ্ট করে দিচ্ছিল। এরপর তাদের একটি পুত্র সন্তান জন্মগ্রহণ করে। তার নাম রেখেছিলেন গোলা। ফুটবলপ্রেমী মহুয়া ছেলের নাম রেখেছিলেন ‘গোলা’।

একেবারে পাল্টে গিয়েছিলেন অভিনেত্রী মহুয়া রায়চৌধুরী। মদে আসক্ত হয়ে পড়েছিলেন এই অভিনেত্রী। মদ খেলেই নতুন পুরুষকে কাছে চাইতেন। এরপর যখন তার হুশ ফিরত তখন রত্না ঘোষালের কাছে তার কান্ড কারখানা শুনে তিনি নিজেই বিশ্বাস করতে পারতেননা। একদিকে তার স্বামী তিলক ছিলেন একজন অসফল মানুষ।

অন্যদিকে মহুয়া রায়চৌধুরী চূড়ান্ত মদের নেশা দিনে দিনে সমস্যা বাড়াচ্ছিল। তিলক ও নীলাঞ্জনের সহাবস্থান তৈরি হয়েছিল অভিনেত্রীর বাড়িতে। এরপর তার বাংলাদেশে চলে যাওয়ার কথা ছিল এবং মুম্বাইয়ের একটি ছবিতে অভিনয় করারও কথা ছিল। কিন্তু পরবর্তীকালে তার হাতে ভিসা এসে পৌঁছায়নি। পৌঁছায়নি নাকি পৌঁছে দেওয়া হয়নি! সেই উত্তর অজানা।

পরবর্তীকালে অভিনেত্রীর বাড়ি থেকেই তার অর্ধেক অগ্নিদগ্ধ দেহ পাওয়া গিয়েছিল। জানা যায়, ছেলের জন্য দুধ গরম করতে গিয়ে স্টোভ বাস্ট করে মারা যান অভিনেত্রী। কিন্তু অভিনেত্রীর বাড়ির রান্নাঘরের স্টোভ বাস্ট করার কোন চিহ্ন পাওয়া যায়নি। নাইটি ও বিছানায় ছিল কেরোসিনের গন্ধ। সারা শরীর জুড়ে ছিল কালশিটের দাগ, মুখের ডানদিকে ছিল ব্লেড দিয়ে কাটার ক্ষত। পিঠ, তলপেট, উরু ভয়াবহ দগ্ধ। সত্তর শতাংশের বেশি পুড়ে গিয়েছিলেন অভিনেত্রীর দেহ।

তিলক ও নীলাঞ্জন বলেছিলেন রাতে খাওয়ার পর এই ঘটনাটি ঘটেছিল। তারা অনেক চেষ্টা করেও তাকে বাঁচাতে পারেননি। কিন্তু সেদিন রাতে এক নামী পরিচালকের বাড়ির পার্টি থেকে অভিনেত্রী ডিনার করে ফিরেছিলেন। তাদের কথায় অভিনেত্রীকে বাঁচানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে তাদের শরীরের কোথাও থেকে কোনো ক্ষত চিহ্নের হদিশ পাওয়া যায়নি। এরপর তাকে একটি নামকরা বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল।

অভিনেত্রী জানতেন তিনি আর বাঁচবেন না। এই অবস্থায় তার জবানবন্দি নেওয়া হয়েছিল। জবানবন্দি নিয়েছিলেন তৎকালীন সিআইডি অফিসাররা, ডেপুটি সুপারিটেন্ডেন্ট অফ পুলিশ এন.সি.বন্দ্যোপাধ্যায়, ইন্সপেক্টর এ.এন.দুবে। সেই সময় ঐখানে উপস্থিত ছিলেন তার দাদা পিনাকী রায়চৌধুরী ও সিস্টার ঊষা। তার প্রিয় বান্ধবী রত্না ঘোষালও এদিন এখানে উপস্থিত ছিলেন। মৃত্যুশয্যায় থাকাকালীন তিনি তার ছেলেকে দেখাশোনা করার জন্য তার বন্ধুকে অনুরোধ করে গিয়েছিলেন। তার মৃত্যুর রহস্য আজও রহস্যই থেকে গেছে। অভিনেত্রীর মৃত্যু নিয়ে অনেক ধরনের মতামত ঘুরে বেড়ায় চারিদিকে। তবে আসল কারণ হয়তো আর কেউ কোনোদিন জানবেননা। সেই ফাইল বন্ধ হয়েছে বহু বছর আগেই।

Back to top button