Story

ছোট্ট একটি গ্রাম থেকে আজ দেশের কোনায় কোনায় ছড়িয়ে পড়েছে তার ব্যবসা, বিক্রি হচ্ছে ৩০টির ও বেশি সামগ্রী

জীবনে কোনো লক্ষ স্থির থাকলে সেই লক্ষ্যে পশ্চিমের জন্য মানুষ অনেক কিছু করতে পারে। সেরকম একটি জলজ্যান্ত উদাহরণ হল নৈনিতালের রামগড় ব্লকের নাথুভাখান গ্রামের বাসিন্দা রমা বিষ্ট। ছোট্ট শহর বুরাংশ থেকে নিজের ব্যবসা শুরু করেন এবং নিজের চেষ্টায় ব্যবসা দাঁড় করিয়েছেন এবং বর্তমানে তিনি আশেপাশের ২০টি গ্রামের মহিলাদের রোজগার করার সুযোগ করে দিয়েছেন তিনি। তার সঙ্গে যেসব নারীরা কাজ করে তারা জ্যাম, চাটনি, জুস, স্কোয়াশ সহ আরো অন্যান্য দ্রব্য তৈরি করে।

২০১৩ সালে প্রথমবার ‘অ্যাপল জোন’ নামের একটি কোম্পানি তৈরি করে রমা। খামার বাড়ি থেকে অনেকটা দূরে হওয়ায় কাজ করার সময় অনেকটা কম পেত সে। তারপরই রমা অন্য চিন্তা ভাবনা করে এবং পরে এই বাগানের বুদ্ধি আসে তার মাথার কিন্তু তার এই চলার পথ খুব একটা সহজ ছিল না। এই কাজ শুরু করার সময় অনেক সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়েছিল রমা কে। পরিবারের পুরোপুরি সাপোর্ট পায়নি সে। কিন্তু বর্তমানে নিজের চেষ্টায় ব্যবসা দাঁড় করিয়েছে এবং সফল হয়েছে আজ সে হাজার হাজার নারীদের অনুপ্রেরণা।

রমা তার নিজের গ্রামেই একটি বাগান তৈরি করে। সেখানে আপেল, পীচ, এপ্রিকট, পোলেম সহ অনেক ধরণের গাছ লাগান তিনি। এরপর তার বাগানের ফল থেকে তৈরি করেন কিউই জাম, কিউই চাটনি, কিউই স্কোয়াশ, আপেল জ্যাম, অ্যাপল চাটনি সহ অনেক পণ্য। এছাড়াও রমা আপেল সস, আপেল স্কোয়াশ, পিচ জ্যাম, পীচ স্কোয়াশ, ডালিম জাম, পোলেম কি চাটনি, আচার ইত্যাদি বানায়। এর থেকে আয় ও হয় বেশ ভালো পরিমাণে।

রমা বর্তমানে তার এই ব্যবসার পাশাপাশি পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছে সমানতালে সবেমাত্র স্নাতকোত্তর পাস করেছে রমা। এছাড়াও ইতিমধ্যেই বিবিসির সদস্য হয়েছে সে। নারীদের অধিকার নিয়ে তিনি একাধিক বক্তব্য রাখেন। ২০১০ সালে তিনি প্রথম শুরু করেন ভেষজ চাষ। এর জন্য তাকে পড়তে হয় অনেক বই। ভেষজগুলি থেকে তৈরি করেন অনেক ধরণের পণ্য। এছাড়াও তিনি ভেষজ চা এবং গোলাপ জলও প্রস্তুত করেন, যার চাহিদা বর্তমানে বেশি। অনলাইন এবং অফলাইনে তাদের পণ্যের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।

রমার বক্তব্য অনুযায়ী “জাতি গঠনে নারীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, তাই নারীদের ক্ষমতায়ন করা উচিত। আমি গর্বিত যে আমি পাহাড়ের মেয়ে। আজও দেশের অর্ধেক জনসংখ্যা তাদের অধিকার ও অধিকার থেকে বঞ্চিত।” এছাড়াও তিনি প্রশ্ন করেন যে, নারীদের প্রাচীন মানসিকতা থেকে বেরিয়ে এসে নারীদের মূলধারায় অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। আজ নারীরা কি কাজ পারে না? এছাড়া তিনি আরও বলেন যে, “আজ নারীরা প্রতিটি ক্ষেত্রে তাদের সাফল্যের পতাকা ওড়াচ্ছে। সমাজ নির্মাণে নারীর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ, তাই নারীকে স্বাবলম্বী করতেই হবে। তাদের দিতে হবে উন্নত শিক্ষা। ”

Back to top button