Story

মানসিক অবসর থেকে বেরিয়ে আসতে সেলিব্রেটি জীবন ছেড়ে চাষাবাদের সঙ্গে যুক্ত হয়েছিলেন জনপ্রিয় এই হিন্দি টেলিভিশনের অভিনেত্রী, জেনে নিন অভিনেত্রীর জীবনের সেই সময়ের গল্প

হিন্দি টেলিভিশন জগতের একজন অত্যন্ত পরিচিত এবং জনপ্রিয় অভিনেত্রী হলেন রতন রাজপুত। দীর্ঘ কয়েক বছরের অভিনয় জীবনে তিনি একাধিক জনপ্রিয় ধারাবাহিকে অভিনয় করে গিয়েছেন। একের পর এক হিন্দি ধারাবাহিককে আমরা তাকে বিভিন্ন চরিত্রে দেখতে পেয়েছি। অভিনেত্রীর অভিনয় যাত্রা শুরু হয়েছিল আজ থেকে ১৩ বছর আগে ২০০৯ সালে জি টিভির জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘আগলে জনম মোহে বেটিয়া হি কি জো’ এর হাত ধরে। এই ধারাবাহিকে সমাজের নারীদের করুণ অবস্থাকে অসাধারণ ভাবে নিজের অভিনয়ের মাধ্যমে ফুটিয়ে তুলেছিলেন অভিনেত্রী। সেখান থেকে অভিনেত্রীর জনপ্রিয়তা শুরু। এরপরে অভিনেত্রী কে দেখা গিয়েছে রতন রিস্তা নামক স্বয়ম্বর সভায়। এছাড়াও ‘রিস্তো কা মেলা’, এবং স্টার প্লাসের জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘মহাভারত’ এর মতন জনপ্রিয় ধারাবাহিককে অভিনয় করেছেন রতন। শেষবার দর্শক তাকে দেখতে পেয়েছিলেন ২০১৮ সালে পৌরাণিক গল্পের অবলম্বনে তৈরি ধারাবাহিক মা সন্তোষী তে।

এরপর দীর্ঘ পাঁচ বছর কেটে গিয়েছে কিন্তু অভিনেত্রীকে এখনো পর্যন্ত টেলিভিশনের পর্দায় দেখা যায়নি। হঠাৎ করে কোথায় উধাও হয়ে গেলেন অভিনেত্রী সেই নিয়ে নানান ধরনের প্রশ্ন উঠেছে দর্শকদের মনে। এবার সেই সমস্ত প্রশ্নেরই জবাব দিলেন অভিনেত্রী রতন রাজপুত। জানা যায় ২০১৮ সালে মা সন্তোষী ধারাবাহিক শেষ হওয়ার পরপরই নিজের বাবাকে হারিয়েছিলেন অভিনেত্রী। বাবাকে হারিয়ে একেবারেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন তিনি। বেশ কয়েক বছর মানসিক অবসাদে ভুগেছিলেন। নিজেকে কোন কাজের সঙ্গে যুক্ত রাখতে পারছিলেন না। কাজে মন বসছিল না তার। তাই ইন্ডাস্ট্রি থেকে নিজেকে অনেকটাই সরিয়ে নেন।

তবে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ার পরেও কোন মনোবিজ্ঞানের মতামত নেয়নি। তিনি নিজেই সাইকোলজি নিয়ে পড়াশোনা করে চাষাবাদের সঙ্গে যুক্ত হন। সাধারণ মানুষের সঙ্গে একেবারে মিশে গিয়েছিলেন তিনি। সকলের সঙ্গে সাধারণভাবে ওঠাবসা করতেন এমনকি তাকে বেশ কয়েকবার চাষের জমিতে নেমে চাষ করতে দেখা যায়। তার সোশ্যাল মিডিয়া একাউন্টে সেরকম সময়ের বিভিন্ন ছবি দেখা যায় এখনো। তারপরই সমস্ত রকম মানসিক অবসাদ কাটিয়ে আবারও নিজের স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসেন তিনি।

অভিনেত্রী জানান মুম্বাই ছাড়ার তিন মাস পরে তিনি একটি গ্রামে চলে গিয়েছিলেন। সেখানকার গ্রামে সাধারণ মহিলাদের সঙ্গে জীবন যাপন করেন তিনি। চাষ করতে সাহায্য করেছিলেন ওই মহিলাদের। তারপর থেকেই ধীরে ধীরে মানসিক অবসাদ থেকে বেরিয়ে আসতে শুরু করেন এবং এভাবেই তিনি নিজের স্বাভাবিক জীবন আবার পুরনো ছন্দে ফিরে পান।

Back to top button