M.A পাশ করেও চাকরি হলোনা! লোকাল ট্রেনে হকারি করে সংসার চালান প্রতিবন্ধী শিবপ্রসাদ

এখনকার দিনে যুগের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে না পারলে পিছিয়ে পড়তে হয়। এযুগের প্রতিটা বাবা-মা এবং তার সন্তান ভালো করে পড়াশোনা শিখিয়ে একটা ভালো চাকরি করুক যাতে তার ভবিষ্যৎ সুনিশ্চিত থাকে।

তবে এ কথা হয়তো সবার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয় কারণ এমন কিছু কিছু মানুষ থাকে যাদের প্রতিনিয়ত জীবনে বেঁচে থাকার জন্য সংগ্রাম করতে হয় প্রতি মুহূর্তে। এরই জলজ্যান্ত উদাহরণ হলেন শিবপ্রসাদ মিশ্র।

শিবপ্রসাদ মিশ্র মেদিনীপুরের গোপগড়ে থাকেন। তার পেশা ট্রেনে ট্রেনে হকারী করে বেড়ানো। তবে তিনি অন্যান্য হকারদের থেকে অনেকটাই আলাদা। শিবপ্রসাদ হকারি করবেন বলে হকারি করেন না।

তিনি মাধ্যমিক- উচ্চমাধ্যমিক পাশ করার পর ৫২% নম্বর নিয়ে স্নাতক হয়েছেন এবং তারপরে সংস্কৃততে এমএ-ও করেছেন। এত দূর পড়াশোনা করার পরেও তিনি একটা চাকরি পাননি তাকে ট্রেনে ট্রেনে দুধ বিক্রি করে সংসার চালাতে হয়। শিবপ্রসাদ অন্যদের মতো স্বাভাবিক নন কারণ তিন বছর বয়সে এক দুর্ঘটনার কবলে পড়ে তার কোমরের নিচের অংশটা বাদ যায়।

সে খুব কষ্ট করে নিজের শরীরটাকে কোন রকমের ট্রেনে ডান হাতের ওপর ভর দিয়ে চলেন। হাওড়ার দক্ষিণ-পূর্ব লাইনের যে কোন ট্রেনে উঠলেই দেখা মিলবে শিবপ্রসাদের। তার পিঠে থাকে একটি ব্যাগ এবং বাঁ হাতে থাকে অনেকগুলো ধূপের প্যাকেট আর অনবরত এই ধূপের কি কি গুন আছে তা বলতে থাকে মুখে।

তার বাবার স্বল্প রোজগারে সংসার চালানো খুব কঠিন তার বাবার স্বল্প রোজগারে সংসার চালানো খুব কঠিন হাওয়ায় তাকেই রোজগার করতে বেরোতে হয়েছে। তার মা গৃহবধূ।

এমএ পাশ করার পর শিবপ্রসাদ ভেবেছিল সে সে কোন না কোন একটা চাকরি জোগাড় করে বাবা-মায়ের পাশে দাঁড়াবে। কিন্তু সে আশা তার পূরণ হয়নি। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সে বেশ কয়েকবার চিঠি লিখেছে একটা চাকরির জন্য কিন্তু সেখান থেকে কোনো সদুত্তর পাওয়া যায়নি।

এরপর তিনি শুভেন্দু অধিকারী কে চিঠি লিখেছিলেন চাকরির জন্য তবে তার উত্তরে তিনি শুধু একটা সাইকেল পেয়েছিলেন। এরপর থেকে তিনি আর কোনো চিঠি কাউকে লেখেননি। ট্রেনে ট্রেনে ধূপ বিক্রি করাটাকে নিজের পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছেন। বর্তমানে করোনার জন্য সবকিছুই প্রায় বন্ধ।

এরমধ্যে শিবপ্রসাদ এবং তার মত অন্যান্য হকারদের প্রতিনিয়ত জীবনে বেঁচে থাকার জন্য লড়াই করে যেতে হচ্ছে। আপনাদের কাছে একটাই অনুরোধ রইলো যদি কখনো এই শিবপ্রসাদ মিশ্রের দেখা পান তাহলে তার কাছ থেকে অন্তত পক্ষে একটা ধূপের প্যাকেট কিনে তাকে কিছুটা সাহায্য করবেন।