ভোটকুশলী পিকে’র টিম থাকা সত্ত্বেও দল ভাঙনের পথে কেন? মমতার প্রশ্নের মুখে পিকে

২০২১—এ বাংলায় কে গড়বে সরকার? এ নিয়ে সর্বদাই সরগরম রাজ্য—রাজনীতি৷ লোকসভা নির্বাচনে আশানুরূপ ফল পায়নি তৃণমূল৷ তাই এবার একটুও ফাঁক রাখতে চাননা তৃণমূল সুপ্রিমো৷ চলতি মাস থেকে একের পর এক শুরু হয়েছে সরকারের তরফে প্রকল্প৷ “দুয়ারে দুয়ারে সরকার”,”দিদিকে বলো”,”বঙ্গধ্বনি” সহ আরও বিবিধ প্রকল্পকে সামনে রেখে বাংলায় ঘাঁটি আরও শক্ত করতে চাইছে তৃণমূল সরকার৷

তবে ঘাঁটি বোধ হয় মাটি আঁকড়াতে পারছে না ঠিকভাবে! একের পর এক হেভিওয়েট সামনের সারির তৃণমূল নেতারা ইস্তফা দিচ্ছেন৷ আজই মেদিনীপুরের সভায় প্রাক্তন পরিবহণ মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দিলেন বিজেপিতে৷ সাথে যোগ দেবেন আরও ১০জন সদ্য প্রাক্তন তৃণমূল নেতা৷ স্বাভাবিকভাবেই চিন্তার ছাপ ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে শাসকদলে৷

সামনের সারির তৃণমূল নেতাদের গলাতেও দল সম্পর্কে বিরূপ মন্তব্য শোনা যাচ্ছে৷  নির্বাচনের প্রাক্কালে দলের এমন অবস্থা ঠিক কেন তা জানতে পিকে’র টিমের সাথে বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ অথচ এই পিকে’র টিম প্রভূত চেষ্টা করেও শুভেন্দু অধিকারী,শীলভদ্র দত্ত বা জিতেন্দ্র তিওয়ারিদের আটকাতে পারেনি৷ বরং উল্টে নেতারাই পিকে’র টিমে ওপর দলের কার্যভার দেওয়াতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন৷ সূত্রের খবর মুখ্যমন্ত্রী কালীঘাটের বাড়িতে প্রশান্ত কিশোরের সাথে বৈঠকে বসেন৷ বৈঠকে সরাসরি কাঠগড়ায় তোলা সংহয় টিমকে৷ দলীয় নেত্রীর প্রশ্নের মুখে পড়েন পিকে৷

লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি জয়লাভ করে অনেক বেশি আসনে৷ তারপরই দলের পরিচালনার দায়িত্ব নিতে পিকে’র টিমকে ডাকা হয়৷ ফল বিশেষ হল না বোধ হয়! কারণ নির্বাচনের আগেই দলের ভাঙন বেড়েছে দ্বিগুণ মাত্রায়৷

তৃণমূল সুপ্রিমো পিকে—কে প্রশ্ন করেন যে ভোটের আগে দলের এরম অবস্থা কেন! সমস্যা কোথায় বলে পিকে মনে করছেন? জানতে চান মমতা৷ প্রশান্ত কিশোর জবাব দেন বিজেপি বিভিন্ন সংস্থা তৈরী করে কাজে লাগিয়ে ভয় দেখাচ্ছে৷ তাতে অনেকে লোভে পড়ে বা ভয়ে চলে যাচ্ছেন,দাবী পিকে’র৷ মুখ্যমন্ত্রীও পাল্টা দিয়ে বলেন যারা আছেন তাদের দেখুন৷

এই বৈঠকে পাশাপাশি এও বলা হয় যে যারা দল ছেড়ে দিচ্ছে,তারা আসলে ছিল দলের বোঝা৷ কে গেল কে এল তা নিয়ে মাথাব্যথা নেই পার্টির৷ বরং যারা আছে ,কাজ করছে তাদের নিয়েই বিধানসভা নির্বাচনে পুনরায় সরকার গড়তে চায় তৃণমূল৷ নির্বাচনে নিজেদের জায়গা সুনিশ্চিত করতে তৃণমূলের মূল ভিত্তি হবে উন্নয়ন৷ একই সাথে কোনো রাজনৈতিক দলকে এক ইঞ্চি জায়গা ছাড়তে বার্তা দেওয়া হয়েছে কালীঘাটে বৈঠকের তরফে৷

তবে এই মুহুর্তে তৃণমূলের কপালে যে চিন্তার ভাঁজ বাড়ছে সে বিষয় নিয়ে সন্দেহ নেই৷ শুভেন্দুর পাশাপাশি দল ছেড়েছেন অনেক জেলা নেতৃত্বই৷ তালিকায় আছেন শীলভদ্র দত্ত,জিতেন্দ্র তিওয়ারি সহ আরও অনেকেই৷ তবে কোনোভাবেই উদ্বিগ্ন হচ্ছে না সরকার৷ আত্মবিশ্বাসে অনড় রয়েছে তৃণমূল,কালীঘাটে বৈঠকের বার্তা থেকে সে ছবি পরিষ্কার৷ ঘাসফুল শিবিরের দাবী বাংলার জনমানস আছে তাদের সাথে,দ্বিতীয়বারের জন্য মুখ্যমন্ত্রী হবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই৷