করোনা আক্রান্ত অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়ালো শিলিগুড়ির ISKCON মন্দির

‘জীবে প্রেম করে যেইজন, সেইজন সেবিছে ঈশ্বর’! বিবেকানন্দের এই বাণীকে পাথেয় করেই এবার ‘জীব সেবা’র কাজে এগিয়ে এল শিলিগুড়ির ISKCON মন্দির কর্তৃপক্ষ।

যাঁরা আর্থিক দিক থেকে সঙ্কটাপন্ন, অসহায় ও পরিবারের সকল সদস্য সংক্রমিত, তাঁদেরই খাবার দেওয়ার ব্যাপারে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে বলে জানান ISKCON মন্দিরের এক আধিকারিক।

কয়েক সপ্তাহে শিলিগুড়ি শহরে হু হু করে বেড়েছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা। অধিকাংশ জায়গাতেই দেখা যাচ্ছে, কোনো পরিবারের একজন করোনা আক্রান্ত হলে পরিবারের অন্যান্য সদস্যরাও সংক্রমিত হচ্ছেন। ফলে ওই সমস্ত পরিবারের সদস্যরা কীভাবে বাজারে যাবেন, কী খাবেন তা ভেবে পাচ্ছেন না। অনেক পরিবারের তো আর্থিক সামর্থ্যও নেই।

ফলে করোনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য প্রোটিন জাতীয় খাবার খাওয়া দূরস্ত, দু-বেলা পেট ভরার মতো খাবারও পাচ্ছেন না বহু মানুষ। তাই ওই সমস্ত অসহায় পরিবারের কথা ভেবে তাদের কাছে বিনামূল্যে খাবার পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নিল ISKCON মন্দির কর্তৃপক্ষ। শুধু উদ্যোগ নেওয়া নয়, ইতিমধ্যে ৩০-৩৫ পরিবারকে খাবার পৌঁছে দেওয়ার কাজও শুরু করে দিয়েছেন ISKCON মন্দিরের কর্মকর্তারা।

তবে যাঁরা আর্থিক দিক থেকে সঙ্কটাপন্ন, অসহায় ও পরিবারের সকল সদস্য সংক্রমিত, তাঁদেরই খাবার দেওয়ার ব্যাপারে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে বলে জানান ISKCON মন্দিরের এক আধিকারিক।

করোনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে এই বিশেষ উদ্যোগ প্রসঙ্গে ISKCON মন্দির কর্তৃপক্ষ জানান, বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা করোনা আক্রান্তদের সাহায্যে পথে নামলেও আর্থিক সংকটের জেরে অসহায় পরিবারগুলির কাছে খাবার পৌঁছে দিতে পারছেন না।

তাই ISKCON মন্দিরের তরফে তাদের ‘ফুড ফর লাইফ’ প্রকল্পের মাধ্যমে সংক্রমিতদের বাড়িতে বিনামূল্যে খাবার পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে ৩০-৩৫ জনকে খাবার দেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে। আগামী দিনে সেই সংখ্যা আরও বাড়বে বলেও আশাবাদী ISKCON মন্দির কর্তৃপক্ষ।

কেবল খাবার সরবরাহ নয়, খাবারের গুণমানের উপরেও বিশেষ জোর দিয়েছে ISKCON কর্তৃপক্ষ। শিলিগুড়ি ইসকনের আধিকারিক নামকৃষ্ণ দাস বলেন, ‘আমরা মন্দিরে রান্না করে সেই খাবার প্যাকেট করে রোগীদের বাড়িতে পৌঁছে দিচ্ছি। যাঁরাই আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করবেন তাঁদেরই খাবার পৌঁছে দেওয়া হবে।’

একেবারে সাদামাটা খাবার নয়, করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য মেনুতে প্রোটিন যুক্ত খাবারের উপরই জোর দেওয়া হয়েছে। এছাড়া করোনা রোগীদের চিকিত্সায় ভিটামিন-সি আবশ্যিক। লেবু জাতীয় ফল থেকেই সবচেয়ে বেশি ভিটামিন-সি পাওয়া যায়। তাই প্রতিদিনের মেনুতে লেবুকেও আবশ্যিক করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন নামকৃষ্ণ দাস।

কেবল শিলিগুড়ি নয়, রাজ্যের অন্যান্য জায়গাতেও একইভাবে ISKCON মন্দিরের তরফে অসহায় করোনা রোগীদের কাছে খাবার পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে মন্দির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে৷

ISKCON মন্দিরের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে শিলিগুড়ি পুরনিগমও। পাশাপাশি পুরনিগমের তরফেও খুব শীঘ্রই করোনা আক্রান্তদের বাড়িতে খাবার পৌঁছে দেওয়ার কাজ শুরু হবে বলে জানিয়েছেন শিলিগুড়ির পুর প্রশাসক গৌতম দেব। তিনি জানান, ইতিমধ্যে বিষয়টি নিয়ে প্রশাসক মণ্ডলীর সঙ্গে আলোচনা হয়েছে৷

আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা পরিবারগুলিকে অন্তত এক মাসের জন্য কিছু খাদ্যসামগ্রী দেওয়া হবে। এছাড়া শহরের বেসরকারি বেশ কিছু স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনও করোনা আক্রান্ত অসহায় পরিবারগুলির কাছে খাবার পৌঁছে দেওয়ার কাজ শুরু করেছে।