কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই দেশে আসতে চলেছে করোনা ভ্যাকসিন, দাবি প্রধানমন্ত্রীর

দেশবাসীকে ভরসা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এক বিশেষ বার্তার মাধ্যমে। জানালেন, করোনার ভ্যাকসিন দেশে আসতে আর বেশি দিন বাকি নেই। খুব শীঘ্রই দেশের সমস্ত মানুষ পাবে এই ভ্যাকসিন। সম্প্রতি, এক সর্বদলীয় বৈঠক থেকে মোদী জানালেন, ভারতে তিনটি ভ্যাকসিনের ট্রায়াল চলছে। আর বেশি দিন অপেক্ষা করতে হবে না। বিজ্ঞানীরা ফাইনালি অনুমতি দিলেই আর কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই ভারতে ঘরে ঘরে চলে আসবে টিকা। ফলে চিন্তা করার কোনো কারণ আর থাকবে না ।কেন্দ্র সরকার ও রাজ্য সরকার মিলেই এই টিকাকরণের কাজটি করবে। এমনকি দামও দু’পক্ষ মিলে নির্ধারণ করা হবে। টিকা কাদের আগে দেওয়া হবে সে বিষয়ে রাজ্য শেষ সিদ্ধান্ত নেবে। খুব সম্ভবত বয়স্ক মানুষদের আগে দেওয়া হবে।

মোদী জানান, এ দেশে টিকাকরণের জন্য খুব বড় ক্ষেত্র প্রস্তুত। এ বিষয়ে একটি টাস্ক ফোর্স গড়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় এক্সপার্ট গ্রুপ থাকছে। থাকবেন রাজ্যস্তরের প্রতিনিধিরা। দুপক্ষ মিলে কাজটা করবে।ভারত এ বিষয়ে একটি বিশেষ সফটওয়ারও বানানো হয়েছে। যার নাম ‘কোভিন’। ভারতে করোনা ভ্য়াকসিনের জন্য বিশেষ ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা করা হয়েছে। সুষ্ঠু ভাবে টিকা বণ্টনের পূর্ণ ক্ষমতা আছে ভারতের।

বৈঠক শেষ মোদি ঘোষণা করেন, “এই মুহূর্তে ভারতে অন্তত আটটি করোনা ভ্যাকসিন (Corona Vaccine) ট্রায়ালের বিভিন্ন স্তরে আছে। এবং আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই টিকা সরকারের হাতে চলে আসবে। বিজ্ঞানীরা সবুজ সংকেত দিলেই শুরু হয়ে যাবে টিকাকরণ। স্বাস্থ্যকর্মী, করোনাযোদ্ধা, বয়স্ক মানুষ এবং ক্রনিক রোগ আছে, এমন ব্যক্তিদের অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে টিকা দেওয়া হবে। আমাদের বিজ্ঞানীরা সফলভাবে টিকা তৈরির ব্যপারে অত্যন্ত আশাবাদী। গোটা পৃথিবী আমাদের দিকে তাকিয়ে আছে সস্তা এবং উপযোগী টিকার আশায়।”

এমনিতেই এই মুহূর্তে বিশ্বে করোনামুক্তির নিরিখে এগিয়ে ভারত। জনহিত ও রাষ্ট্রহিতের এই বিষয়টি নিশ্চয়ই সর্বস্তরেই গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা হবে। দেশবাসী যে এই কোভিড-পর্বে ধৈর্যের সঙ্গে অপেক্ষা করেছে সেজন্য দেশবাসীকে ধন্যবাদ জানিয়ে বক্তব্য শেষ করেন তিনি।

প্রসঙ্গত, সেরাম ইনস্টিটিউট অ্যাস্ট্রাজেনেকার ও অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে হাত মিলিয়ে কোভিড টিকা তৈরি করেছে। অন্যদিকে , বেশ কিছুদিন আগে সেরামও জানিয়েছিল যে , আগামী এপ্রিলেই সাধারণের জন্য অক্সফোর্ডের টিকা ভারতের বাজারে আনা সম্ভব হবে। তবে যত তাড়াতাড়ি করোনা ভ্যাকসিন বাজারে আসবে ততো শীঘ্র এই মারণ রোগের আতঙ্ক থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে তা বলা বাহুল্য।