টলিউড

দিদির দূত হিসেবে গ্রামে জনসংযোগ সেরে গরিব দলকর্মীর বাড়িতে খেতে বসলেন শতাব্দী রায়, কিন্তু ছবি তুলেই সেখান থেকে উধাও! আদেও কী তিনি খাবার খেয়েছিলেন? বিতর্কে সংসদ অভিনেত্রী শতাব্দি রায়

যেমনটা আপনারা জানেন, সামনেই পঞ্চায়েত ভোট। আর তার আগেই নতুন অবতারে দেখা দিল রাজ্য সরকার। এর আগে এই বিষয় নিয়ে বেশ কিছু বিতর্ক হয়েছে। এবার বীরভূমের তৃণমূল অভিনেত্রী শতাব্দী রায়। এক দরিদ্র দলকর্মীদের বাড়িতে অন্যান্য দল কর্মীদের সাথে মধ্যাহ্ন ভোজনে বসেছিলেন শতাব্দী। কিন্তু ছবি তুলেই সেখান থেকে উধাও তিনি। আর সেই নিয়েই পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মহল জুড়ে বিতর্ক এখন চরমে।

রাজ্যের শাসক দলের কর্মসূচি ‘দিদির সুরক্ষা কবচ’-এর জন্য সমগ্র রাজ্যে জুড়ে চলছে দলের নেতা-নেত্রীরা বিভিন্ন জায়গায় জনসংযোগের কাজ করছেন। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা এই কর্মসূচিকে রাজ্য সরকারের মাস্টার স্ট্রোক বলে মনে করছেন। আর সেই কাজ করতে গিয়ে বিপাকে পড়লেন বীরভূমের সংসদ অভিনেত্রী শতাব্দী রায়।

প্রসঙ্গত পঞ্চায়েত ভোটের আগেই রাজ্য সরকার বিভিন্ন সমালোচনার জেরে জর্জরিত। তার মধ্যে অন্যতম হলো প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা। এই বিতর্কের জন্য সমগ্র রাজ্যের জুড়ে বেশ সরগরম রয়েছে। গত শুক্রবারও বিক্ষোভ হতে দেখা গিয়েছে। সেই সময় এই প্রসঙ্গে সংসদ অভিনেত্রী বলেছিলেন, ‘অনেকেরই অভিযোগ, তাঁরা আবাস যোজনার বাড়ি, বার্ধক্যভাতা পাননি। দুয়ারে সরকারের সুবিধাও কেউ কেউ পাননি বলে জানালেন। তাঁদের কথা শুনেছি। সকলের যেমন হয়েছে, ওঁদেরও হবে। সকলেই সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাবেন’।

সুত্র অনুযায়ী গত শুক্রবার সংসদ অভিনেত্রী গিয়েছিলেন বীরভূমের বিষ্ণুপুরে। সেখানে জনসংযোগের কাজ ছেড়ে তিনি পৌঁছান বীরভূমের তেঁতুলিয়া গ্রামে। সেখানেই এক গরীব দল কর্মীর বাড়িতে উপস্থিত সকল তৃণমূল কর্মীদের মধ্যাহ্নভোজনের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। অন্যান্য কর্মীদের মতোই মাটিতে বসে শালপাতার থালাতে মধ্যাহ্নভোজন করতে বসেন অভিনেত্রী। কিন্তু খাবার পরিবেশন করার পর ছবি তুলেই তিনি সেখান থেকে উঠে যান। সেখানে তার জন্য খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছিল সাদা ভাত, ডাল, এঁচোড়ের সবজি, মাছ এবং খাসির মাংস। কিন্তু খাবার একটুও মুখে না দিয়ে পাত থেকে উঠে যান।

এই ভিডিও রীতিমতো ভাইরাল হয়ে যায় সোশ্যাল মিডিয়াতে। রীতিমত কটাক্ষের তীর ছোঁড়া হয় তাঁকে। পরে সংবাদমাধ্যমের তরফে ফোন করা হলে অভিনেত্রী এই ব্যবহারের ড্যামেজ কন্ট্রোল দিতে এক স্থানীয় স্তরের তৃণমূল কর্মী সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘অনেকেই ভেবেছিলেন, শতাব্দীদি হয়তো তাঁদের পাশে বসেই খাওয়াদাওয়া করবেন। কিন্তু সারা দিন গ্রামেগঞ্জে ঘুরে সকলেই ক্লান্ত ছিলেন। দিদিও তাই। হয়তো সেই কারণেই বাড়ির ভিতরে বসে খেয়েছেন উনি’।

Back to top button

Ad Blocker Detected!

Refresh