টলিউড

এত বছর ধরে এতগুলো সুপারহিট ছবিতে অভিনয় করার পরেও জোটেনি মহানায়িকার সম্মান, কোন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত না থাকার কারণেই কি কোয়েল মল্লিক বঞ্চিত হলেন নিজের প্রাপ্য সম্মান থেকে

এই মুহূর্তে বাংলার মানুষকে যদি জিজ্ঞাসা করা হয় যে তাদের নজরে সেরা অভিনেত্রী কে তাহলে সকলেরই উত্তর হবে কোয়েল মল্লিক। ২ দশকেরও বেশি সময় ধরে টলিউডের নিজের প্রতিভায় দর্শকের মন জয় করে আসেন অভিনেত্রী। একটা সময়ে প্রসেনজিৎ ঋতুপর্ণার পর জিৎ কোয়েলের জুটি ছিল সেরা জুটি। বাবা রঞ্জিত মল্লিকের হাত ধরে টলিউডের প্রবেশ করেছিলেন ঠিকই কিন্তু পরবর্তী সময়ে নিজের প্রতিভায় সকলের মন জয় করে নিয়েছিলেন। নিজের অভিনয়ের দক্ষতায় সকলের মনে আলাদাই ভালো লাগার জায়গা তৈরি করে নিয়েছেন তিনি। এমনকি এখনো পর্যন্ত অভিনেত্রী সকলেরই প্রিয়।

বাবার রঞ্জিত মল্লিক দীর্ঘ পাঁচ দশক ধরে চলচ্চিত্র জগতের সঙ্গে যুক্ত তার অভিনয়ের ডায়লগ স্টাইল কথাবার্তা সব কিছুই এখনো দর্শকের মনে রয়ে গিয়েছে। কোয়েল বর্তমানে আর পাঁচ জন অভিনেত্রীর মতো নন একেবারে। যতটা সম্ভব সাধারণ হয়েই থাকার চেষ্টা করেন। তিনি একেবারেই বাবার মতন। বাকি অভিনেত্রীদের মতো এতটা পাবলিসিটি নেই তবে নিজের জায়গায় তিনি এখনো সেরা। এখনকার সময়ে প্রত্যেক অভিনেত্রী প্রায় রাজনৈতিক ময়দান এ নেমে পড়েছেন কিন্তু কোয়েল আলাদা, কোন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে তিনিযুক্ত নন।

সেই উত্তম কুমারের সময় থেকে পরবর্তী কালের কমার্শিয়াল ছবি জুড়েই রঞ্জিত মল্লিক ছিলেন। নিজে পরিশ্রম করে নিজের জায়গা করে নিয়েছিলেন বলেই মেয়ে কোয়েল মল্লিক কেউ কোনোভাবে তিনি সাহায্য করেনি। তিনি চেয়েছিলেন তার মেয়ে নিজেই নিজের জায়গাটা গড়ে নিক। একটি সাক্ষাৎকারে রঞ্জিত মল্লিক একবার বলেছিলেন, “কোয়েলের ছবি করা নিয়ে আমার কখনও কোনও আপত্তি ছিল না। কেবল একটাই ভয় ছিল। মনে হয়েছিল ছবি সাফল্য না পেলে ওর মনের উপর চাপ পড়বে। এর পাশাপাশি বিপুল অঙ্কের টাকার ক্ষতি হবে প্রযোজকেরও। এই ভয়ে হরনাথ চক্রবর্তীকে বলেছিলাম, ‘হর, দু-একদিন শুটিং দেখবি। তারপর বাদ দিয়ে নতুন নায়িকা নিয়ে নিবি।”

বাবার কথা শুনে কোয়েল বলেছিলেন, “বাবা, সবাই সবার ছেলে মেয়েকে সাহায্য করে আর তুমি আমায় ছবিতে নিতে বারণ করছো!” এর পরিপ্রেক্ষিতে রঞ্জিত মল্লিক মেয়েকে বুঝিয়েছিলেন, “রঞ্জিত মল্লিকের মেয়ে বলে দর্শকরা প্রথম ছবিটা দেখতে যাবেন। বড় জোর দ্বিতীয় ছবিটাও দেখতে যাবেন। তারপর আর তুমি রঞ্জিত মল্লিকের মেয়ে নও। তোমাকে প্রমাণ করতে হবে তুমি, তুমিই। কোনও বাবা-মা তার ছেলেমেয়েকে সবটা হাতে ধরে করিয়ে দিতে পারে না। শেখাতে পারে বড়জোর।”

ছোট থেকে বাবার এই শিক্ষাতেই মানুষ হয়েছিলেন কোয়েল। তারপরই তার প্রথম ছবি নাটের গুরু সুপার হিট হয়। হল ভরে গিয়েছিল তার প্রথম ছবিতেই। প্রথম ছবি দিয়ে দর্শকের কাছ থেকে বিপুর পরিমাণ ভালোবাসা এবং জনপ্রিয়তা পেয়েছিলেন অভিনেত্রী। তারপরে আর ঘুরে তাকাতে হয়নি একের পর এক সুপারহিট ছবিতে অভিনয় করে চলেছেন। তবে এতগুলো সুপারহিট ছবিতে অভিনয় করা সত্ত্বেও পাননি মহানায়িকার পুরষ্কার। এই নিয়ে যদি অভিনেত্রীর মনে কোন রকম কোন আক্ষেপ নেই দর্শকের কাছে তিনিই মহানায়িকা।

Back to top button