টলিউড

“আসলে এখানে আগে মানুষকে বিচার করা হয়, তার পর তাঁর ছবি … এই বিষয়টায় আমার একটু আপত্তি রয়েছে” – আগে ব্যক্তি মানুষ তারপর তার কাজ বিষয়তে কি বললেন অনির্বাণ?

অনির্বাণ ভট্টাচার্য, নামটি টলিউডে বেশ জনপ্রিয়। অভিনেতা থিয়েটার থেকে শুরু করে পর্দাতেও নিজের অভিনয় দক্ষতার জাদু দেখিয়েছেন। তার অভিনয় দক্ষতার জোড়েই কিছু সময়ের মধ্যেই মানুষ তাকে রীতিমতো আপন করে নিয়েছেন। বেশ কিছু নাটক, সিনেমা এবং ওয়েব সিরিজে কাজ করার পর অভিনেতা নিজের হাতপাকাচ্ছেন পরিচালক হিসেবেও। এবার কি তবে পরিচালক অনির্বাণকেই দেখতে পাওয়া যাবে? নিজের কাজ নিয়ে একটি বিশিষ্ট সংবাদ মাধ্যম কে সাক্ষাৎকারে কিছু কথা জানালেন অভিনেতা তথা পরিচালক অনির্বাণ। চলুন দেখেনি কি বললেন তিনি।

বিশিষ্ট সংবাদ মাধ্যমের তরফে তাকে প্রশ্ন করা হয়, “বিগত দু’বছরে আপনার জীবন তো অনেকটাই বদলেছে..” উত্তরে অভিনেতা বলেন, “জীবনে বদল তো হতেই থাকবে। এটাই তো ধ্রুব সত্য। এই বদলগুলোকে আমি খোলা মনে স্বাগত জানাই (হাসি)। দেখুন, কাজের মাধ্যমেই তো আমাদের পরিচিতি। তাই সেই কাজ করতে গিয়ে যা-ই অস্থিরতা-অশান্তি থাকুক না কেন, আমাদের মাথা ঠান্ডা রাখতে হয়। শরীর সুস্থ রাখতে হয়। তার চেয়েও বড় কথা কাজ করে আনন্দ পেতে হয়”।

এরপরে অভিনেতাকে তার কাজ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়। অভিনেতা পরিচালক হিসেবে দ্বিতীয় কাজ সেরেছেন। সে বিষয়ে অভিনেতাকে প্রশ্ন করা হয়, “পরিচালক হিসাবে দ্বিতীয় কাজ করতে গিয়ে কী কী শিখলেন?” উত্তরে অভিনেতা বলেন, “সিনেমার ক্ষেত্রে পথিবীর বেশির ভাগ দেশেই মানুষ কোনও এক জন আইকনকে অনুসরণ করেন। বাংলায় সেটা একটু বেশি হয়। মৃণাল সেন, সত্যজিৎ রায় বা ঋত্বিক ঘটক তো তারই প্রমাণ। তাঁরা কেউই সেরকম বাণিজ্যিক ভাবে সফল ছবি কিন্তু তৈরি করেননি। এর পর একটা খুবই ইন্টারেস্টিং সময় এল— অঞ্জন চৌধুরী, স্বপন সাহা। পরিচালকের তুলনায় ছবিতে প্রসেনজিৎ রয়েছেন না কি রঞ্জিত মল্লিক, সেটাই দর্শকের কাছে অনেক বেশি গুরুত্ব পেত। তারও পরে গৌতমদা (ঘোষ), রিনাদি (অপর্ণা সেন) থেকে শুরু করে সৃজিতদা (সৃজিত মুখোপাধ্যায়)— চিরকাল মানুষ এক জন ব্যক্তিত্বকেই অনুসরণ করেছেন। এক জন পরিচালককেও সেই লক্ষ্যে এগোতে হয়”।

তবে শুধু কাজ করে গেলে তো হবে না। কাজ করে নিজেকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। সংবাদ মাধ্যমের পক্ষে প্রশ্ন করা হয়, “কতটা এগোতে পারলেন বলে মনে হচ্ছে?” উত্তরে অনির্বাণ বলেন, “আসলে এখানে আগে মানুষকে বিচার করা হয়, তার পর তাঁর ছবি। দর্শক যখন জানলেন অনির্বাণ ভট্টাচার্যের ছবি, তখন অনির্বাণের সঙ্গে জড়িত যাবতীয় চিন্তাভাবনাও সেই ছবির সঙ্গে জুড়ে গেল। এই বিষয়টায় আমার একটু আপত্তি রয়েছে। উল্টোটা হলে আমি বেশি খুশি হতাম”।

Back to top button