বাংলা সিরিয়াল

বাঘের সাথে লড়াই করার গল্প ঘিরে তাচ্ছিল্য সোশ্যাল মিডিয়ায়, এবার মুখ খুললো Zee বাংলা

সোশ্যাল মিডিয়ায় বেশ কিছুদিন ধরে একটি ভিডিও ঘোরাফেরা করছে, যা নিয়ে ইতিমধ্যেই হাসির রোল উঠেছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। ভিডিওটি দিদি নাম্বার ওয়ান এর একটি প্রমো ভিডিও, যে ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে সুন্দরবনের এক বাসিন্দা তার স্বামীর বাঘের মুখ থেকে প্রাণ নিয়ে ফিরে আসার গল্প করছেন।

এ প্রমো ভিডিও সামনে আসতেই এক পেজ থেকে মিম বানানো হয়েছে, অনেকেরই দাবি জিবাংলা নিজেদের টিআরপি রেটিং বাড়ানোর জন্য এই সমস্ত কান্ড করছে। যেই পেজ থেকে মিম ভিডিও বানিয়ে সোশ্যাল মিডিয়া আপলোড করা হয়েছে সেই পেজে এখন হাজার হাজার শেয়ার এবং হাসির রোল উঠেছে ভিডিওটি ঘিরে।

সুন্দরবনের বাসিন্দারা সকলেই কুমির, বাঘ এবং অন্যান্য হিংস্র জীবজন্তুদের সঙ্গে লড়াই করে নিজেদের জীবিকা নির্বাহ করেন। নিজেদের প্রাণ হাতে নিয়ে পেটের দায়ে রোজগারের পথে বেরিয়ে পড়ে। ইতিমধ্যে আমরা এরকম বহু ঘটনা শুনেছি যারা বাঘের মুখে পড়ে নিজেদের প্রাণ হারিয়েছেন, আবার অনেকে প্রাণ হাতে নিয়ে বেরিয়ে আসলেও তাদের দেহের কোন অংশ বাদ পড়েছে বা অনেকেই পঙ্গু হয়ে গিয়েছেন সারা জীবনের জন্য।

সেরকমই এক পরিবার এসেছিল জি বাংলা দিদি নাম্বার ওয়ান এর মঞ্চে। অংশগ্রহণকারী মহিলার নাম জ্যোৎস্না শী। কিছু বছর আগেই জ্যোৎস্না দেবীর জামাইকে বাঘ টেনে নিয়ে গিয়েছিল তারপর থেকে জ্যোৎস্না দেবীর মেয়ে এবং নাতনি তাদের সঙ্গেই থাকেন। অভাবের সংসার, দিন আনে দিন খায় তারা, পেটের দায়ে রোজগারের জন্য গিয়েছিল জঙ্গলে, আর তখনই বাঘের মুখোমুখি হতে হয় তাকে।

স্বামী প্রাণে বেঁচে গেলেও তার বা হাত চিরতরে অকেজো হয়ে গিয়েছে বলে জানান তিনি। হাত অল্পবিস্তর নাড়ানোর ক্ষমতা নেই তার, এমনকি জামার হাতা তেও হাত ঢুকিয়ে পড়তে পারেন না। এবারে সেই নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে নেটিজেনদের মনে, ভিডিওতে দেখা যাচ্ছিল তার জামার হাতার হাত নেই তবে তার জামার নিচের দিকে হাতের কিছুটা অংশ দেখা যাচ্ছিল সেই নিয়ে ট্রোল করতে শুরু করে সোশ্যাল মিডিয়ায় লোকজনেরা। পুরো বিষয়টি না জেনেই হাজার হাজার মানুষ এই ভিডিওটি শেয়ার করতে থাকেন। অসহায় গরীব এই পরিবারকে নিয়ে তাচ্ছিল্যের বন্যা বইয়ে দেওয়া হয় সোশ্যাল মিডিয়ায়।

আর এরপরই জি বাংলার অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ থেকে সেই পর্বের পুরো ভিডিওটি আপলোড করা হয়। যেখানে দেখা যাচ্ছে নিজেদের দুঃখের কষ্টের কথা রচনা ব্যানার্জীর সামনে তুলে ধরেছেন ওই মহিলা, তিনি জানিয়েছেন জামাই মারা যাওয়ার পর থেকে তাদের সংসারে মেয়ে এবং নাতনি এসে থাকছে। অভাবের সংসারে অনটন তো রয়েইছে তার উপরে তার স্বামীর এত বড় বিপদ ঘটে যাওয়ায় ঘটেছে আরও বড় বিপত্তি। ফলে সমস্ত দায়-দায়িত্ব সংসারের রোজগার থেকে শুরু করে সমস্ত কিছু দায়িত্ব এসে পরে জ্যোৎস্না দেবীর কাঁধে। জ্যোৎস্না দেবী মেয়ে চায় আবার পড়াশোনা করতে, এদিকে নাতনি ছোট সামনে তার পুরো জীবন পড়ে রয়েছে, আর অন্যদিকে স্বামীর এই অবস্থা। একেবারে সব কিছু নিয়েই নাজেহাল জ্যোৎস্না দেবী। মৃত্যু ছাড়া আর কোন গতি নেই বলে জানান তিনি।

জ্যোৎস্না দেবীর এই লড়াইকে কুর্নিশ জানিয়েছেন রচনা ব্যানার্জি। তিনি জানান জীবনটাই লড়াই, এতদিন লড়াই করে এসেছেন তিনি, সামনে আরো লড়াই করতে হবে, এই লড়াইয়ে জি বাংলা এবং দিদি নাম্বার ওয়ান এর সব সময় তার পাশে থাকবে।

Back to top button