শিক্ষক নিয়োগে বড়োসরো ধাক্কা খেল রাজ্য, বাতিল করা হল উচ্চ প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগ

প্রায় ৭বছর ধরে আটকে রয়েছে উচ্চ প্রাইমারীতে শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়া৷ ২০১৫সালের ১৬ই অগাস্ট রাজ্যব্যাপী টেট পরীক্ষা হয়েছিল শিক্ষক নিয়োগের জন্য৷ প্রায় দীর্ঘদিন ধরে চাকরীর আশায় বসে থাকা লক্ষ লক্ষ ছেলেমেয়ে পরীক্ষা দিয়েছিল৷ লাইন দিয়ে ফর্ম তোলা থেকে শুরু করে পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়ে পরীক্ষা দেওয়া ! শেষমেষ হয়েছিল টেট৷ টেট পরীক্ষার মেধাতালিকা প্রকাশিত হলে দেখা যায় যে, সেখানে রয়েছে একাধিক গণ্ডগোল এবং অনিয়ম৷

এই অভিযোগে মামলা দায়ের অবধি হয়৷ তাই আদালত থেকে তৎক্ষণাৎ নিয়োগ প্রক্রিয়া বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং জারি করা হয় স্থগিতাদেশ৷ দীর্ঘ শুনানির পর অবশেষে রায় দিল কলকাতা হাইকোর্ট৷ ২০১১ সাল এবং ২০১৫সালের উচ্চ প্রাথমিকে সমস্ত নিয়োগ প্রক্রিয়া বাতিলের নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি মৌসুমী ভট্টাচার্য্যের সিঙ্গেল বেঞ্চ৷ মৌসুমী ভট্টাচার্য্য জানান যে উচ্চ প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগ গুরুত্বপূর্ণ৷ এতদিন ধরে যেভাবে নিয়োগ চলছিল,সেই পদ্ধতি ভুল, এটা চলতে পারে না৷ তাই পুরোনো সব নিয়োগ বাতিল করে নতুন করে শিক্ষক নিয়োগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে৷

শিক্ষক নিয়োগে এবার বড়ো ধাক্কা খেল রাজ্য সরকার৷ এখনও পর্যন্ত উচ্চ প্রাথমিকে নিয়োগের যে মেরিট লিস্ট ,প্যানেল স্কুল সার্ভিস কমিশনের তরফে প্রকাশিত হয়েছে সেই সমস্তকিছুই খারিজ করা হয়েছে৷ সবটাই নতুন করে করতে হবে বলে জানিয়েছে আদালত৷অর্থাৎ ২০১৬সালের সেপ্টেম্বর মাসে একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়েছিল নিয়োগের ক্ষেত্রে৷ তাও বাতিল করা হল৷

২০১৫—তে রাজ্যজুড়ে টেট পরীক্ষা হয়েছিল পঞ্চম থেকে অষ্টম শ্রেণিতে শিক্ষক নিয়োগের জন্য৷ প্রশিক্ষিত চাকরী প্রার্থী হিসেবে ১লক্ষ২০হাজার এবং অপ্রশিক্ষিত চাকরী প্রার্থী হিসেবে ২লক্ষ২৮হাজার প্রার্থী উত্তীর্ণ হন পরীক্ষায়৷ কিন্তু বছর পর পর চলে গেলেও শিক্ষক নিয়োগ হচ্ছিল না,কোনো বিজ্ঞপ্তিও জারি হয়নি৷ ফলে চাকরীপ্রার্থীরা রাস্তায় নামেন,প্রতিবাদ বিক্ষোভ জানান,অনশনও করেন৷ কিন্তু উল্টে মেলে পুলিশের লাঠিচার্জ৷ তবে এতকিছুর পর বাধ্য হয়েই স্কুল সার্ভিস কমিশন ২০১৮সালে চাকরীপ্রার্থীদের নথি যাচাইয়ের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে৷ হঠাৎই দেখা যায় প্রশিক্ষিতদের ছেড়ে অপ্রশিক্ষিতদের ডাকা হয় ইন্টারভিউতে৷

তারপরই ২০১৯সালে মামলা দায়ের হয়৷ অভিযোগ সফল পরীক্ষার্থীদের ভেরিফিকেশনে ডাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েও ডাকা হয়নি৷ দুর্নীতি ও স্বজনপোষণের অভিযোগ ওঠে স্কুল সার্ভিস কমিশনের দিকে৷এই ঘটনার পর স্থগিততাদেশ দেওয়া নিয়োগে৷  এদার শেষমেষ শুনানি শোনাল কলকাতা হাইকোর্ট৷ সমস্ত নিয়োগ বাতিল করে সকলের কথি মাথায় নতুনভাবে সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া করার নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট৷