Story

একবার দু’বার নয় ১০০৯ বার ব্যর্থ! ৬৫ বছর বয়সে শুরু করেন ব্যবসা ,আজ ১৫০ টি দেশে রয়েছে হাজার হাজার দোকান, আজ সারাবিশ্বে তাদের হাজারো আউটলেট

কেএফসি নামটা আমাদের সকলের কাছেই ভীষণভাবে পরিচিত। বিশেষ করে বর্তমানে তরুণ প্রজন্মের কাছে এই নামটা খুব কাছের। কেএফসির চিকেন একবার হলেও খাননি এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া বেশ কঠিন। সেই কেএফসির সফলদের কথা জানব। কেএফসির পুরো কথা হল কেনটাকি ফ্রাইড চিকেন। আর এই কেএফসির প্রতিষ্ঠাতা হলেন, কর্নেল স্যান্ডার্স। বহুবার ব্যর্থতার পর ৬৫ বছর বয়সে সফলতা পেয়েছিলেন তিনি।

যে বয়সে মানুষ কাজ থেকে অবসর নেয় সেই বয়সেই তিনি নিজের কর্মজীবন শুরু করেছিলেন। তিনি ৬ বছর বয়সে তার বাবাকে হারান। এর পরে তাদের পরিবারের অবস্থা খারাপ হতে থাকে। তিনি বাড়িতে থেকে ভাই-বোনদের দেখাশুনা করতেন আর তার মা একটি কারখানায় কাজ করতেন। ৭ বছর বয়স থেকেই তিনি রান্নাবান্নায় পারদর্শী হয়ে উঠেছিলেন। তার বয়স যখন ১২ তার মা দ্বিতীয়বার বিয়ে করেন, যেটা তার একেবারেই পছন্দ হয়নি। সৎ বাবাকে অপছন্দ হওয়ার কারণে তিনি তার কাকিমার কাছে থাকতেন। পড়াশোনার পাশাপাশি খামারে কাজও করতেন তিনি।

তবে পরবর্তীকালে সপ্তম শ্রেণীতে পড়াকালীন তিনি পড়াশোনা ছেড়ে দেন। এরপর থেকে তিনি সবরকমের কাজ করতে থাকেন। একটা সময়ে তিনি সেনাবাহিনীতে যোগদান করেছিলেন। তবে পরে সেনাবাহিনী থেকে তাকে বহিষ্কার করে দেওয়া হয়। এরপরে তিনি রেলেও বেশ কিছুদিন চাকরি করেছিলেন। কিন্তু সেখানেও বিবাদের কারণে তিনি চাকরি ছেড়ে দেন। এরপরেই তার স্ত্রী সন্তানসহ তাকে ছেড়ে চলে যান।

১৯৩০’এ কেনটাকির কর্বিনে একটি গ্যাস স্টেশন কিনেছিলেন তিনি। সেইসময় অনেক যাত্রী তাকে রেস্তোরাঁ খোলার পরামর্শ দিয়েছিলেন। এরপর থেকে তিনি বিভিন্ন ধরনের রেসিপি দিয়ে মুরগির মাংস বিক্রি করতে থাকেন। যার থেকে তিনি মোটা টাকা আয়ও করতে থাকেন সেইসময়ে। ১৯৫০ সালে কেনটাকির গভর্নর এসে স্যান্ডার্সের মুরগির মাংস খেয়েছিলেন এবং সেটা তার ভালো লেগেছিল। এরপর তিনি হারল্যান্ড স্যান্ডার্সকে কর্নেল উপাধি দেন। তখন থেকেই তিনি কর্নেল স্যান্ডার্স নামে পরিচিত হতে থাকেন।

স্যান্ডার্সের রেস্তুরাঁ যেখানে ছিল সেখানে হাইওয়ে তৈরি হওয়ার ভেঙে দিতে হয় তার রেস্তোরাঁ। এরপরে তিনি তার রেসিপি নিয়ে বিভিন্ন রেস্তোরাঁয় গিয়ে সেটি বিক্রি করার চুক্তি করার কথা ভাবতে থাকেন এবং কথা বলেন, তবে সব জায়গাতেই তিনি ব্যর্থ হন।

তবে পরবর্তীকালে কেএফসির সাফল্য পেতে শুরু করে। ১৯৬৩ সালে এক আইনজীবী, জন ওয়াই ব্রাউন জুনিয়র এবং ব্যবসায়ী জ্যাক সি ম্যাসি স্যান্ডার্সের সাথে দেখা করে কেএফসির ফ্র্যাঞ্চাইজি কেনার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। প্রথমে তিনি এই বিষয়ে রাজি না থাকলেও পরবর্তীকালে তিনি ২ মিলিয়ন ডলারে বিক্রি করে দেন। চুক্তিতে নিশ্চিত করা ছিল যে কেএফসি সারাবিশ্বে তাদের নিজস্ব রেস্তোরাঁ তৈরি করবে এবং তাকে বাকি জীবনের জন্য একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ বেতন দেওয়ার চুক্তিও হয়েছিল। পরবর্তীকালে তার বেতন বেড়ে ৭৫ হাজার ডলার হয়ে যায়। ৯০ বছর বয়সে তিনি মারা যান। বর্তমানে সারা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কেএফসির নিজস্ব রেস্তোরাঁ রয়েছে। মালিকানা পরিবর্তন হলেও চুক্তির হিসাব একেবারে ঠিকঠাক রয়েছে, তা বলাই বাহুল্য।

Back to top button