বিস্কুট কারখানায় কাজ করে আজ সেনা অফিসার, দারিদ্র্য আর প্রতিকূলতা পেরিয়ে স্বপ্ন ছুঁলেন বিহারের যুবক

দারিদ্রের সাথে লড়াই করে আজ সেনা অফিসার৷ মানুষ ইচ্ছে করলে আসলে সব করতে পারে —এই প্রবাদবাক্যই আরও একবার প্রমাণ করলেন ভোজপুরের বালবাঁকা তিওয়ারি৷ প্রতিদিনের সামান্য রোজগার থেকে জমিয়ে জমিয়ে একসময়ে সাহায্য করেছেন পরিবারকেও৷

বালবাঁকা তিওয়ারি বিহারের ভোজপুর জেলার আরা টাউনের বাসিন্দা৷ এখানেই ইন্ডিয়ান মিলিটারি আকাডেমি থেকে স্নাতক হলেন৷ প্রচুর প্রতিকূলতাকে সাথী করে চলতে হয়েছে জীবনে,কোনো সাহায্য পাননি৷ নিজেই এদিন জানান যে বালবাঁকার বাবা ছিলেন পেশায় কৃষক৷ পরিবার ছিল যৌথ,তিন সন্তানের মধ্যে একমাত্র ছেলে বলতে ছিলেন বালবাঁকাই৷ তার কথায়,”ফলে মাধ্যমিকের পর কাজ করা ছাড়া আর কোনো উপায় ছিল না”৷ সাফল্যের পথ একেবারেই সহজ ছিল না৷ হাড়ভাঙা পরিশ্রমের পর আজ স্বপ্নপূরণ হয়েছে তার৷

২০০৮সালে কাজ করতে চলে যেতে হয়েছিল ওড়িষার রাউরকেল্লায়৷ সেখানে প্রথমে লোহার কারখানায় কিছুদিন কাজ করার পর কাজ নেন বিস্কুট কারখানায়৷ বাড়ি থেকে অনেকটা দূরে রোজ কাজ করতে যেতে হত এবং প্রতিদিন পেতেন ৫০টাকা বেতন৷ এরমধ্যেই হাল ছাড়েননি,ওড়িশাতেই পাশ করেন উচ্চমাধ্যমিক৷ তারপরই টিউশন পড়াতে শুরু করেন এবং সাথে পরিবারকেও টাকা পাঠাতেন৷ সেখানেই স্থানীয় কলেজ থেকে স্নাতক হন ৷

তার এক কাকা সেনায় কাজ করতেন এবং উনিও চাইতেন ভাইপোও যাতে সেনাতেই যোগ দেয়৷ বিহারের দানাপুরে সেনাবাহিনীর নিয়োগের খবর পান বালবাঁকা৷ পরীক্ষা দেন এবং দ্বিতীয়বারে উত্তীর্ণ হয়ে জওয়ান হিসেবে সেনায় যোগদান করেন৷ ২০১২সালে ভোপালে মোতায়েন করা হয় তাকে৷ কাকার কথামতোই দেশসেবায় ব্রতী হন এই পরিশ্রমী ছেলে৷ তারপর ২০১৭সালে ইন্ডিয়ান মিলিটারি আকাডেমিতে সুযোগ পান পড়ার এবং জওয়ান থেকে এদিন হয়ে গেলেন সেনা অফিসার৷

তবে তার তিনমাসের কন্যাসন্তান এদিনের আনন্দ আরও বাড়িয়ে দিল৷ সাথে ছিলেন স্ত্রীও৷ বিহার থেকে এসেছিলেন বালবাঁকার মাও৷ ছেলের জন্য এক বুক গর্ব নিয়ে বললেন,”জীবনে অনেক কষ্ট করেছে৷ আজ ওর স্বপ্ন পূরণ হল৷আমি খুব খুশি৷বিশ্বাস করি,আমার ছেলে দেশকে গর্বিত করবে৷”

বিহারের জেলা থেকে বিস্কুট কারাখানায় কাজ করে বালবাঁকা তিওয়ারি আজ সেনা অফিসার৷ দৃষ্টান্ত হয়ে রইলেন গোটা দেশের কাছে৷