“মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কংগ্রেস ছেড়ে নিজের দল প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, সেটাকে দলবদল বলে না৷”, দাবী সুব্রত-র

একেরপর এক সামনের সারির নেতারা দল ছেড়ে দিয়ে বিজেপিতে যোগ দিলেও নিজের জায়গায় অনড় এখনও সুব্রত মুখোপাধ্যায়৷ প্রতিনিয়ত তৃণমূল নেতাদের মুখে দল সম্পর্কে বিরূপ মন্তব্য শোনা গেলেও মমতার ব্যানার্জীর পাশে থেকেছেন পঞ্চায়েতমন্ত্রী সুব্রত মুখোপাধ্যায়৷ দিন কয়েক আগেই তার একটি মন্তব্যে তোলপাড় হয়েছিল রাজ্য—রাজনীতি৷ তিনি দাবী করেছিলেন,বিজেপি গণতান্ত্রিকভাবে বাংলা দখল করতে না পারলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে খুন করে দখল নেবে৷

এহেন মন্তব্যের পর ফের আজ সুব্রতবাবু পাশে দাঁড়ালেন মমতার৷ গতকাল অমিত শাহ মেদিনীপুরের সভা থেকে তৃণমূলকে সরাসরি নিশানা করেন৷ বক্তৃতা রাখতে গিয়ে বলেন,মমতা ব্যানার্জী দলবদল করেছিলেন৷ অমিত শাহ—এর এই মন্তব্যের পাল্টা দিলেন এবার সুব্রত মুখোপাধ্যায়৷ তিনি বলেন,”মমতা ব্যানার্জী ১৯৯৮সালে কংগ্রেস ছেড়োনিজের দল তৈরী করেছিলেন,এটাকে দলবদল বলে না৷ অমিত শাহের মতো কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর সেটা জানা উচিৎ ছিল৷” পাশাপাশি তিনি কেন্দ্রকে কটাক্ষ করে বলেন বারবার বাংলায় এসে তৃণমূলকে অপমান করবে তা তারা মেনে নেবেন না৷ প্রতিবাদ জানাবেন৷ এমনকি এও বলেন,”রাজ্য সরকারের নামে একেরপর এক মিথ্যা কথা বললে আমরা চুপ করংরে বসে থাকবো না৷বাংলার মানুষ এই বঞ্চনার জবাব বিজেপিকে দেবে৷”

অমিত শাহের বোলপুর যাওয়ার দিন পঞ্চায়েতমন্ত্রী তৃণমূল সুপ্রিমোর পক্ষেই কথা বললেন৷ সুব্রতবাবু বলেন কেন্দ্র সরকার দাবী করছে যে আয়ুষ্মাণ ভারত প্রকল্প বাংলায় শুরু করতে দেয়নি রাজ্য সরকার,কিন্তু বাংলার মানুষের জন্য স্বাস্থ্যসাথী কার্ড করিয়েছে রাজ্য সরকার৷ পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত চিকিৎসার সুবিধা পাবেন বাংলার মানুষ৷ এমনকি করোনার সময়ে,লকডাউনে আপামর বাংলার মানুষকে বিনামূল্যে রেশন দেওয়ার ব্যবস্থা করেছিল বাংলার সরকার,মমতা ব্যানার্জীর সরকার!

সুব্রতবাবুর দাবী,আর কোনো রাজ্য তা করতে পারেনি৷ এছাড়াও এদিন তিনি প্রধানমন্ত্রীকে কটাক্ষ করতেও ছাড়েননি৷ তিনি আক্রমণাত্মক ভঙ্গীতে বলেন,”দেশের প্রধানমন্ত্রী বারবার দাবী করেছেন যে তার সরকার নাকি বাংলাকে ধান,শস্য দিয়েছে৷কিন্তু তৃণমূল সেই ধান বা শস্য বাংলার মানুষকে দেয়নি,নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নিয়েছে৷কিন্তু আসল সত্যিটা হল মমতার সরকার দশ কোটি মানুষের বিনামূল্যে রেশনের ব্যবস্থা করেছিল৷”

এদিন বিজেপিকে সরাসরি নিশানা করে সুব্রত মুখোপাধ্যায় বলেন,”তৃণমূল সরকার কেন্দ্রের ওপর নির্ভর করে ছিল না৷ শুভেন্দু চলে গেছে,এখন আমি চলে গেলেও এতো বড়ো দলের কিছু এসে যাবে না,বাংলার মানুষর মমতা ব্যানার্জীর পালে দাঁড়াবে! কিন্তু অমিত শাহ এতো বড়ো পদে থেকে একের পর এক ভুল তথ্য দিলে আমরা চুপ করে থাকবো না,বাংলার মানুষ প্রতিবাদ করবে৷”