বাংলা সিরিয়াল

অভিনেত্রী ঐন্দ্রিলা শর্মার চিকিৎসা করাচ্ছেন মিঠুন-মমতা! মিথ্যা রটনায় বেজায় চটেছেন অভিনেত্রীর প্রেমিক সব্যসাচী

ক্যান্সারের মত মরণব্যাধি সাথে লড়াই করছেন অভিনেত্রী ঐন্দ্রিলা শর্মা। তবুও তাকে বারংবার সোশ্যাল মিডিয়া কটূক্তির শিকার হতে হচ্ছে, এজন্য বেজায় ক্ষুব্ধ মহাপীঠ তারাপীঠ ধারাবাহিকের বামাক্ষ্যাপা। বামাক্ষ্যাপা অর্থাৎ সব্যসাচী চৌধুরীর প্রেমিকা ঐন্দ্রিলা শর্মা।

কালার্স বাংলার ঝুমুর ধারাবাহিকের মাধ্যমে ঐন্দ্রিলা শর্মা পথচলার শুরু করেছিলেন। তবে ২০১৫ সালে একবার বাসা বেঁধেছিল মারণ রোগ ক্যান্সার। দেড় বছরে মোট ৩৩ টি ক্যামেরা ডিসিশন নিয়ে সুস্থ হয়ে উঠেছিলেন অভিনেত্রী।

সুস্থ হয়ে উঠলেও দ্বিতীয়বার আবার বাসা বেধেছে সেই মারণ রোগ। তার জন্যই গত বছর থেকেই আবার চিকিৎসাধীন অভিনেত্রী ঐন্দ্রিলা শর্মা। তবে এর মধ্যেই লেগে রয়েছে লাগাতার কটুক্তি। এই কটূক্তির কথা নিজেই পোস্ট করেন অভিনেতা। অভিনেতা নিজের পোস্টে লেখেন,” প্রতিদিনই অনেকে আমায় ঐন্দ্রিলার স্বাস্থ্যের কথা জিজ্ঞাসা করে থাকেন, তাই মাঝেমধ্যে আমি ওর বিষয়ে লিখি।

জুলাই মাসটা খুবই সংকটপূর্ণ ছিল। ২৫ টা রেডিয়েশন এই মাসেই দেওয়া হয়েছে, এবং আজ ছিল রেডিয়েশনের শেষ দিন। একই সাথে চলেছে কেমোথেরাপি। যেহেতু সমানতালে দুটি চলছিল, বেশ কিছু ওষুধপত্রের অদলবদল ঘটে।” অভিনেত্রীর শরীরে হোয়াইট ব্লাড সেল কম থাকার ফলে শরীর দুর্বল হয়ে পড়েছিল।

একসময় বিছানা থেকে নেমে বাথরুম যাওয়ার মত ক্ষমতাও ছিল না তাঁর। সবকিছুর জন্যই অভিনেত্রী নির্ভরশীল হয়েছিলেন মায়ের ওপরেই। তবে সব দুর্বলতা কাটিয়ে অভিনেত্রী আপাতত সুস্থ আছেন। রেডিয়েশন শেষ হলেও কেমোথেরাপি চলবে নভেম্বর পর্যন্ত।

অভিনেতা বলেন ব্যাঙের ছাতার মত গজিয়ে ওঠা কিছু ইউটিউব চ্যানেলে বেশ কিছুদিন ধরেই মিথ্যা রটনা রটানো হচ্ছে। “সারাদিন ঐন্দ্রিলা শুয়ে শুয়ে ফোন ঘাঁটা ছাড়া আর কিছুই করতে পারেনা, তাই ওর সমস্ত তাই চোখে পড়ে।” সেই ইউটিউব চ্যানেলের প্রকাশিত সব ভিডিও এই চোখে পড়ে অভিনেত্রীর, সেগুলো দেখান অভিনেতাকেও, কখনো,“এই দেখো মিঠুন চক্রবর্তী নাকি আমার ট্রিটমেন্ট করাচ্ছে”।

আবার কখনো “ যাহ, আজকে মিঠুনদা নয়, মমতা ব্যানার্জী আমার ট্রিটমেন্টের পয়সা দিচ্ছে”। এছাড়াও রয়েছে,“যাক আর কোনো চিন্তা নেই, আমি নাকি সিনেমার শুটিং শুরু করে দিয়েছি”। তবে এখানেই শেষ না, সেই ব্যাঙের ছাতার মত গজিয়ে ওঠা ইউটিউব সাংবাদিকগুলো প্রকাশ্যে আনে অভিনেত্রী মারা যাওয়ার মতো খবর ও।

এ প্রসঙ্গে আলোচনা করতে গিয়ে অভিনেতা বলেন, “কয়েকদিন আগের কথা, বাইরে পড়ন্ত বিকেলে অঝোরে বৃষ্টি পড়ছে, প্রচন্ড দুর্বল শরীর নিয়ে শুয়ে আছে জানলার ধারে, ওঠার ক্ষমতা নেই, শরীর অবশ। হঠাৎ ফোনটা আমায় দেখিয়ে হাসিমুখে বললো, “ এই দেখো, তিন মাস আগে, আমি সবাইকে কাঁদিয়ে চলে গেছি”।”

তবে এসব কিছু দেখে রীতিমত রেগে যান অভিনেতা। অভিনেতার রাগ কমানোর জন্য অভিনেতা কে শান্ত করেন অভিনেত্রী। প্রেমিকার মারা যাওয়ার এরূপ খবরে স্বাভাবিকভাবেই অভিনেতার প্রেমিক মন ভেঙে পড়ে। এ প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে অভিনেতা বলেন,”বুকটা কেমন জানি মোচড় দিয়ে উঠলো আমার। মানুষ এতটা নিচ, এতটা বর্বর!” তবে অভিনেত্রী এ প্রসঙ্গে অভিনেতাকে বলেন,”আহা, রাগ করছ কেন? এসব ভিডিও না বানালে লোকে দেখবে নাতো। ওদেরও তো খেতে পড়তে হবে।”

Back to top button