“প্রতিবাদ করলেই আপনি দেশদ্রোহী”, কৃষক আন্দোলোন নিয়ে কেন্দ্রকে বিঁধলেন অপর্ণা সেন

কেন্দ্রে নয়া কৃষি আইন প্রত্যাহারে দাবীতে প্রতিবাদ বিক্ষোভ দেখাচ্ছে কৃষকরা এই মুহুর্তে৷ প্রায় ১৭দিন পার হয়ে গেলেও কোনো সমাধানসূত্র খুঁজে পাওয়া যায়নি৷ বারংবার কৃষক—সরকার বৈঠক করেও ফল হয়নি কিছুই৷ কৃষকরা তাদের আন্দোলোনে অব্যাহত৷ তবে এবার এই আন্দোলোনকেই “টুকরে টুকরে গ্যাং” বলে অভিহিত করলেন কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রী রবিশংকর প্রসাদ৷ তার মতে,দেশদ্রোহিরা দখল নিয়ে নিয়েছে এই আন্দোলোনের,পাশাপাশি হস্তক্ষেপ করছে বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠনগুলিও৷ তাই সরকারের সাথে কৃষকদের বৈঠক কোনোভাবেই ফলপ্রসূ হচ্ছে না বলে দাবী রবিশংকর সহ আরও অনেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের৷

তবে সরকারি সূত্রে জানা গেছে যে ইতিমধ্যেই কৃষক আন্দোলোনে দেখা গেছে নকলাশদেল৷ কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের তরফে দাবী করা হয়েছিল যে এই মুহুর্তে কৃষক আন্দোলোন থেকে তাদের দাবীদাওয়ার পাশাপাশি দেশদ্রোহিতার অপরাধে বন্দীদের মুক্তির দাবী উঠছে৷ এই দিকটিকে উল্লেখ করেই বিজেপির তরফে বলা হচ্ছে যে কৃষকদের আন্দোলোনে ঢুকে পড়েছে নকশাল আর খলিস্তানিরা৷ এ নিয়েই এবার কড়া নিন্দায় সরব হলেন পরিচালক অপর্ণা সেন৷ তিনি টুইট করে লেখেন,”এখানে কোনোকিছু নিয়ে দয়া করে প্রতিবাদ করবেন না! আপনি করলেই দেশদ্রোহী,আরবান নকশাল,পাকিস্তানপন্থী অথবা টুকরে টুকরে গ্যাং ,সন্ত্রাসবাদী বা খলিস্তানি দাগিয়ে দেওয়া হবে৷জেলেও পোরা হতে পারে৷সাবধান!”

নকশাল আর খলিস্তানিরা আন্দোলোনের অনেকাংশ দখল করে নিয়েছে বলে দাবী গেরুয়াশিবিরের৷ “টুকরে টুকরে গ্যাং” বলেও দেগে দেওয়া হয়েছে কৃষক বিক্ষোভকে৷ কেন্দ্রীয়মন্ত্রী প্রকাশ জাভেড়কর সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে “কৃষকদের ঢাল করে হিংসা ছড়াতে পারে নকশালবাদীরা৷”

এমনকি তার মতে সরকারি সম্পত্তিও ধ্বংস করতে পারে নকশালরা৷ তবে সরকারি সূত্রে জানা গেছে যে এরমধ্যেই দিল্লি—জয়পুর হাইওয়ে দখল করতে কৃষকদের মদত দিচ্ছে নকশালদের,তাদের দেখা গেছে সেখানে৷ খলিস্তানিরাও এর সাথে হাত মিলিয়েছে বলে দাবী বিজেপির৷ বৃহস্পতিবার দিল্লির সীমানা সংলগ্ন এলাকায় কৃষকদের সভায় এক বিতর্কিত পোস্টার দেখা গেছে,দেশদ্রোহী অভিযোগে অভিযুক্ত বন্দীদের মুক্তির দাবী জানানো হয়েছে সেখানে৷ তবে কিষাণ সংগঠনের সভাপতি রাম সিং পাটিয়ালের মতে, সরকারের দাবী ভিত্তিহীন,কেউ উস্কানি দিচ্ছে না৷সমস্ত সিদ্ধান্তই সংযুক্ত কিষাণ ইউনিয়ন নিচ্ছে জানান রাম সিং পাটিয়াল৷ তবে গেরুয়াশিবিরের তরফে প্রশ্ন উঠছে যে কারা উস্কানি দিচ্ছে,আন্দোলোনের এত টাকা কীভাবে আসছে?