ত্রাণ পৌঁছতে গিয়ে মৃত্যু হল বিধাননগরের বাসিন্দা ২ মেয়ের বাবা লোকনাথ দাস এর! পরিবারের নেমে এল শোকের ছায়া

অসহায় মানুষদের হাতে ত্রাণ পৌঁছে দিতে গিয়েই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় মৃত্যু হল বিধাননগরের বাসিন্দা ৩২ বছরের লোকনাথ দাসের। উল্টো ডাঙার দুটি ক্লাবের পক্ষ থেকে ইয়াসে বিধ্বস্ত হয়ে যাওয়া জায়গাগুলোতে ত্রাণ নিয়ে যাওয়ার সময়ই গাড়ি উল্টে গিয়েই এই দুর্ঘটনা ঘটে। এই দুর্ঘটনার পর দাস পরিবারের নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

খবর সূত্রে জন্য যায় দুটি ক্লাবের পক্ষ থেকে অসহায় মানুষদের সাহায্যের জন্য শুক্রবারই ত্রাণ সামগ্রী নিয়ে বেরোনোর কথা ছিল কিন্তু কিছু কারণবশত শুক্রবারের যাওয়া বাতিল হয় ও ঠিক হয় রবিবার ভোরের দিকেই রয়না দেওয়া হবে।

তবে ঘটক পুরের কাছে ঘটে যায় দুর্ঘটনা। রাস্তার গর্তে গাড়ির চাকা পড়ে গিয়ে গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যায়। গাড়ির মধ্যে থাকা লোকেদের মধ্যেই চাপা পরে যায় লোকনাথ।

দুর্ঘটনায় আহত হয়েছে বহু যাত্রী। পিছনের গাড়িতে থাকা লোকজন আহত যাত্রীদের উদ্ধার করে কাছে বাঙ্গুর হাসপাতালে নিয়ে যান কিন্তু বেড খালি না থাকার কারণে তাদেরকে আর জি কর ও রুবি হসপিটালে নিয়ে যাওয়া হয়। নিয়ে যাওয়ার পথেই মৃত্যু ঘটে লোকনাথ দাসের।

দুর্ঘটনায় রাজিব দাস নামেও একজন গুরুতর আহত হয়েছে। দুঘটনায় তার মুখ ভেঙে যাওয়ায় প্রচুর রক্তপাত হয়েছে এখন তার অবস্থা কিছুটা হলেও স্থিতিশীল। দূর্ঘটনার কবলে পড়া প্রত্যেকেই বিধানগরের মুচি পাড়ার বাসিন্দা।

লোকনাথও তাদের মধ্যে একজন, ৪ বছর আগে বিয়ে করে দুই সন্তানের পিতা ছিলেন। একজন ৬ মাস ও আর একজন ৩ বছর দুজনেই অকালে পিতৃহারা হলেন। পোবেশ কিছুদিন আগেই লোকনাথের পিতাও মারা যান। পরিবারে একাই রোজগার করতেন তিনি।

কাপড় কাটিংয়ের কাজ করেই চলত সংসার। আয় কম হলেও দুস্থ মানুষের সেবায় সবসময় এগিয়ে আসতে দেখা যেত লোকনাথকে। লকডাউন হোক কি আমফান সবেতেই ত্রাণের ব্যাবস্থা করতেন ক্লাবের সদস্যরা। লোকনাথের অকাল মৃত্যুতে শুধু পরিবারই নয় প্রতিবেশী থেকে ক্লাবের সদস্যদের মধ্যে শোকের ছায়া দেখা গেছে