আদালতে চার্জশিট দাখিল সিবিআইয়ের, হাথরসে দলিত তরুণীকে গণধর্ষণ ও হত্যা করা হয়েছে

চলতি বছরে করোনা আবহেই গোটা দেশ চকিত হয়েছিল এক ভয়াবহ ধর্ষণের ঘটনায়৷ ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে মেয়েরা যে এখনও কতটা অনিরাপদ তা আরও একবার প্রমাণিত হয়ে গেল উত্তরপ্রদেশে৷ সেখানকার হাথরসের এক দলিত যুবতীকে গণধর্ষণের অভিযোগ ওঠে তথাকথিত উচ্চবর্ণের চারজনের বিরুদ্ধে৷ ঘটনাটি ঘটে ২০শে সেপ্টেম্বর৷ ধর্ষিতাকে দিল্লির এক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানে পরে তার মৃত্যু ঘটে৷ ঘটনাটি ঘিরে উত্তাল হয়ে পড়ে গোটা দেশ৷ অভিযোগের আঙুল ওঠে উত্তরপ্রদেশ পুলিশের দিকে৷ এমনকি ৩০শে সেপ্টেম্বর পরিবারের অনুমতি ছাড়াই বছর কুড়ির ওই তরুণীর মৃতদেহ পুড়িয়ে দেওয়ার মতো বড়োসরো অভিযোগ ওঠে উত্তরপ্রদেশ পুলিশের বিরুদ্ধে৷

পাশাপাশি এও শোনা যায় যে পুলিশ অফিসাররা ধর্ষিতার পরিবারকে ভয় দেখিয়ে রেখেছিল , সব প্রকাশ্যে আসার পরেও সংবাদমাধ্যমকে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি গ্রামে৷ যেতে দেওয়া হয়নি মৃতার পরিবারের কাছে৷ বাধা দেওয়া রাজনৈতিক নেতাদেরও৷ ময়না তদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে বলা হয় যে ধর্ষণ হয়নি৷ গোটা দেশ নিন্দা ছুঁড়ে দিতে থাকে! সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হয় ধর্ষকদের শাস্তির জন্য লড়াই৷ এরপরই গত অক্টোবর মাসে সুপ্রিম কোর্ট সিবিআইকে তদন্তভার দেয়৷

সিবিআইয়ের তদন্ত পর্যবেক্ষণ করার দায়িত্বও দেওয়া হয় এলাহাবাদ হাইকৌর্টকে৷ শুক্রবার এই মামলার চার্জশিট দাখিল করল সিবিআই৷ তারা নিশ্চিতভাবে জানায় যে হাথরসে দলিত তরুণীকে গণধর্ষণ ও হত্যা করা হয়েছিল৷ অভিযুক্ত চারজনের বিরুদ্ধে গণধর্ষণ ও হত্যার পাশাপাশি দলিত নির্যাতন প্রতিরোধ আইনেও মামলা করা হয়েছে৷ ঘটনার তিনমাসের মধ্যেই অভিযোগপত্র জমা দিল সিবিআই৷

যদিও এর আগে ধর্ষণ ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত জেলে বসেই উত্তরপ্রদেশ পুলিশকে চিঠি দিয়েছিল৷ সেখানে দাবী করেছিল যে তাকে এবং বাকি তিন অভিযুক্ত নির্দোষ,তাদের ফাঁসানো হচ্ছে! এছাড়াও তারা দাবী করে যে অত্যাচার আসলে করেছে মৃতা তরুণীর মা এবং ভাই৷ দলিত পরিবারের তরফে এ অভিযোগ অস্বীকার করা হয়৷ সিবিআই তদন্ত শেষ করতে কিছুটা সময় চেয়ে নিয়েছিল ৷ এরপর গত বুধবার এলাহাবাদ হাইকোর্টের লখনউ বেঞ্চ ,এই মামলার শুনানির তারিখ দিয়েছিল ২৭শে জানুয়ারি৷তবে এদিন চার্জশিট দাখিল করল সিবিআই৷