টলিউড

‘স্বরা ভাস্কর নিজের বাড়ির দলিল তাদের হাতে তুলে দেবেন তো?’, স্বরা ভাস্কর কে প্রশ্ন রুদ্রনীল ঘোষ এর

সম্প্রতি আফগানিস্তানের দুর্দিনের কথা কারোরই অজানা নয়। দীর্ঘ লড়াইয়ের পর আফগানিস্থান প্রেসিডেন্ট দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। তালিবানি গোষ্ঠীর নির্মম অত্যাচারের জন্য ইতিমধ্যে শয়ে শয়ে লোক আফগানিস্তান ছাড়তে বাধ্য হচ্ছেন। সম্প্রতি বেশ কয়েকটি ভাইরাল হওয়া ভিডিও থেকে স্পষ্ট যে ইসলামিক কট্টরপন্থী তালেবানদের হাতে তিলে তিলে মারা যাচ্ছে বিমানের চাকা থেকে পড়ে যাওয়া কিংবা বিমান থেকে পড়ে যাওয়ার পর মৃত্যু তার থেকে ভালো। তালিবানি গোষ্ঠীর শাসনের ধীরে ধীরে নারীশক্তি কে চাপা দেয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই তৈরি হয়েছে নতুন নতুন ফতোয়া।

নতুন ফতোয়া অনুযায়ী দেখা গেছে তালিবানরা নারীদের এক কথায় ঘরবন্দি করতে চান। নারীদের প্রাপ্য স্বাধীনতাটাও তারা দিতে চান না। এই বিষয়ে এবার কলম ধরলেন অভিনেতা রুদ্রনীল ঘোষ। এক সংবাদমাধ্যমে কলম ধরে তিনি লিখেছেন,‘‘যে ভাবে বাংলাদেশ চলছে, তাতে মনে হচ্ছে, আরও কড়া হাতে ইসলামকে নিয়ে এগোতে হবে। তালিবানি যোদ্ধারা যেভাবে ক্ষমতা দখল করলেন তাতে বোঝা যাচ্ছে এরা কতখানি মারাত্মক! তারা নিজেরাই বলেছে শরীয়ত আইন চলবে, কোন গণতন্ত্র থাকবে না।”

ভাইরাল হওয়া ভিডিও দেখা যাচ্ছে প্রচুর মানুষ প্রাণ হাতে নিয়ে পালানোর চেষ্টা করছেন। শিশু নারী পুরুষ কেউই বাদ নন এই লিস্ট থেকে। অনেকাংশে দেখা যাচ্ছে নিজেদের প্রাণ বাঁচাতে গিয়ে কোলের শিশুকে তারা ফেলে রেখে যেতে একবারের জন্যেও ভাবছেন না। অন্য এক ভাইরাল হওয়া ভিডিও দেখা গিয়েছিল এক শিশু আফগানিস্তানের এয়ারপোর্টে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। এই প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে অভিনেতার বক্তব্য, “সে দেশের প্রায় ৪ কোটি জনসংখ্যার মধ্যে পলাতক মানুষের সংখ্যা আর কতটুকু? যাঁরা সে দেশে থেকে গিয়েছেন, তাঁরা কি তালিবানের হাতে শরিয়তি আইনের ভয়াবহতা সম্পর্কে অবগত নন?”

১৯৯৬ সাল থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত তালিবানি শাসন এর নমুনা আফগানরা নিজের চোখে দেখেছেন। আফগানিস্তানের মানুষের একান্ত সমর্থন ছাড়া কি এভাবে মাত্র কয়েক মাসের মধ্যে ক্ষমতা দখল করা কি সম্ভব হতো! প্রশ্ন এর উত্তর খুঁজে বার করতে গেলে বেরিয়ে আসবে অনেক কিছু যোগসূত্র। বেশ কিছুদিন আগেই অভিনেত্রী স্বরা ভাস্কর এক টুইট করেন,”টুইটারে তিনি লিখেছেন, ‘আমরা তালিবানি সন্ত্রাস নিয়ে আতঙ্কিত হব, হিন্দুত্ববাদী সন্ত্রাস নিয়ে মাথা ঘামাব না— এই মানসিকতাও যেমন ভুল, তেমনই তালিবানি সন্ত্রাসের কথা শুনে নিশ্চিন্তে বসে থাকব আর কল্পিত হিন্দুত্ববাদী সন্ত্রাস নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করব— এটাও ভুল।”

এই প্রসঙ্গে অভিনেতা রুদ্রনীল ঘোষের বক্তব্য, “আমি জানতে চাই, হিন্দুত্ববাদী সন্ত্রাসটা কী জিনিস? কট্টর হিন্দুত্ববাদী আইন বলেও তো হিন্দু ধর্মে কিছু নেই! হয়তো স্বরা ভাস্কর স্বপ্নে কিছু দেখেছেন। এ ধরনের স্বপ্নই তাঁর মতো মানুষদের মানসিক গঠনের পরিচয়। এ সব বললে, তাঁর বিরুদ্ধে যে জনমত তৈরি হবে, সে তো স্বাভাবিক (টুইটারে ট্রেন্ড চলছে, ‘অ্যারেস্ট স্বরা ভাস্কর’ অর্থাৎ তাঁকে গ্রেফতার করা হোক)। যে সম্প্রদায় শরিয়তি আইন মেনে চলে, তার সঙ্গে সনাতন হিন্দু ধর্মের তুলনা কী ভাবে হতে পারে? তালিবান নিয়ে চিন এবং পাকিস্তান কোন অবস্থান নিল, সেটা স্বরার মতো মানুষেরা ভুলে যাচ্ছেন। তালিবানের হাত ও মন শক্ত করার জন্য যা যা দরকার, এই দু’টি দেশ সেটাই করে যাচ্ছে নেপথ্যে। এ দিকে চিনে মুসলিমদের অবস্থা শোচনীয়। তাদের তালিবানি কায়দায় দমবন্ধ করে রেখে দিয়েছে সেই তথাকথিত ধর্ম নিরপেক্ষ কমিউনিস্ট চিন! স্বরাদেবীরা বা আমাদের রাজ্যের বামপন্থী মানুষরা অবশ্য সযত্নে এড়িয়ে যান এ সব তথ্য। তাই তারা প্রকাশ্যে এক বারও এ কথা বলছেন না যে, আসলে কমিউনিস্ট চিন এবং পাকিস্তান তালিবানের হাত মজবুত করে ভবিষ্যতে ভারতকে বিপদে ফেলতে চায়।”

আফগানিস্তানের মানুষের এরকম করুন অবস্থান দেখে অনেকের মনেই আজকাল প্রশ্ন জেগেছে যে আফগান শরণার্থীরা কি এদেশে জায়গা পাবেন! সেই প্রসঙ্গে অভিনেতা রুদ্রনীল নিজে একটি প্রশ্ন করতে চেয়ে বলেছেন,”নিজের দেশের মানুষের সঙ্গে তার শাসকের সঙ্গে বিবাদ হয়েছে বলে, পৃথিবীর সমস্ত মানুষ এসে ভারতে জায়গা চাইলে জায়গা দেওয়া যাবে তো? স্বরা ভাস্কর নিজের বাড়ির দলিল তাদের হাতে তুলে দেবেন তো?”

Back to top button