বাংলা সিরিয়াল

কাঁথাস্টিচের অসাধারণ কাজের জন্য জাতীয় পুরস্কার পেয়েছেন! ‘Didi No 1’-এর মঞ্চে তার জয়ের লড়াই করার গল্প শোনালেন শম্পা মজুমদার

বর্তমানে বাংলার জনপ্রিয় রিয়েলিটি শো গুলির মধ্যে অন্যতম একটি হলো জি বাংলার দিদি নাম্বার ওয়ান। রিয়েলিটি শো গুলোর মধ্যে সেরার সেরা এই গেম শো। টলিউডের জনপ্রিয় সুন্দরী অভিনেত্রী রচনা ব্যানার্জীর সঞ্চালনায় এই শো সবসময় জমজমাট। এই মঞ্চে আমাদের বাংলার বিভিন্ন জেলা থেকে দিদিরা আসেন তাদের জীবনের নানান গল্প ভাগ করে নিতে। গত ১০ বছর ধরে এই শো চলে আসছে জি বাংলার পর্দায়।

সম্প্রতি এই শো তে হাজির হয়েছিলেন শম্পা মজুমদার নামের এক ভদ্রমহিলা। যিনি কাঁথাস্টিচের কাজ করে সম্প্রতি জাতীয় পুরস্কার পেয়েছিলেন। শম্পা দেবী জানান যে ছোটো থেকেই তিনি সেলাইয়ের কাজ করতে ভালোবাসতেন। তার মা, ঠাকুমা, দিদা, পিসিরাও খুব ভালো হাতের কাজ জানেন। এরপর শম্পা দেবী জানান যে ১৯৮০ সালে তাঁর বিয়ে হয়ে যাওয়ার পর পর তাঁর সঙ্গে লেখক মনোজ বসুর দিদির আলাপ হয়। তিনিই শম্পা দেবীকে ওয়াল হ্যাংগিং করতে দেন। প্রথমে একটা-দুটো কাজ করতেন শম্পা। তারপর একদিন কুড়িটার উপর অর্ডার পান। এইভাবেই ধীরে ধীরে তিনি তাঁর ব্যবসার শুরু করেন। এরপর রেজিস্ট্রেশন বের করেন। তারপর কলকাতার বাইরে বিভিন্ন জায়গা যেমন – পুনে, হায়দ্রাবাদ, কেরালা, দিল্লি, বোম্বে, কানপুর সহ বিভিন্ন জায়গায় মেলা শুরু করেন।

এরপর ২০০০ সালেই রেজিস্ট্রেশন বার করার পর জেলায় প্রথম হন শম্পা মজুমদার। এরপর তিনি প্রতি বছরই জেলার কমপিটিশনে যোগদান করতেন এবং প্রথম নয়তো দ্বিতীয় স্থান অর্জন করতেন। এছাড়া রবীন্দ্রভারতীতে তিনি প্রথম হয়েছিলেন। ডিআইসি এর পক্ষ থেকেও তিনি অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন। তিনি নিজের যে কাঁথাস্টিচের কাজ করে তিনি জাতীয় পুরস্কার পেয়েছেন সেটি হল একটি ওয়াল হ্যাংগিং। যারমধ্যে তিনি ফুটিয়ে তুলেছিলেন ‘হান্টিং ফেস্টিভ্যাল’ অর্থাৎ আগেকার দিনে রাজরাজারা শিকার করার পর বনের মধ্যে যেই ধরনের উৎসব করতেন সেটাই ফুটে উঠেছে তাঁর শিল্পকলায়।

ঐদিন দিদি নাম্বার ওয়ানের মঞ্চে তিনি তার জাতীয় পুরস্কার এর সার্টিফিকেট দেখান। নিজের এই ব্যবসা কে আরো অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে যেতে চান শম্পা দেবী। পরবর্তীকালে পদ্মভূষণ’, ‘পদ্মবিভূষণ’ কম্পিডিশনে লড়াই করে জেতার স্বপ্ন দেখেন তিনি।

Back to top button