স্বামীর মৃত্যুর পরপরই ত্রাণ দিতে গিয়ে দূর্ঘটনায় ছেলের মৃত্যু! পিতৃহারা দুই শিশুর সম্পূর্ণ দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিলেন সাধন কন্যা শ্রেয়া পান্ডে

সম্প্রতি ইয়াসের তান্ডবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বহু মানুষ। সুন্দরবনের অর্ধেক এলাকা জলমগ্ন হয়ে গেছে। বাঁধ ভেঙে জল ঢুকে পড়েছে বিস্তীর্ণ এলাকায়। সুন্দরবনের এই অসহায় মানুষগুলোকে যে যেমনভাবে পারছেন সাহায্য করছেন।

সেক্ষেত্রে সুন্দরবনের কিছু মানুষকে সাহায্য করতে তিনটি ম্যাটাডোর নিয়ে ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার উদ্যেশ্যে রওনা দিয়েছিলেন মুরারিপুকুর রোডের বাসিন্দা লোকনাথ দাস। কিন্তু যাবার পথেই ঘটলো বিপত্তি। ম্যাটাডোর উল্টে নিহত হলেন লোকনাথ।

মুরারি পুকুর রড এর বাসিন্দা লোকনাথ দাস ১৮ দিন আগেই তার বাবাকে হারিয়েছিলেন। বাবার কাজ মিটিয়ে তিনি ম্যাটাডোর ভর্তি ত্রাণ নিয়ে যাচ্ছিলেন সুন্দরবনের ত্রাণ পৌঁছতে ঐ অসহায় মানুষগুলোকে।

বানতলা লেদার কমপ্লেক্সের সামনে রাস্তার একটি গর্ত ছিল সেটা কাটাতে গিয়েই ত্রাণ বোঝাই ম্যাটাডোর উল্টে গিয়ে নিহত হয়েছেন লোকনাথ দাস। তার সাথে থাকা তার সঙ্গীরাও ভালোই আহত হয়েছেন ওই দুর্ঘটনায়।

লোকনাথ দাস তার পরিবারে একমাত্র ছিলেন যিনি উপার্জন করতেন। লোকনাথের মা কিছুদিন আগেই তার স্বামীকে হারিয়েছেন আর শোক কাটার আগেই তিনি তার ছেলেকে দুর্ঘটনায় হারালেন।

দিশেহারা তার গোটা পরিবার। তার স্ত্রীর বয়স মাত্র ২৩ বছর। তার চার বছরের ও ছমাসের দুটি কন্যা সন্তান আছে। লোকনাথ মারা যাওয়ায় কেউ ভেবে কূলকিনারা পাচ্ছিলেন না এরপর তাদের কিভাবে চলবে।

এই খবর পেয়ে সাধন কন্যা শ্রেয়া পান্ডে লোকনাথের বাড়ি গেছিল তার পরিবারকে সমবেদনা জানাতে। তাদের বাড়ি গিয়ে তাদের অসহায়তা দেখে মন কেঁদে উঠেছিল শ্রেয়া পান্ডের। তিনি ঐ মুহুর্তেই সিদ্ধান্ত নেন যে তিনি লোকনাথের দুই সন্তানের দায়িত্ব নেবেন।

তিনি লোকনাথের পরিবারকে জানান তিনি তার দুই নাতনি দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছেন তাদের চিন্তা করার কোনো কারণ নেই। শ্রেয়া পান্ডে নিজে একজন সিঙ্গেল মাদার। এই অসহায় মানুষগুলোর প্রতি তিনি যেভাবে মানবিকতা দেখিয়েছেন তার জন্যই তাকে অনেকেই সাধুবাদ জানিয়েছেন।