সাহায্যের প্রতিদান পেলেন! মৃত্যুর মুখ থেকে মেয়েটিকে বাঁচিয়ে নিয়ে আসলেন এক রিক্সা চালক, মেয়েটি ৮ বছর পর দিলো অমূল্য প্রতিদান

মানুষ মানুষের সাহায্য করবে এটাই আসল মানবিকতা। কিন্তু দিন দিন এই মানবিকতাই লোপ পেয়েছে মানুষের মধ্যে থেকে। এখন কেউ কারোর পাশে এসে দাঁড়ানো তো দূরের কথা কারুর বিপদে কেউ কারুর খোঁজ নিতে পর্যন্ত আসে না।

এমনি দিন কাল পড়েছে যে পাশে থেকেও হাত বাড়িয়ে দেওয়ার কাজ কেউ করেনা। কিন্তু তিনি তা করেননি, মানুষ হয়ে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন সাথে পেয়েছেন এক অমূল্য প্রতিদান।

এই ঘটনাটি ঘটেছে বেশ কিছুদিন আগে। এক রিক্সা চালক প্রতিদিনের মতোই তার রিক্সা নিয়ে বেরিয়েছিল রাস্তায় যাত্রী তোলার জন্যে। পাশ থেকে শুনতে পেলেন এক ভদ্রমহিলার চিৎকার।

চিৎকার শুনে তিনি পেছন ফিরে তাকাতেই দেখেন একটি যুবতী দৌড়ে রেললাইনের দিকে এগোচ্ছে। সামনে আসছে দ্রুত গতিতে ছুটে আসছে একটি ট্রেন।

আর দেরি না করেই ছুট লাগলেন রিক্সাচালক। একটুর জন্য প্রাণে বেছেগেলেন যুবতী। বাঁচানোর পর তিনি জানান তিনি তার জীবন আর রাখতে চাননা তাই তিনি আত্মহত্যা করতে যাচ্ছিলেন।

রিক্সা চালক তাকে বোঝালেন যে জীবনে কঠিন সময় সবার আসে কিন্তু হাল ছেরেদিলে কি করে চলবে। এটি বোঝানোর পর রিক্সা চালকটি তাকে তার রিক্সায় করে বাড়ি ছেড়ে দেন। তারপর থেকে সেই মেয়েটি কোথাও গেলে তার বাড়ির লোক সেই রিকশাচালকের সঙ্গেই পাঠাতেন।

মেয়েটি বেশ বড়োলোক ও সম্ভ্রান্ত পরিবারের মেয়ে ছিল। এই রকম করতে করতে ঘটনাটির ৮ বছর কেটে যায়। রিক্সা চালকের বেশ বয়স হয়ে গেল। বয়সের ভারে সে অসুস্থ হয়ে পড়ল বেশ। কিছুদিন। শারীরিক অবস্থা খারাপ হতে থাকায় তার কাজও প্রায় বন্ধ হয়ে গেল।

আর বসে না থেকে রিক্সাচালকটি একটি হাসপাতালে গেল তার চিকিৎসা করাতে। কিন্তু মনে মনে তার ভয় কাজ করল কারন তার কাছে না ছিল চিকিৎসা করবার মতো টাকা না ছিল চিকিৎসককে দেওয়ার মতো টাকা। ভয় নিয়েও সে চিকিৎসকের সামনে গিয়ে দাঁড়াল। কিছু বলবার আগেই সেই মহিলা ডাক্তারটি তার পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করল।

রিক্সা চালকটি কিছু বুঝে উঠতে পারলেন না। তখন মহিলা ডাক্তারটি তাকে বলল যে সে তাকে চিনতে পারছে কি না। প্রায় ৮ বছর আগে যে মেয়ে টিকে উনি আত্মহত্যা করবার থেকে বাঁচিয়ে ছিলেন সেই মেয়েটিই আজ বিশাল বড় ডাক্তার। বৃদ্ধ রিক্সাচালক তাকে চিনতে না পারলেও মেয়েটি তাকে ঠিক চিনেছে। মেয়েটি তাকে আশ্বস্ত করল তার চিকিৎসার পুরো খরচ মেয়েটি বহন করবে। তাকে কোনো রকম চিন্তা করবার কোনো প্রয়োজন নেই। এই হল ভালো কাজের প্রতিদান।