বাংলা সিরিয়াল

পায়ে তিন তিনবার টিউমার অপারেশনের পর আজ এক পায়েই নাচ করেন রুচি জৈন, দিদি নাম্বার ওয়ানের মঞ্চে এসে নিজের লড়াইয়ের গল্প শোনালেন

এই মুহূর্তে বাংলার রিয়েলিটি শো গুলির মধ্যে সেরা সেরা হলো জি বাংলার দিদি নাম্বার ওয়ান। প্রতি সপ্তাহতেই এই রিয়েলিটি শো দুর্দান্ত ফলাফল করছে। টিআরপি তালিকায় দিদি নাম্বার ওয়ান কে টেক্কা দেওয়ার মতো রিয়েলিটি শো এখনো অবধি আসেনি। বাংলার প্রতিটি ঘরের প্রতিটি মহিলার পছন্দের শো এটি। দীর্ঘ দশবছর ধরে এই রিয়ালিটি শো হয়ে আসছে জি বাংলার পর্দায়। আর এই শো এর সঞ্চালকের দায়িত্বে রয়েছেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী রচনা ব্যানার্জি।

রচনা ব্যানার্জি ছাড়া যেন দিদি নাম্বার ওয়ান এক্কেবারে অসম্পূর্ণ। প্রতিদিনই এই শো এর মঞ্চে আসে বিভিন্ন বয়সের বিভিন্ন জায়গার দিদিরা। এছাড়াও বিশেষ পর্ব গুলিতে উপস্থিত থাকেন টেলিভিশন জগতের জনপ্রিয় অভিনেত্রীরা। সোম থেকে শনি ঠিক বিকেল ৫-৬ টা পর্যন্ত এই রিয়ালিটি শো দেখানো হয় জি বাংলার পর্দায়। আর রবিবার এই শো এর বিশেষ পর্ব দেখানো হয়।

সম্প্রতি কিছুদিন আগেই সোশ্যাল মিডিয়া জুড়ে একটি ভিডিও দারুণ ভাইরাল হয়েছিল। ভিডিওটি ছিল দিদি নাম্বার ওয়ান এর বিরুদ্ধে। ভিডিওটিতে বেহালার বাসিন্দা অরূপ কুমার ভূঁইয়া দিদি নাম্বার ওয়ান শো এর বিরুদ্ধে এক বিস্ফোরক অভিযোগ এনেছিলেন।

তিনি বলেছিলেন ‘টিআরপির লোভে মহিলাদের নিয়ে মিথ্যে নাটক দেখাচ্ছে দিদি নাম্বার ওয়ান’! ক্যামেরার সামনে এসে খুব স্পষ্ট ভাবেই তিনি বলেছেন ‘কিছু মেয়ের জন্য আজ অনেক ছেলেরাও অত্যাচারিত। হাতজোড় করে বলছি দিদি নাম্বার ওয়ানের মতো রিয়েলিটি শো বন্ধ করা হোক।’

এই অভিযোগ অস্বীকার করে রচনা পাল্টা প্রশ্ন তুলেছিলেন, ‘এটা একদমই নয়। ১১ বছর ধরে এই শো চলে আসছে। প্রতিটা এপিসোডে চারটে করে মেয়ে অংশ নিচ্ছে। সবার কাহিনি, সবার চোখের জল এটা মিথ্যা? হাজার হাজার মেয়ে অংশ নিয়েছে, সবাই তো আর অ্যাক্টিং করতে পারে না। সবাই বানিয়ে কথা বলে? এটা হতে পারে না। হ্যাঁ, হতে পারে পাঁচশো-হাজার মেয়ের মধ্যে হয়তো একজন সত্যিটা এদিক-ওদিক বললো। কিন্তু সবাই হতে পারে না।’

তবে বেহালার বাসিন্দার ওই বিস্ফোরক অভিযোগের পরেও এই শোয়ের জনপ্রিয়তা এতটুকু কমেনি। দীর্ঘ ১১ বছর ধরে একই জায়গায় রয়েছে এই শো এর জনপ্রিয়তা। প্রতিদিনই বিকেল পাঁচটা বাজলেই টেলিভিশনের পর্দায় সামনে দর্শক বসে পড়েন তাদের প্রিয় এই রিয়েলিটি শো দেখার জন্য। প্রতিদিনই বাংলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে উঠে আসে মা বোনেরা তাদের জীবনের বিভিন্ন গল্প শোনাতে।

আর তাদের এই গল্প শুনে আমরা প্রতিদিন অনুপ্রাণিত হই নিজেদের জীবন যুদ্ধে এগিয়ে যাওয়ার জন্য। বুধবার দিন দিদি নাম্বার ওয়ান এর মঞ্চে হাজির হয়েছিলেন এক লড়াকু দিদি। যার গল্প শুনে প্রত্যেকেই অবাক হয়ে গিয়েছেন। তার নাম রুচি জৈন, পেশায় তিনি একজন ডান্সার। দিদি নাম্বার ওয়ান এর মঞ্চে এসে তিনি জানান তার পায়ে টিউমার হয়েছিল। তিন তিনবার তার পায়ে অপারেশন হওয়ার পর বর্তমানে তিনি এক পায়েই নাচ করেন। শুধুমাত্র নিজের মুখেই গল্প বলেননি তিনি এক পায়ে তিনি সকলের সামনে নাচ করে দেখান। তার লড়াইয়ের এই গল্প শুনে প্রত্যেকেই বেচেঁ থাকার নতুন সাহস খুঁজে পায়।

Back to top button