বাংলা সিরিয়াল

বধূ নির্যা;তন দিয়ে প্রেম কীভাবে দেখাতে পারে বাংলা ধারাবাহিক? জি বাংলার জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘পিলু’ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন দর্শকেরা

জি বাংলা জনপ্রিয় ধারাবাহিক পিলুতে এক সময় মুখ্য চরিত্র হিসেবে জনপ্রিয়তা লাভ করেছিল পিলু আহিরের রসায়ন। কিন্তু বর্তমানে এই ধারাবাহিকের সব থেকে বেশি জনপ্রিয়তা পাচ্ছে রঞ্জা আর মোল্লারের স্টোরি। দেশের মাটি ধারাবাহিকের মতো মুখ্য চরিত্রের থেকেও সব থেকে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে সাইড চরিত্র। এতদূর অবধি তাও ঠিক ছিল কিন্তু বর্তমানে পিলু ধারাবাহিকের গল্পের মধ্যে একটা অন্য রকমের আবহাওয়া এসছে যা মেনে নিতে পারছেন না দর্শকরা।

দাদুর অপমানের প্রতিশোধ নিতে ছক করে রঞ্জাকে বিয়ে করেছিলো মল্লার। বিয়ের পর থেকে রঞ্জা আর মল্লারের মধ্যে রেষারেষি চলতে থাকে। একজন বুনো ওল তো অপরজন বাঘা তেঁতুল। মল্লার যদি রঞ্জার পোশাক পুড়িয়ে দেয় তাহলে রঞ্জা‌ও না থেমে মল্লারের সমস্ত পোশাক পুড়িয়ে দেয়। এইভাবেই স্বামী স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া বিবাদ লেগেই থাকে।

কিন্তু সম্প্রতি ধারাবাহিকে দেখানো হয় যে রঞ্জার সাথে দেখা করতে এসেছে তার এক বন্ধু কুশল। কুশল বিষম খেলে রঞ্জা মাথায় ফুঁ দেয় এই দৃশ্য দেখে রেগে যায় মল্লার। সে অপমান করে কুশল কে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেয় আর রঞ্জার কফিতে বিষ মিশিয়ে দেয়। রঞ্জা কফিতে দু চুমুক দেওয়ার পরে মল্লার জানায় কফিতে বিষ আছে, এটা জেনে অবাক হয়ে রঞ্জা পুরো কফিটা খেয়ে নেয়। রঞ্জাকে কষ্ট পেতে দেখে মল্লার নিজে ভেঙ্গে পড়ে, সে মাথা ঠুকতে লাগে এই বলে রাগের মাথায় সে কী করে বসলো। সঙ্গে সঙ্গে সে রঞ্জাকে হাসপাতালে নিয়ে যায় এবং ট্রিটমেন্ট করিয়ে-রঞ্জাকে বাঁচিয়ে তোলে। এই ঘটনায় রঞ্জা অবাক হয়ে যায় যে তাকে কেন বাঁচালো মল্লার? সেও পুলিশের কাছে মল্লারের নামে কিছু বলে না।

রঞ্জা বলে সে আত্মহত্যা করেছিল। এই ঘটনায় অবাক হয়ে যায় মল্লার, সে কখনো রঞ্জার হুইল চেয়ার এগিয়ে দিয়ে সাহায্য করছে তো কখনো রঞ্জা কে ওষুধ খাইয়ে সাহায্য করছে। অন্যদিকে রঞ্জাও কুশলের জেরার হাত থেকে মল্লারকে বাঁচাচ্ছে। মল্লার রঞ্জার প্রতি দুর্বল হচ্ছে, অন্যদিকে রঞ্জার মনের‌ও বরফ গলছে এমনটাই দেখানো হচ্ছে ধারাবাহিকে আর এই বিষয়েই তীব্র আপত্তি তুলেছেন নেটিজেনরা। তাদের বক্তব্য, স্ত্রীকে যে বিষ দিয়ে মারতে পারে তাকে একজন স্ত্রী কী করে ভালবাসতে পারে। মল্লারের মধ্যে অনুতাপ দেখিয়ে তাকে হিরো সাজানো হচ্ছে! কিন্তু আদপে এই ধারাবাহিকে বধূ নির্যাতন কে উস্কে দেওয়া হচ্ছে!

Back to top button