বাংলা সিরিয়াল

নিজের দোষ মিঠাইয়ের ঘাড়ে চাপালো সিদ্ধার্থ! মানতে পারছেন না মিঠাই ভক্তরা! মিঠাই কে শক্ত ও দৃঢ় চরিত্র রূপে দেখতে চাইছেন তারা

বারংবার টিআরপি লিস্টে প্রথম হওয়া ধারাবাহিক হল মিঠাই। এক মিষ্টান্ন কারিগরের গল্প নিয়ে এই ধারাবাহিক শুরু, তার মাঝে মোদক পরিবারের গল্প, মিঠাই ও সিদ্ধার্থের রসায়ন, হল্লা পার্টির হৈ-হুল্লোড়, নিপা রুদ্রদা, পিংকি ও সিরিয়াল দাদার কেমিস্ট্রি নিয়ে জমজমাট হয়ে উঠেছে এই ধারাবাহিক। তবে সম্প্রতি এই ধারাবাহিক নিয়ে দর্শকদের অভিযোগ তৈরি হচ্ছে।বর্তমানে এই ধারাবাহিকে ছেলে বনাম মেয়ে দের লড়াই শুরু হয়েছে। সিদ্ধার্থের দাদুর এক বান্ধবী এই বাড়িতে আসার পর থেকেই ছেলে ও মেয়েরা কার্যত দুই দলে ভাগ হয়ে গিয়েছেন। ছেলেদের বক্তব্য মেয়েরা স্পেস দিতে জানে না, মেয়েদের বক্তব্য ছেলেরা স্পেস পেলেও কিছুই করতে পারে না, বউকে ছাড়া তাদের আর গতি নেই। এই কারণে ছেলেদেরকে নিজেদের গুরুত্ব বোঝাবার জন্য তারা মেয়েরা ছেলেদের কোন কাজ করছে না তারা শুধু নিজেদের কাজ করছে এবং নিজেদের খাবারটুকু বানিয়ে খাচ্ছে। ছেলেরা প্রথম প্রথম সব পারবে এরকম একটি মনোভাব দেখালেও পরে তারা বুঝতে পেরেছে মেয়েদের ছাড়া তারা কিছুই করতে পারবে না।

এরপর আজকের এপিসোদে দেখানো হয় যে, সিদ্ধার্থ হঠাৎ ভুল করে মিঠাই বলে ডেকে ফেলে এবং সেই সময় সে ফ্রিজের চাবি খুঁজছিলো। এই ডাক শুনে থাকতে না পেরে মিঠাই নীচে আসে ও উচ্ছে বাবুকে ডিম ফাটানোতে সাহায্য করে। তখন তোর্সা সেই ছবি তুলে সবাইকে দেখিয়ে দেয় এরপর যখন ঠাম্মি আর দাদাই জিজ্ঞেস করে তখন সিদ্ধার্থ বলে সব দোষ মিঠাইয়ের। সেই নিজে থেকে সিদ্ধার্থ কে সাহায্য করতে এসেছিল। সব শুনে কষ্ট পেয়ে মিঠাই কাঁদতে শুরু করে। এরপর মিঠাই যখন নিজেকে শাস্তি দেবে বলে উপরে উঠে যায় তখন আবার সিদ্ধার্থ সবার সামনে বলে মিঠাই একটা পাগল। এই এপিসোডটা দেখে মিঠাই অনুরাগীরা যথেষ্ট আহত হয়েছে তাদের বক্তব্য, এত ইগো কিসের যে সে স্বীকার করতে পারছে না যে মিঠাই কে ছাড়া সে একটা কাজ ঠিকমতো করতে পারেনা।

একজন ভক্ত সরাসরি লিখেছে,“ আজকের এপিসোড টা নিয়ে আমি খানিকটা না বেশ ডিসাপয়েন্টেড। এই যে স্পেস নিয়ে একটা ট্র্যাক আসলো তার মূল বক্তব্য স্পেসশিপে করে মাথার উপর দিয়ে মঙ্গলে চলে গেছে। গতকাল অবধি বোঝা গেল একটা সাধারন দাম্পত্য কলহ নিয়ে হয়তো সুন্দর কোন মেসেজ নিয়ে আসবে যেটা সব সময় মিঠাইতে হয়ে এসেছে কিন্তু আজকের এপিসোডের এই সিড আসলে সিদ্ধার্থ মোদক নয়। এই মেরুদণ্ডহীন কখনো আমাদের সেই ব্যক্তিত্ববান পুরুষ নয়। আগের এপিসোড গুলোর ছোট ছোট ক্লিপস যে দেখেছে সে বুঝবে। কয়েকটা ডায়লগ যে দেখেছে সেও বুঝবে‌। যে সিদ্ধার্থ বিয়ে মানতো না। মিঠাই এর সবকিছুতে ইরিটেট হতো কিন্তু তবু মিঠাই এর পাশে ঠিকই থাকতো প্রয়োজনে সবার বিরুদ্ধে গিয়ে ও নিজের ইগোকে পায়ে পিষে হলেও সে মিঠাইয়ের যত্নশীল মনোভাব, সততা, সরলতাকে সম্মান করেছে।

আজকের এই সিড আমাদের সেই হতেই পারে না। কোন ভাবেই নয়। যখন টেস সিডের ওপর অভিযোগ তুলেছিল সে তার বন্ধুত্বের সুযোগ নিয়েছে তখন‌ও কি মিঠাই কিচ্ছু বলেছে? বরং সিড তো নিজে থেকেই সম্পর্কের স্বচ্ছতার কথা বলে সবটা কনফেস করেছে। এন্জিকে নিয়ে একটু জেলাস হলেও যখন শুনলো সে উচ্ছে বাবুর প্রাণ বাঁচিয়েছে তখন সে নিজে থেকে সরে যেতে চেয়েছে। মিঠাইয়ের মায়ের মৃত্যুর আগে ব্যাঙ্গালোরে যে কনফারেন্সের জন্য সিড গেলো তোর্সার সাথে, মিঠাই চাইলেই কি সিনক্রিয়েট করতে পারতো না? সেটা কি যুক্তিযুক্ত ছিল না? অন্তত আমার মতো সাধারণ যে কোনো স্ত্রী হলে তো তান্ডব হতো। সেখানে মিঠাই বরং তোর্সার ফাইলপত্র
সিডকে নিতে বলেছে সিডের আপত্তি সত্ত্বেও।

এছাড়াও এমন অনেক উদাহরণ দেওয়া যায় যেখানে মিঠাই সিদ্ধার্থকে সসম্মানে প্রয়োজনের অধিক স্পেস দিয়েছে। অধিকারবোধ সংযত রেখেছে‌। তাহলে সে মেয়েটাকে কোন যুক্তিতে বলা হচ্ছে সে স্পেস এর মানে জানে না? এত বড় audacity হয় কি করে? বরং সিদ্ধার্থ নিজেইতো স্পেস টা দেয়নি!

বিয়ের পর থেকে মেয়েটা তার বরকে দেখে আসছে কলিগ বন্ধু তোর্সার সাথে অবাধ মেলামেশা সে কষ্ট পেলেও স্পেস না দেওয়ার মতো কিছু করেনি অথচ স্পোকেন ইংলিশ ক্লাসের পার্টনারের কল আসা নিয়ে সিড বিরক্ত হয়েছে। সিনেমা দেখতে যাওয়া নিয়ে রাগ করেছে। পার্টনারের গার্লফ্রেন্ড কে প্রপোজ করার রিহার্সাল দেখে মারতে উদ্যত হয়েছে পুরো বিষয়টা না জেনে। কাজের চাপে দেরি করে বাড়ি ফেরার পর ক্লান্ত-শ্রান্ত মেয়েটার ওপর চেঁচামেচি করেছে। যে মেয়েটা হাজার অপমান সহ্য করে কোনরকম প্রতিদান পাওয়ার আশা ছেড়ে সম্পর্কটাকে সম্মান করে একতরফাভাবে দায়িত্বকে পালন করে গেছে। তাকে কেন এতটা দুর্বল ভাবে পরিবেশন করা হচ্ছে? মিঠাই এর ব্যক্তিত্বকে কি আরো শক্ত পরিণত দেখানো যেতো না? কেন গোপি বহুর মতো সব করেও সব সহ্য করা লাগবে? কেন ওর প্রতিবাদটা কমেডিতে পরিণত হবে? রাজীব দা কে সব সময় একটা পরিণত চরিত্র হিসেবে দেখে এসেছি হাসি-ঠাট্টা করলেও ভুল সঠিক এর বিবেচনা বোধ সম্পন্ন এবং সম্পর্কের গভীরতা বুঝতে পারা এক বাঙ্গালী পুরুষ! দাদাই ঠাম্মির ছেলেমানুষীটা তাদের চরিত্রের সাথে বেমানান মনে হচ্ছে, যেখানে তারাই পুরো পরিবারটাকে একসূত্রে গেঁথে রেখেছিলেন সেখানে তারা এমন আচরণ করছেন যার ফলস্বরুপ নাতি-নাতবৌ, নাতনি নাত জামাই এর মধ্যে একটা ভুল বুঝাবুঝি তৈরি হচ্ছে। রাতুল ছিল সবচেয়ে আলাদা অন্যরা যেসব বিষয় বুঝতো না, সে বুঝতো সেটা।

নিজের ব্যাপার হোক বা অন্যদের ব্যাপার হোক সে সবসময় একটা ঘটনায় উভয় পক্ষের পরিপ্রেক্ষিতে বিবেচনা করতো, হঠাৎ করে তার বিবেচনা বোধ পাড়ার দোকানে কচুরি জিলিপি খেতে চলে গেল। এত কিছুর ভিড়ে স্যান্ডিজি যাকে পরিণত পুরুষ চরিত্রগুলো আন্ডারএস্টিমেট করত সেই নিজের চিন্তা চেতনাকে দৃঢ়ভাবে প্রকাশ করতে সক্ষম হয়েছে। মেয়েগুলো প্রতিবাদ করলেও ঠিকই ভেতর ভেতর কনসার্ন পুষে রেখেছে। কে বাইরের খাবার খায় না। কার শরীরের ক্ষতি। এসব ভেবে নিজে খেতে পারছে না। অথচ পুরুষ চরিত্রগুলো ঠিকই খেয়ে নিচ্ছে। মেয়েদের মনোলগে যা বোঝা গেছে ওরা ওদের করা প্রতিটি যত্নের পর্যাপ্ত মর্যাদা পাচ্ছে না বলে একটু রেগেছে। চাইলে এই রাগকে পানি করা ছেলেদের এক সেকেন্ডের ব্যাপার‌। স্যান্ডিজি এর মুখের ওপর বলা সত্যটা খুব ভালো লেগেছে। বউদের তালে তাল মিলিয়ে নাচতে হয় এই বাক্যটা অন্তত সিডের মুখে মানায় না কোনভাবেই না। এই মিথ্যেটা কি না বললেই হত না সিদ্ধানন্দ?কে যেন বলতো, ‘মিথ্যে বলাটা আমি একদম সহ্য করতে পারি না’। ”-এইভাবেই মিঠাই ভক্ত নিজের বক্তব্যকে তুলে ধরেছে। মিঠাই এর প্রতি সিদ্ধার্থের এই আচরণ সে কিছুতেই মানতে পারছে না, তবে সে একা নয় অধিকাংশ মিঠাই অনুরাগীদের ক্ষেত্রে বিষয়টা এক‌ইরকম। সবাই প্রায়ই মনে করছেন এবার মিঠাই চরিত্রকে একটু শক্ত এবং দৃঢ় দেখানো উচিত। নির্মাতারা ভক্তদের এই আবদার রাখেন কিনা সেটাই এখন দেখার!

Back to top button