বাংলা সিরিয়াল

‘নুপূর শর্মার মন্তব‍্যের দায় যে পার্টিটা চালায় তার’, মুখ খুললেন গোধূলি আলাপের অভিনেতা কৌশিক সেন

পয়গম্বর হজরত মহম্মদকে নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য করার জন্য বিজেপির প্রাক্তন জাতীয় মুখপাত্র নুপুর শর্মাকে ইতিমধ্যেই সাসপেন্ড করা হয়েছে। তবুও উত্তেজনাকর পরিস্থিতি এতোটুকুও স্থিমিত হয়নি। বিগত কয়েকদিন ধরেই গোটা দেশ উত্তাল হয়ে আছে নুপুর শর্মার বক্তব্যকে কেন্দ্র করে, শুক্রবার থেকে বাংলাতেও এই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। জাতীয় সড়ক অবরোধ করা থেকে শুরু করে বাজারে তাণ্ডব চালানো হয়, এমনকি একাধিক জায়গায় ইন্টারনেট পরিষেবাও বন্ধ করে দেওয়া হয়। এই বিষয় নিয়ে সম্প্রতি মুখ খুলেছেন অভিনেতা কৌশিক সেন। সম্প্রতি স্টার জলসার গোধূলি আলাপ ধারাবাহিকটির প্রধান মুখ তিনি। তিনি এই সমগ্র পরিস্থিতি দেখে বাকরুদ্ধ হয়ে গিয়েছেন।

শুক্রবার অনেকক্ষণ ধরে জাতীয় সড়ক অবরুদ্ধ করে রাখার পাশাপাশি শনিবার পাঁচলা বাজারে অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়, এছাড়া মিরপুর উলুবেড়িয়াতে অশান্তি শুরু হয়। এমনকি একাধিক জায়গায় ১৪৪ ধারা জারি হয়, সোমবার সকাল পর্যন্ত বন্ধ ছিল ইন্টারনেট পরিষেবাও। জনপ্রিয় অভিনেতা কৌশিক সেন এই পুরো বিষয়টি প্রসঙ্গে একটি সাক্ষাৎকারে বলেছেন,“ পুরো বিষয়টাই পরিকল্পনা করে করা হচ্ছে কারণ এই রাজ্যে সংখ্যালঘুদের বারবার অনেকটা স্পেস দেওয়া হয়েছে অন্যান্য রাজ্যের তুলনায়। অন্যান্য রাজ্যের তুলনায় বাংলাতে অনেক বেশি সুরক্ষিত তারা।”

এখানেই থেমে থাকেন নি অভিনেতা, কৌশিক সেন আরো বলেছেন যে, নুপুর শর্মার বিতর্কিত মন্তব্যের দায় যে পার্টিটা চালায় তার! তবে অভিনেতা মনে করেন এই দুষ্কৃতীরা কোন ধর্মেরই নয়, তাই তিনি রাজ্য প্রশাসনকে আবেদন জানিয়েছেন কড়া হাতে যেন রাজ্য সরকার এই দুষ্কৃতীদের দমন করেন।

হাওড়ার অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি দেখে কৌশিক সেন এর মত আরো অনেকেই মুখ খুলেছেন। এই পরিস্থিতি অত্যন্ত বেদনাদায়ক বলে মন্তব্য করে টলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত শান্তির আহ্বান জানিয়েছেন ইতিমধ্যেই। একই সাথে তিনি আর্জি জানিয়েছেন যে, সবাই মিলেমিশে থেকে সম্প্রীতির পরিচয় দিন। একইসাথে রূপম ইসলাম বলেছেন, কে কোথায় কি বলেছেন তা নিয়ে যদি উত্তেজনা সৃষ্টি হয় তাহলে তো নিজেদেরই ক্ষতি। সমস্যা সমাধান করতে যাদের ব্যবস্থা নেওয়ার তারা ঠিকই নেবেন। কিন্তু রাস্তায় নেমে পরিস্থিতি আরও দুর্বিষহ করে তোলা কোনমতেই কাম্য নয়। বরং শান্তিপূর্ণভাবে সকলে মিলে যাতে থাকা যায় সেটাই দেখা উচিত।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য নুপুর শর্মা তার বক্তব্য নিয়ে আরো দাবি করেছিলেন যে, শিব লিঙ্গ নিয়ে ক্রমাগত কটুক্তি শুনতে শুনতে তিনি একপ্রকার বাধ্য হয়েই পয়গম্বর সম্পর্কে এই বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন!

Back to top button