বাংলা সিরিয়াল

‘শেষ হয়েও আয় তবে সহচরী প্রমাণ দিয়ে গেল দেবীনার মত খল চরিত্রের উত্তরণ সম্ভব আর মানুষের রুচি আসলে কোথায় গিয়ে নেমেছে, এখানে আয় তবে সহচরীর সার্থকতা’-বলছেন নেটিজেনদের একাংশ!

কিছু কিছু ধারাবাহিকের ক্ষেত্রে দেখা যায় সেটা যেভাবে শুরু হয় সেই ভাবে শেষ হয় না। হয়তো শুরুর দিকে অনেক কিছু দেখানো হলো কিন্তু মাঝপথে খেই হারিয়ে গিয়ে অন্য জগাখিচুড়ি পাকিয়ে ধারাবাহিক টা শেষ হলো। স্টার জলসার খেলাঘর ধারাবাহিককে এই জায়গায় রাখা যায়, ধারাবাহিকটি অনেক আশা নিয়ে শুরু হয়েছিল একজন গুন্ডার গল্প যে ধীরে ধীরে দিগ্বিজয় চরিত্রে উত্থান হবে, কিন্তু মাঝখানে গল্প পুরো ঘেঁটে যায়, ধারাবাহিকে নিত্যদিনকার ঝামেলা অশান্তি দেখানো হয়, চরিত্রের উত্তরণ, নায়ক নায়িকার দাম্পত্য জীবন, তাদের ভবিষ্যৎ জীবনে এগিয়ে যাওয়া এই সমস্ত বিষয়গুলো আর দেখানো হয় না। স্টার জলসার অপর একটি ধারাবাহিক আয় তবে সহচরী কিন্তু সেই দিক থেকে একটু অন্যরকম।

আয় তবে সহচরী ধারাবাহিক টিও সহচরীর জীবন নিয়ে শুরু হয়েছিল। এমন একজন মহিলা সহচরী যিনি জীবনের অনেকটা পথ পেরিয়ে আসার পরেও নিজের লক্ষ্য পূরণে একদম দৃঢ় অঙ্গীকারবদ্ধ, সে শিক্ষিত হতে চায়, কলেজে ভর্তি হয়ে আরো পড়াশোনা করতে চায়-এমনটাই দেখানো হয়েছিল প্রোমোতে। কিন্তু পজিটিভ এপিসোডে টিআরপি আসছিলো না তাই এই ধারাবাহিকের নেগেটিভিটি আনা হয়নি নিয়ে আসা হয় দেবীনা চরিত্রকে। এরপর ই ধারাবাহিকে সহচরীর পড়াশোনার গল্প না দেখিয়ে একটা অদ্ভুত পরকীয়ার সম্পর্ক দেখানো হতে থাকে আর এতেই ধারাবাহিক টিআরপি পায়। শেষের দিকে এই ধারাবাহিকে দেবীনা চরিত্রের উত্তরণ দেখানো হয়েছিল এবং তা সকল দর্শকদের মন জয় করে নিয়েছিল, তবে দর্শকরা মনে করেন এর পাশাপাশি এই ধারাবাহিকের আরো একটা প্লাস পয়েন্ট আছে। এই ধারাবাহিকটি অল্প সময়ে সকলের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় দর্শক আসলে কি চায়।

দর্শক মুখে তো বলে সে ভালো কনটেন্ট, ভালো গল্প দেখতে চায় কিন্তু কোন ধারাবাহিকে যখন ভালো কনটেন্ট পজেটিভ জিনিস দেখানো হয়, তখন দর্শক মুখ ফিরিয়ে নেয় আবার ধারাবাহিকে যখন দেবীনার মতো একটা নেগেটিভ ক্যারেক্টার কে এন্ট্রি ঘটিয়ে একের পর এক ডিজাস্টার দেখানো হয় তখন ধারাবাহিকের টিআরপি হুহু করে বাড়তে থাকে। একজন নেটিজেন এই প্রসঙ্গ টেনে বলেছেন, “ শেষ হয়ে গেল আয় তবে সহচরী। একটা অসম্ভব সুন্দর topic নিয়ে শুরু হয়েছিল সিরিয়ালটা… এক গৃহবধূর অপূর্ণ ইচ্ছে কে পূরণ করার অদম্য জেদ, তার সাথে বন্ধুত্বের কোনো বয়স হয় না সেটার ইঙ্গিত।সবশেষে শাশুড়ি বৌমা যে best friend হয়ে পরস্পরকে “তুই” সম্বোধন করতে পারে সেটাও ছিল এক নতুন পদক্ষেপ।

কিন্তু ঘটনাচক্রে মূল গল্প থেকে অনেক দূরে সরে যায় সিরিয়ালটা।যে সিরিয়ালটা একদিনও মিস করতাম না সেটা একসময় যেন দেখতেই ইচ্ছে করতো না।

তারপর কনিনীকা দির অসুস্থতার জন্য বিরতি,এবার শেষ… কিন্তু শেষে দেবিনার মত একটা খলচরিত্রের এত্তটা পরিবর্তন এটা সত্যিই একটা বড় পাওনা।শেষের কিছু এপিসোড দেখলে মনেই হত না এই দেবীনাকেই একদিন সহ্য করতে পারতাম না।

তবে শেষে একটা কথা বলি,এই সিরিয়াল টা কম সময়ের মধ্যে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে গেছে,ভাল জিনিস মানুষ দেখে না। মানুষ মনে মনে সেই নোংরামি, জটিলতা এসবই পছন্দ করে…অথচ মুখে বলে সিরিয়ালটা নোংরা!
এই সিরিয়ালটা ভালো জিনিস যেমন দেখিয়েছে, তেমনি চূড়ান্ত নোংরা জিনিস দেখিয়েছে…দুই পর্যায়ের trp দেখলেই বোঝা যায় দর্শকের রুচি আজ কোথায় নেমে গেছে”

Back to top button