বাংলা সিরিয়াল

‘স্টার জলসা আসায় অন্য চ্যানেলগুলো ফ্লপ হয়ে গিয়েছিলো,সেই জলসার জন্মদিন আজ’ স্টার জলসার জন্মদিনে নস্টালজিক হয়ে স্মৃতিচারণা করলেন এক জলসা ভক্ত!

চ্যানেলে চ্যানেলে লড়াই হয় , হয় প্রতিদ্বন্দ্বিতা আর সেটাই স্বাভাবিক। কারণ এই পৃথিবীতে এক‌ই পেশার মানুষ অন্য পেশার মানুষের সাথে ঈর্ষান্বিত বোধ করেন। সেখানে দুটি চ্যানেল যারা মানুষকে বিনোদন করে তারা একে অন্যের প্রতি লড়াই অটুট রাখবে এটাই স্বাভাবিক। এই কারণেই ধারাবাহিকের সাথে ধারাবাহিকের লড়াই। এত টি আর পির হাড্ডাহাড্ডি লড়াই। সন্ধ্যে ৬ টা থেকে রাত ১১ টা পর্যন্ত কোন চ্যানেল মানুষ দেখছেন কতক্ষন দেখছেন তা বিচার করে জনপ্রিয়তা কে যাচাই করার প্রয়াস। একটা সময় ডিডি বাংলা,আকাশ,ইটিভি বাংলা এইসব চ্যানেল ছিলো। পরবর্তীতে জি বাংলা,স্টার জলসা আসে।

আর এই স্টার জলসার জন্মদিন ২০০৮ সালের ৮ ই সেপ্টেম্বর। এইসময় গুটিকতক ধারাবাহিক বন্ধন,দুর্গা নিয়ে শুরু হয়েছিল স্টার জলসার পথ চলা তারপর সময় যত এগিয়েছে তত পরিবর্তন হয়েছে এই চ্যানেল। কত নিত্য নতুন ধারাবাহিক এসেছে, কত নিত্যনতুন ধারাবাহিক থেকেছে, কত নিত্যনতুন ধারাবাহিক ফুরিয়ে গেছে, স্টার জলসা একই রকম রয়ে গেছে। বিনোদন মাধ্যমের প্রথম সারির এই চ্যানেলের জন্মদিনের তাই ভক্তরা উচ্ছ্বসিত। তারা বারংবার নস্টালজিক হয়ে পড়ছেন আর পিছু ফিরে তাকাচ্ছেন পিছন দিকে, জলসার শুরুর দিকের ধারাবাহিক গুলোর দিকে।

একজন ভক্ত যেমন সোশ্যাল মিডিয়া য় বেশ দীর্ঘ রচনা লিখে স্টার জলসার জন্মদিন সম্পর্কে লিখেছেন, “#শুভজন্মদিনস্টার_জলসা
চলুন দেখে নেওয়া যাক স্টার জলসার পথচলা

২০০৮ সালের ৮ ই সেপ্টেম্বর ভারতীয় টেলিভিশন জগতের আমূল পরিবর্তন নিয়ে আসা চ্যানেল স্টার জলসার আগমন হয়। সেই সময় যে মানুষ টিভি দেখত না এমনটা কিন্তু নয় তবে স্টার জলসা আসার পর টেলিভিশন এর জনপ্রিয়তা দশগুণ বাড়তে থাকে। মাত্র কিছুদিন এর মধ্যেই স্টার জলসা টেলিভিশন জগতের সর্বাধিক জনপ্রিয় চ্যানেল এর শিরোপা জয় করেছিল। এবং জলসার জয়যাত্রা অব্যাহত ছিল বছরের পর বছর। আপনারা অনেকেই হয়ত জানেন ২০০৮ থেকে ২০১৮ এর শুরু অবধি টানা দশ বছর স্টার জলসা বাংলা বিনোদন জগতের এক নম্বর চ্যানেল ছিল। শুধু তাই নয় ঐ সময়ে স্টার জলসার টিআরপি জিআরপি অন্যান্য চ্যানেলগুলো যেমন জী বাংলা ইটিভি বাংলার তুলনায় দশগুণেরও বেশি এগিয়ে থাকত। স্টার জলসার জনপ্রিয়তা এতটাই ছিল যে অন্যান্য চ্যানেলগুলো ফ্লপ চ্যানেল এ পরিণত হয়। দুপুর থেকে রাত বাংলার মানুষ শুধুমাত্র জলসাই দেখতে থাকে। বিকেল 5:30 টা থেকে রাত 10:30 টা সব স্লটেই জলসার সিরিয়াল বেঙ্গল টপার এর শিরোপা জিতেছে। ২০০৮-২০১৮ টানা দশ বছর স্টার জলসা ব্যাপক ব্যাবধানে এগিয়ে থাকত অন্যান্য চ্যানেলগুলোর তুলনায় যেটা নিঃসন্দেহে একটা রেকর্ড যে রেকর্ড কেউ কোনদিনও ভাঙতে পারবে না এমনকি জলসা নিজেও না। ২০০৮-২০১৮ এর শুরু অবধি জলসার প্রাইম সহ নন প্রাইম কমবেশি সব স্লট গুলোতে টিআরপি থাকত 15+ অন্যদিকে জী বাংলা সহ অন্যান্য চ্যানেলগুলোর টিআরপি থাকত 0+। উদাহরণস্বরূপ বলা যায় রাত আটটায় জলসার মা ধারাবাহিক এর কোন এক সপ্তাহের টিআরপি ছিল ১৫.৫ ঐ সপ্তাহে ঐ একই স্লটে জী বাংলার শপথ এর টিআরপি ০.৩। রাত ৮:৩০ টায় জলসার বোঝেনা সে বোঝেনা ধারাবাহিক এর কোন এক সপ্তাহের টিআরপি ছিল ১৫.৮ ঐ স্লটের জী বাংলার তুমি রবে নীরবে ধারাবাহিক এর টিআরপি ০.৬ এরকম আরও অনেক উদাহরণ আছে।

জলসার রেকর্ড সম্পর্কে যদি বলা শুরু করি তাহলে শেষই হবে না কারণ জলসার যা রেকর্ড আছে সেটা বাংলা কেন ভারতবর্ষের কোন চ্যানেল এর নেই। এখনও পর্যন্ত সর্বোচ্চ টিআরপি প্রাপ্ত সিরিয়াল বউ কথা কও থেকে শুরু করে পটল কুমার গানওয়ালা বোঝেনা সে বোঝেনা সবগুলোই জলসার ধারাবাহিক। এখন যে পদ্ধতিতে টিআরপি গননা হয় সেই নিয়মে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ টিআরপি প্রাপ্ত সিরিয়াল পটল কুমার গানওয়ালা। জলসার জনপ্রিয়তা এতটাই ভারতবর্ষের 7-8 টি ভাষায় এখন জলসার জয়জয়কার। সেই সব ভাষায় শুধুমাত্র জলসার ধারাবাহিকই সগৌরবে চলছে এবং টপার । স্টার জলসার প্রায় সমস্ত সিরিয়াল এর অগুনতি রিমেক হয়েছে যা হিসেবে এর বাইরে। শ্রীময়ীর রিমেক হিন্দিতে অনুপমা দীর্ঘ আড়াই বছর ধরে ইন্ডিয়ান টপার যেটা স্টার জলসার অন্যতম সাকসেসফুল প্রজেক্ট শ্রীময়ীর রিমেক। মা শ্রীময়ী মোহর কুসুম দোলা কে আপন কে পর ইচ্ছেনদী ইষ্টিকুটুম পটল কুমার গানওয়ালা সাঁঝের বাতি সহ স্টার জলসার প্রায় 50 টি ধারাবাহিক এর রিমেক গোটা ভারতবর্ষ জুড়ে মোট 7-8 টি চ্যানেল এ সগৌরবে চলেছে। গোটা দেশজুড়ে এমনকি বিদেশেও এখন বাংলা সিরিয়ালের জয়জয়কার এটা শুধুমাত্র জলসার জন্য। এটাই আমাদের বাংলার গর্ব স্টার জলসা।
স্টার জলসা এমনই এক চ্যানেল যেটা ২০০৮ এ যাত্রা শুরু করে ২০০৯ এ অ্যাওয়ার্ড শো আনার ক্ষমতা রাখে। স্টার জলসা এমনই এক চ্যানেল যেটা ২০০৮-২০১৮ টানা দশ বছর নিজেকে এক নম্বরে রেখেছিল। এবং আজও বাংলা বিনোদন এর নাম্বার ওয়ান চ্যানেল স্টার জলসা তবে আগের মতো জনপ্রিয়তা এখন আর নেই। তার অন্যতম প্রধান কারণ সিটি কেবল এর সমস্যা।
স্টার জলসার বেশ কিছু কালজয়ী ধারাবাহিক এখানে আকাশ নীল দুর্গা গানের ওপারে মা বেহুলা ওগো বধু সুন্দরী সিদূরখেলা সংসার সুখের হয় রমণীর গুণে বউ কথা কও ভালোবাসা ডড কম জল নূপুর ধন্যি মেয়ে ভাষা অপরাজিত তোমায় আমায় মিলে বধূ কোন আলো লাগলো চোখে বধূবরণ ইষ্টিকুটুম পুন্যি পুকুর চোখের তারা তুই কিরন মালা বোঝেনা সে বোঝেনা ইচ্ছেনদী রাখী বন্ধন খোকাবাবু ভজ গোবিন্দ প্রতিদান পটল কুমার গানওয়ালা কুসুম দোলা কে আপন কে পর দেবী চৌধুরানী ফাগুন বউ মহাপীঠ তারাপীঠ এরপর আরোও অনেক আছে। এক কথায় বলে শেষ করা যাবে না।
এছাড়া বেশ কিছু জনপ্রিয় ধারাবাহিক যেমন শ্রীময়ী মোহর খড়কুটো সাঁঝের বাতি আয় তবে সহচরী মন ফাগুন ভাগ্যলক্ষী গঙ্গারাম খেলাঘর বরণ খুকুমণি।

বর্তমান সময়ে চলাকালীন বেশ কিছু জনপ্রিয় ধারাবাহিক গাঁটছড়া আলতা ফড়িং গুড্ডি ধুলোকণা ও অনুরাগের ছোঁয়া।
এরকমই বছরের পর বছর সগৌরবে বাংলার এক নম্বর চ্যানেল হয়ে চলুক বাঙালির আবেগ স্টার জলসা। আমার বিশ্বাস একদিন না একদিন স্টার জলসা আবারও তার পুরনো জৌলুস ফিরে পাবে। সবাই দেখতে থাকুন বাংলা বিনোদন এর নাম্বার ওয়ান চ্যানেল স্টার জলসা।”

Back to top button