ফের রাজতন্ত্র ও হিন্দু রাষ্ট্রের তকমা ফেরাতে পথে নেপালের জনগণ

হঠাৎই নেপালের রাজনৈতিক মহলে শোনা যাচ্ছে উল্টোসুর৷ ভারতের সঙ্গে সীমান্ত নিয়ে ঝামেলা শুরু হয়েছে নেপালের অনেকদিন ধরেই৷ এই ঘটনাই এবার ইস্যু হয়ে দাঁড়াচ্ছে নেপালে৷ নেপালের প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলিরও সময় খুব একটা ভালো যাচ্ছে না বলা যায়৷ এমনকি নিজের দেশকে সর্বশক্তিশালী করার প্রচেষ্টায় কেপি দেশের বাকি নেতৃত্বদের সাথেও বিশেষ ভালো ব্যবহার করেননি তিনি কখনই৷ ফলস্বরূপ সকলেই মারাত্মক চটে আছেন তার উপর৷ এমনকি যখন তখন তার সিংহাসন টলে যেতে পারে৷ এই সংকটজনক পরিস্থিতিতে নেপালের জনগণ চাইছে আবার রাজতন্ত্র ফিরুক দেশে৷

প্রধানমন্ত্রীর কৃতকর্মে মোটেই খুশি নন সেখানকার মানুষেরা৷ তারা গণতন্ত্র ছেড়ে ফের হাঁটতে চাইছেন রাজতন্ত্রের পথেই৷ গত কয়েকদিন নেপালের বিভিন্ন প্রান্তে একজোট হয়ে প্রতিবাদ বিক্ষোভ দেখিয়েছেন নেপালের মানুষ৷ রাজতন্ত্রের শাসন ফেরাতে তারা নেমে পড়েছেন এবার রাস্তায়৷

শনিবারও রাজধানী কাঠমাণ্ডুতে দেখা গেল কিছু একই চিত্র৷ এদিন কাঠমাণ্ডুর বিস্তীর্ণ এলাকা বিক্ষোভের জেরে উত্তাল হয়ে উঠল৷ নেপালের কয়েকহাজার নাগরিকের হাতে দেখা গেল নেপালের জাতীয় পতাকা৷ গণতান্ত্রিক সরকারকে বদলে সাংবিধানিক রাজতন্ত্র ও হিন্দু রাষ্ট্রের তকমা ফেরানোর দাবী জানালেন তারা৷ প্রতিবাদ বিক্ষোভে যোগ দিয়েছিলেন কয়েক হাজার নাগরিক৷ স্থানীয় সূত্রে জানা যায় যে এর আগে দেশের নানান প্রান্তে চলেছিল প্রচার৷

প্রতিবাদ মিছিল থেকে শ্লোগান ওঠে যে ফের হিন্দুরাষ্ট্র তকমা দিতে হবে নেপালকে৷ এমনকি প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলিকে অপসারণের দাবী জানান তারা৷ প্রসঙ্গত,বিক্ষোভে যোগ দেওয়া আমির কেসি নামক এক যুবক নেপালের ললিতপুর থেকে আরও ২৫০জন যুবককে তার সঙ্গে কাঠমাণ্ডুতে নিয়ে এসেছে বলে দাবী করেন৷ তাদের দাবী তারা অন্যকিছু চাইতে আসেননি৷ এক সুন্দর নেপাল গড়ে তোলার উদ্দেশ্যেই তাদের বিক্ষোভ প্রতিবাদ বলে জানা যায় সূত্র মারফৎ৷

দেশের জাতীয় ঐক্য এবং নাগরিকদের ভালোর জন্যই তারা পথে নেমেছেন বলে দাবী করেন বিক্ষোভকারীরা৷ যতক্ষণ না নেপালকে হিন্দু রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে এবং যতদিন না নেপালে আবারও রাজতন্ত্র ফিরছে ততদিন পর্যন্ত তাদের লড়াই চলবে বলে দাবী করেন নাগরিকরা৷