“যেদিন সত্যি সত্যি মারবো সেদিন ব্যাণ্ডেজ বাঁধার জায়গা থাকবে না,হাসপাতালে বেডও থাকবে না!”শাসকদলকে হুঁশিয়ারি দিলীপের

ভোটের বাদ্যি এই বাজলো বলে! তবে ইতিমধ্যেই দিকে দিকে শুরু হয়েছে সমস্ত রাজনৈতিক দলগুলির প্রচারপর্ব৷ দলবদলের চাপে তৃণমূলের গৃহে কার্যত ভাঙন ধরেছে কিছুটা৷ ভোটকুশলী পিকে’র টিমকে দায়িত্ব দিয়েও একেরপর এক হেভিওয়েট নেতারা দল ছাড়ছেন,আর সামনেই বিধানসভা নির্বাচন৷ এই সুযোগে নিজের জায়গা শক্ত করতে ব্যস্ত গেরুয়াশিবির৷

একাধিক বিজেপি নেতৃত্বের গলায় আত্মবিশ্বাসের পরিপূর্ণতা,তারা একরকমভাবে বিশ্বাসী যে তারাই ২০২১—এ বাংলায় সরকার গড়বে! এত সহজে জায়গা ছাড়বে শাসকদলও৷ রাজ্যজুড়ে বিভিন্ন প্রান্তে তৃণমূল কর্মীরা বিজেপির ওপর হামলা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ বিজেপির৷ এই প্রসঙ্গে আজ,শনিবার ফের হুঁশিয়ারি দিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ৷ এদিন তিনি সরাসরি নিশানা করেন মুখ্যমন্ত্রী আর যুব নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে৷ তিনি হুঙ্কার দেন,”রাজ্যে পিসি ভাইপোর রাজত্ব চলবে না৷ আমরা সাধারণ মানুষের হাতে সরাসরি সরকারি পরিষেবা তুলে দিতে চাই কিন্তু তৃণমূলের দালাল নেতা কর্মীরা তা করতে দিচ্ছে না৷”

বহুকাল ধরেই তৃণমূলের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ভাঙর,তবে বর্তমানে প্রায়ই সেখানে সভা করছে বিজেপি৷ এদিন এখানে চায়ে পে চর্চা অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে দিলীপ ঘোষ কটাক্ষ করেন তৃণমূলকে৷ তিনি গলার সুর চড়িয়ে শাসকদলকে চ্যালেঞ্ছ ছুঁড়ে দিয়ে বলেন,”যেদিন সত্যি সত্যি মারতে আরম্ভ করবো সেদিন ব্যাণ্ডেজ বাঁঁধার জায়গা থাকবে না৷ এমনকি হাসপাতালের বেডও পাবে না৷ বাইরে বেড খাটাতে হবে৷”

এদিন ভাঙরে উপস্থিত ছিলেন বিজেপির স্থানীয় কর্মীরা৷ পাশাপাশি নিউটাউনে দাঁড়িয়েও শাসকদলকে বিঁধলেন দিলীপ ঘোষ৷ তিনি বলেন,”সূচি অনুযায়ী এপ্রিলে হবে নির্বাচন ,মে—তে গঠিত হবে নতুন সরকার৷ নির্বাচন আজকে হলেও আমরা তৈরী৷কিন্তু মমতা ব্যানার্জী ও তার দল প্রস্তুত নয়,তাই পুরসভা ও পুরনিগম ভোট আটকে রেখেছে৷” এমনকি এও বলেন,”সমস্ত পুরসভার নির্বাচন হোক,দেখা যাক কার ক্ষমতা বেশি৷”

দিলীপ ঘোষ আত্মবিশ্বাসের সুরে বলেন যে বিজেপির নির্বাচনের প্রস্তুতি শেষ৷ বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতারাও আসছেন,পরবর্তীতেও আসবেন! জানান দিলীপবাবু৷ তার দাবী ,তাদের সংগঠন পুরোপুরি তৈরী!আন্দোলোনে জারি আছে৷ শনিবার নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অর্মত্য সেনকে নিয়েও নিন্দায় সরব হন বিজেপি নেতা৷ অর্মত্য সেনের প্রতি কটাক্ষ করে বলেন, “যদি তিনি একটি নির্দিষ্ট দল বা বিচারধারার হয়ে কথা বলেন তাহলে আমরা ভাববো তবে কি ভুল মানুষকে দেওয়া হল পুরষ্কার?৷”