বাংলার বুকে খুব দ্রুত আছড়ে পড়তে চলেছে ‘যশ’, তান্ডব লীলার সাক্ষী হতে চলেছে গোটা রাজ্য

গত বছর রাজ্য তাণ্ডবলীলা দেখে ছিল ‘আমফান’-এর। সেই সময় আমফানের জন্য বউ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিলেন এবং গৃহহারা হয়েছিলেন।

আবারও বাংলার বুকে নতুন করে ধেয়ে আসছে আরো এক ঝড়। বাংলার মানুষ আবারো কি দেখতে চলেছে ঝড়ের তান্ডব লীলা। আবহাওয়া দপ্তর সূত্রে খবর বাংলার বুকে খুব দ্রুত ধেয়ে আসছে সাইক্লোন ‘যশ’।

আগের বছর ঘূর্ণিঝড়ের তাণ্ডবলীলার পর সরকারের তরফ থেকে এবছর ঝড় আসার আগে বিভিন্ন প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

বিভিন্ন অঞ্চলে বিপদ মোকাবিলা করার জন্য প্রশাসনের তরফ থেকে একাধিক দল পাঠানো হয়েছে। কাকদ্বীপ, বাসন্তী, গোসাবা, ডায়মন্ডহারবার, পাথরপ্রতিমা, মথুরাপুর, হিঙ্গলগঞ্জ, সন্দেশখালি, হাসনাবাদসহ অনেক অঞ্চলেই বিপদ মোকাবিলার জন্য প্রশাসনের তরফ থেকে দল পাঠানো হয়েছে।

বর্তমানে রাজ্যে অতিমারার জন্য লকডাউন চলছে। এই পরিস্থিতিতে কোভিড হাসপাতালগুলিতে ঝড়ের কারণে হঠাৎ করে বিদ্যুৎ চলে গেলে যাতে করোনা রোগীদের কোন অসুবিধা না হয় সে জন্য উপযুক্ত পরিমাণে জেনারেটরের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

যথেষ্ট পরিমাণে বিদ্যুতের খুঁটি এবং স্যালাইন ওয়াটারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়াও উপযুক্ত পরিমাণে জলের পাউচ, মোবাইল ওয়াটার ভেন্ডিং মেশিন, বুলডোজার, আর্থ মুভার এবং গাছ কাটার যন্ত্রেরও ব্যাবস্থা করা হয়েছে।

কোন জায়গায় নদীবাঁধ গুলো কোন রকম ভাবে মেরামত প্রয়োজন আছে কিনা সে বিষয়ে খতিয়ে দেখা হচ্ছে সরকারের তরফ থেকে।

এবারে ঘূর্ণিঝড়ের আসার আগে একাধিক আশ্রয়স্থল তৈরি করা হয়েছে এবং ত্রিপল এর ব্যবস্থা করা হয়েছে। দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার বহু মানুষকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে সম্পূর্ণ নিরাপদ স্থানে।

‘যশ’ আসার আগে সমস্ত কৃষকদের সরকারের তরফ থেকে অনুরোধ করা হয়েছে সব ফসল কেটে তুলে রাখার জন্য এবং মৎসজীবীদের মাছ ধরতে যেতে মানা করা হয়েছে।

সাধারণ মানুষ যাতে ঝড় সম্পর্কিত সমস্ত খবর ঠিক সময় মত পান তার জন্য আবহাওয়া দপ্তরের কর্মীদের ছুটি সরকারের তরফ থেকে বাতিল করা হয়েছে ইতিমধ্যেই।