“TMC-র গত দশ বছরে বাসুদেব বাউলের দুঃখ কষ্টের কথা মনে পড়েনি, অমিত শাহজির খাওয়ার পরই হঠাৎ মনে পড়লো”,তোপ দাগলেন বিজেপি নেতা অনুপম হাজরা

বিধানসভা নির্বাচনের আগে ক্রমেই বেড়ে চলেছে তৃণমূল আর বিজেপির মধ্যে তরজা৷ দু’পক্ষের বাকবিতণ্ডা রাজ্য—রাজনীতিকে করে রেখেছে সরগরম৷ সুযোগ পেলেই একে অপরকে নিশানা করতে একচুল জায়গাও ছাড়ছে না৷ এরইমধ্যে বাউল বাসুদেব দাসকে নিয়ে শুরু হল বিতর্ক৷ একদিকে বিজেপি, অন্যদিকে তৃণমূল, মাঝে বাউল৷ সম্প্রতি বঙ্গসফরে আসেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ৷ মেদিনীপুরে কলেজ মাঠে সভা করার পর বোলপুরে হয় তার রোড শো৷ সেখানে গিয়ে তিনি মধ্যাহ্নভোজন সারেন বাউল বাসুদেব দাসের বাড়িতে৷ রবিবার এ ঘটনার পর মঙ্গলবারেই অনুব্রত মণ্ডল বাসুদেব দাসকে পাশে বসিয়ে সাংবাদিক বৈঠক করেন৷ বৈঠকে তিনি বলেন, “অমিত শাহ এসেছিলেন৷ ওর বাড়িতে খাওয়া দাওয়া করেছিলেন, কিন্তু ও নিজের কথা কিছুই বলতে পারেনি৷ ওরা নাটক করতে এসেছিল৷ নাটক করে চলে গিয়েছে৷ এখন ওর মেয়ে ডিএড করতে চায়৷” পাশাপাশি তিনি এও জানান যে শিক্ষাসেলের দায়িত্বে থাকা প্রলয় ব্যানার্জীর সাথে যোগাযোগ করেছিল বাসুদেব৷

দেড় লক্ষ টাকা খরচা করে ডিএড করানোর সামর্থ্য যেহেতু বাসুদেববাবুর নেই, তাই অনুব্রতই তার মেয়ের ডিএড করিয়ে দিতে বলেছেন বলে জানান সংবাদমাধ্যমকে৷ অন্যদিকে বাসুদেব সাহার বক্তব্য, অমিত শাহ যেদিন ওনার বাড়িতে খান, সেদিন রেশনের চাল নয় বরং দোকান থেকে মিনিকেট চাল কিনে এনে তা দিয়ে ভাত করেছিলেন৷ গান গাওয়ার পর তিনি চেয়েছিলেন অমিত শাহকে নিজের মেয়ের কথা বলবেন৷ এম.এ করে বসে আছে মেয়ে, ডিএড করতে ইচ্ছুক, কিন্তু অমিতজি শোনেননি তার কথা! বাসুদেব সাহার অভিযোগ, খেয়ে গান শুনে চলে গেছেন তিনি৷ আর তারপর থেকে বিজেপির লোকেরা একবারও খবরও নেয়নি তার, অভিযোগ বাসুদেব সাহার৷ তৃণমূল তার মেয়ের ডিএড পড়ার ব্যবস্থা করেছেন শুনে কটাক্ষ করেন বিজেপি নেতা অনুপম হাজরা৷

ফেসবুক পোস্টে লেখেন, “তৃণমূল সরকারের গত ১০ বছরে বাসুদেব বাউলের দুঃখ কষ্টের কথা মনে পড়েনি৷ ঠিক অমিত শাহজির মধ্যাহ্নভোজনের পরই হঠাৎ মনে পড়ল! যাক,আবার প্রমাণিত হল সমাজের হতদরিদ্র মানুষগুলির দুঃখ—কষ্ট শনাক্তকরণে বিজেপিই সবথেকে এগিয়ে৷” তিনি আরও বলেন সংযে অমিত শাহজির মধ্যাহ্নভোজন করলেই যদি এরকম কিছু পরিবার তৎক্ষণাৎ সরকারি সাহায্য পায়, তাহলে এরকম মধ্যাহ্নভোজন আগামী দিনে আরও হবে৷”