সরকারি প্রকল্প নিয়ে বাড়ি বাড়ি শিক্ষকরা,পাশে অনুব্রত

সামনেই ২০২১—এর বিধানসভা নির্বাচন৷ ভোটের কথা মাথায় রেখেই গুটি সাজাচ্ছে প্রতিটি রাজনৈতিক দল৷ ভোটের বাদ্যি বাজার আগেই একেবারে আঁটঘাঁট বেধে প্রস্তুতি নিচ্ছে শাসকদল৷ বিরোধীপক্ষকে দুর্বল প্রমাণ করার জন্য একের পর এক প্রকল্পের ঘোষণা চলছে তৃণমূলের তরফে৷ ২০২১—এর বিধানসভা নির্বাচনে বাংলা দখলেই যে বিজেপির চোখ তা বারংবার স্পষ্ট করছে বিজেপির নেতৃত্ব এবং এই পরিস্থিতিতে বাংলায় এক চিলতেও জায়গা ছাড়তে রাজি নয় তৃণমূল৷

“দুয়ারে দুয়ারে সরকার” প্রকল্পের পর এবার ঘোষণা হল আরেক প্রকল্প — “চলুন মাষ্টারমশাই ঘুরি বাড়ি বাড়ি”৷ দিন কয়েক আগেই অবশ্য এই প্রকল্পটি ঘোষণা করা হয়েছে৷ আজ থেকে পাকাপাকিভাবে শুরু হয়ে গেল প্রকল্পের কাজ৷ পশ্চিমবঙ্গ তৃণমূল প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সদস্যরা এদিন বীরভূমের গ্রামে গ্রামে যান৷

মূলত বীরভূমের মুলুক অঞ্চলের আদিবাসীদের পাড়াগুলি ছিল তাদের গন্তব্যস্থল৷ সকাল থেকেই শিক্ষকরা শুরু করেন তাদের প্রকল্পের কর্মসূচী৷ প্রত্যেকের বাড়ি বাড়ি গিয়ে তারা সরকারের আরও বিভিন্ন প্রকল্প যেমন ‘নিজ গৃহ নিজ বাড়ি’, ‘গীতাঞ্জলী’ সহ প্রায় ৩৬টি প্রকল্প বুঝিয়ে বলেন৷ মানুষকে সরকারের প্রকল্পগুলি সম্পর্কে ওয়াকিবহাল করাই ছিল তাদের মূল লক্ষ্য৷ এদিন তাদের সাথে যোগ দেন বীরভূম জেলার তৃণমূল সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল ৷ ছোট ছোট ছাত্রছাত্রীদের হাতে তুলে দেন পড়াশোনার যাবতীয় জিনিসপত্র৷ মানুষকে শিক্ষার সুযোগ করে দেওয়া এবং গ্রামের সকল মানুষ যাতে সমস্তরকম সুযোগ—সুবিধা পায় তা দেখাই এই প্রকল্পের মূল কাজ তা স্পষ্ট করে জানান অনুব্রত৷

তৃণমূলের শিক্ষক সেলের নেতা এবং বীরভূম জেলা প্রাইমারি কাউন্সিলের চেয়ারম্যান প্রলয় নায়েক এই কর্মসূচী সম্পর্কে তার মতামত জানান,তিনি বলেন , “আমরা মানুষের কাছে যাচ্ছি”৷ বিরোধীদের কটাক্ষকে সামনে রেখে জোর দিয়ে বলেন যে তারা মানুষের সেবক,মানুষের জন্য কাজ করাই তাদের আসল উদ্দেশ্য৷ এবার শিক্ষকরা সেই দায়িত্ব নিজেদের কাঁধে তুলে নিয়েছেন৷ বাড়ি বাড়ি গিয়ে তারা মানুষকে সচেতন করছেন সরকারি প্রকল্প সম্পর্কে৷

তৃণমূলের এই কর্মসূচীতেই এদিন এক আদিবাসী মহিলা মুনি হাঁসদা বলেন,”তিনি বার্ধক্য ভাতা পাননি,বাড়িও পাননি”৷ পাশাপাশি অপর এক গ্রামবাসী বাবলু সোরেনের বক্তব্য যে তারা সব পেয়েছেন কিন্তু তাদের পুজোর স্থান নিয়ে কিছু সমস্যা রয়েছে,তা জানানোও হয়েছে৷ গ্রামবাসীদের তরফে সমস্ত অভিযোগ শিক্ষকরা মনোযোগ সহকারে সময় নিয়ে শোনেন এবং সাথে সমস্যাগুলি মিটিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দেন৷

তবে আবারও বিজেপির নিশানায় চলে আসে তৃণমূলের এই কর্মসূচী৷ বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ এই প্রকল্পকে করেন কটাক্ষ৷ তিনি বলেন , মাস্টারমশাইদের আসলে ব্যবহার করা হচ্ছে এবং তা তারা বুঝছেন না৷ পাশাপাশি দিলীপ প্রকল্প সরকারের না দলের তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন৷ দুয়ারে দুয়ারে গিয়ে আসলে দল আর সরকার মিলে যাচ্ছে তা নিয়ে দিলীপ ঘোষ কোনো সন্দেহ রাখছেন না তাও তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন৷

আসন্ন নির্বাচনে বাংলার দখল পেতে মরিয়া হয়ে উঠেছে বিজেপি৷ আর অন্যদিকে পুনরায় সরকার গঠনকে উদ্দেশ্য করে এগিয়ে চলেছে তৃণমূল৷ ২০২১ —এই রয়েছে হয়তো এই সব প্রশ্নের উত্তর৷