“লজ্জা করে ২১বছর এই পার্টিটা করেছি বলে, TMC পরিণত হয়েছে কোম্পানিতে,শুভেন্দু উবাচ

নন্দীগ্রাম জমি আন্দোলোনের অন্যতম মুখ শুভেন্দু অধিকারী ,যার পরিবার প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে রাজনৈতিক আধিপত্য চালাচ্ছে মেদিনীপুর এলাকায়৷ ছিলেন রাজ্যের পরিবহণ মন্ত্রীও৷ মন্ত্রীত্ব আর বিধায়কের পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে তিনি দিনকয়েক আগেই যোগ দিয়েছেন ভারতীয় জনতা পার্টিতে৷ গতকাল কাঁথি অবধি সুসজ্জিত ট্যাবলোতে রোড শো করে কাঁথিতে জনসভাও করলেন শুভেন্দু৷ সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিলেন তৃণমূলকে৷ বললেন,দুই মেদিনীপুরেই তৃণমূল হারবে৷

পাশাপাশি আজ বিজেপির তরফে ছিল একটি সম্বর্ধনা অনুষ্ঠান৷ বিজেপিতে আগত সকল নতুন সদস্যদের জন্য ছিল এই অনুষ্ঠান৷ এদিনও আক্রমণাত্মক হতে দেখা গেল নন্দীগ্রামের প্রাক্তন বিধায়ককে৷ তৃণমূলকে কটাক্ষ করার সাথে সাথেই উগড়ে দিলেন একরাশ ক্ষোভ৷ তৃণমূলে এত বছর থেকেও তার ভিতর জমেছে দল সম্পর্কে বিরূপ মনোভাব,দলের কার্যকলাপে এক অর্থে বিরক্ত ছিলেন শুভেন্দু৷

বারবারই বলেছেন প্রাপ্য সম্মান পাননি তৃণমূল থেকে,তাই যোগ দিচ্ছেন গেরুয়াশিবিরে৷ সম্বর্ধনা মঞ্চ থেকেও তৃণমূলের উদ্দেশ্যে সমালোচনার বন্যা বইয়ে দিলেন৷প্রায় চাচাছোলা ভাষায় শাসকদলকে আক্রমণ করেন তিনি৷ প্রকাশ্যেই বলেন,”তৃণমূল কংগ্রেস দলটা কোম্পানিতে পরিণত হয়েছে৷লজ্জা করে ২১বছর এই পার্টিটা করেছি বলে৷ হ্যাঁ ,এখন আমার সত্যিই এটা ভেবে লজ্জা করে৷”

একহাত নেন তৃণমূল সরকারকে৷ আক্রমণাত্মক ভঙ্গীতে বলেন,”৩৪বছর ধরে সিপিএম যেভাবে ভুল পথে চালিয়েছে রাজ্যকে,তৃণমূল ওই চটিতেই পা গলিয়েছে৷” জোর গলায় বলেন,”বাংলাকে মোদিজীর হাতে তুলে দিতে হবে৷ দেশের সব রাজ্যে বিজেপি না থাকলেও তারা কেন্দ্রের প্রকল্পের সুবিধা তারা দেয় মানুষকে৷ একমাত্র বাংলাতেই রাজ্য সরকারের জন্স ৭৩লাখ চাষী কেন্দ্রের সুবিধা থেকে বঞ্চিত থাকে৷ সেখানে একমাত্র বিজেপিই পারে সোনার বাংলা গড়তে৷” তার দাবী কেন্দ্র ও রাজ্যে একই সরকার থাকতে হবে৷”

এদিন শুভেন্দু একটি গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন সম্বর্ধনা মঞ্চে! তিনি বলেন,”ভারত কেশরি ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় আমাদের এদেশে থাকার সুযোগ করে দিয়েছেন৷ ওনার জন্যই আমরা এই দেশে,পশ্চিমবঙ্গে থাকার সুযোগ পেয়েছি৷” গেরুয়াশিবিরের সদস্য হিসেবে বলেন বিজেপিই একমাত্র পারে ফর দ্য পিপল,বাই দ্য পিপল,অফ দ্য পিপল ভাবধারাকে বাস্তবায়িত করতে! তার মতে, বিজেপিই পারবে দেশমাতৃকার চরণের তলায় থেকে সেবা করতে,দেশের মানুষের হিতে কাজ করতে৷