“কাটমানিখোরদের হঠাও! এবার ভোট করবে সিআরপিএফ,রাজ্য পুলিশ নয়”,দাঁতন থেকে হুঁশিয়ারি শুভেন্দুর

গেরুয়াশিবিরে যোগ দেওয়ার পর একদিনও বিশ্রাম নেননি শুভেন্দু অধিকারী৷ যে দাপটের সাথে তাকে দেখা গেছে আগেও নির্বাচনী প্রচারে বা জনসভায়,রবিবার সেই ভাবমূর্তি নিয়েই দাঁতনে সভা করলেন প্রাক্তন পরিবহণ মন্ত্রী৷ অন্যদিকে এদিনই নিজের কেন্দ্রে সভা করেছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়৷ বক্তৃতা দিতে গিয়ে প্রায় একহাত নিয়েছেন বিজেপি আর বিশেষত শুভেন্দুকে৷ তবে শুভেন্দু অধিকারীর বক্তৃতায় ঝড়ে পড়ল আগুন যেন! রবিবার প্রায় সাড়ে তিন কিলোমিটার পথ জুড়ে রোড শো করলেন তিনি৷ তবে শো—এর শেষেই নেমে এল সন্ধ্যের অন্ধকার৷ তার মধ্যেই মশাল জ্বেলে ধরলেন শুভেন্দু অধিকারী৷ একটুও না দমে গিয়ে সভা করলেন তিনি৷ কটাক্ষ ছুঁড়ে দিলেন শাসকদলের উদ্দেশ্যে৷এদিন তিনি বলেন,”এটা তো সবে ট্রেলার,সিনেমা এখনও অনেক বাকি৷”

২০২১—এর নির্বাচনকে লক্ষ্য রেখে শুভেন্দু বলেন,”এবার ভোট হবে৷ তবে রাজ্য পুলিশ নয়,সিআরপিএফ করাবে ভোট৷” বিজেপিতে যোগ দেওয়ার আগে থেকেই সুযোগ পেলে তৃণমূলকে আক্রমণ করতে এক পাও পিছোচ্ছেন না তিনি৷ দাঁতনের সভা থেকেও তৃণমূলকে “ছিন্নমূল” অভিধাতে বিদ্রূপ করেন৷ তার দাবী,”২৩শে মে জিতে দেশে আবার ক্ষমতায় আসে বিজেপি৷সেইদিন জোড়াফুলের বড় বড় নেতারা নিজের মোবাইল সুইচ অফ করে রেখেছিলেন৷পার্টি অফিসে তালা দিয়ে রেখেছিলেন৷”

শুভেন্দুর গলায় ক্ষোভ,”সেদিন তাদের অক্সিজেন দিয়ে যে ঘর থেকে বের করে এনেছিল তাকেই এবার বিশ্বাসঘাক বলছে এরা৷”
সৌগত রায় থেকে শুরু করে অভিষেক বন্দোপাধ্যায় সকলেই শুভেন্দুকে বারংবার বলেছেন “বিশ্বাসঘাতক”৷ তৃণমূলের অভ্যন্তরেও তাকে “গদ্দার” হিসেবে দেগেছেন অনেকেই৷

এবার এর কড়া জবাব দিলেন শুভেন্দু অধিকারী৷ তিনি বলেন,”আমি একে একে মন্ত্রীত্ব,বিধায়ক পদ আর পরে তৃণমূলের সব পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছি এবং একজন সাধারণ ভোটার হয়েছি৷আর একজন সাধারণ ভোটার যে কোনও রাজনৈতিক দলে যোগ দিতে পারেন৷”

দাঁতন থেকে রণহুঙ্কার দিয়ে শুভেন্দু গলার সুর চড়িয়ে বলেন,মেদিনীপুরে বিশ্বাসঘাতকদের জন্মগ্রহণ হয় না,এখানে বিদ্যাসাগরের জন্মগ্রহণ হয়,যিনি বর্ণপরিচয় না লিখলে নিজের নামটুকু তারা লিখতে পারত না৷ তিনি আরও বলেন,”মেদিনীপুরে জন্মায় মাতঙ্গিনী হাজরা,ক্ষুদিরাম বসুরা৷”

আবারও সপ্তাহান্তে সদ্য পদ্মপতাকা হাতে তুলে নেওয়া শুভেন্দু শ্লোগান দেন,”তোলাবাজ ভাইপো হঠাও!চর হঠাও৷ প্রধানমন্ত্রীর আবাস যোজনার কাটমানিখোরদের হঠাও৷” গতকাল জনজোয়ারে ভেসেছিল দাঁতন!