মায়ের সাথে ফুটবলারদের জন্য টিফিন বানাতেন মমতা, রইল মুখ্যমন্ত্রীর ফুটবলপ্রেমের অজানা গল্প

বাংলার মেয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ‘খেলা হবে’ স্লোগানে ভোটের পূর্বে গোটা রাজ্যে গর্জে উঠে, তিনবার বাংলার সিংহাসনে নিজের রাজত্ব পুনরায় কায়েম করলেন। ফুটবলের প্রতি মুখ্যমন্ত্রীর ভালোবাসা বরাবর, তাই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে পঞ্চাশ হাজার ফুটবল দেওয়া প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তিনি। বহুবার বিভিন্ন রাজনৈতিক সভার শেষপর্বে দলের কর্মীদের হাতে ফুটবল ছুঁড়ে দিতেও দেখা গিয়েছে তাঁকে।

তাঁর দাদা অজিত বন্দোপাধ্যায় উল্লেখ করেছিলেন যে,”একটা সময় ছিল যখন কালীঘাট মিলন সংঘ অ্যাল্যান লিগে খেলত। অর্থাৎ এখনকার দিনে যেমন পঞ্চম ডিভিশন বি। তখন ফুটবলারদের টিফিন কিনে দেওয়ার মতো সামর্থ্য ছিল না আমাদের। মা নিজেই রান্না করতেন। হাত লাগাত মমতা। কখনও ছোলা গুড়, কখনও ভেজিটেবিল স্টু করে সাইকেলের পেছনে বেঁধে দিত। উৎসাহ নিয়েই এই কাজ করত। কখনও বিরক্ত হতে দেখিনি।”

এই বিষয়ে অজিত বাবু বলেন, ছোটো থেকেই ফুটবলের প্রতি তাঁর বোনের ভালোবাসা অটুট রয়েছে। প্রথমবার মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পরেই মমতা ছোট ক্লাবগুলোকে ৫০ লাখ টাকার আর্থিক সাহায্য করেছিলেন। ফুটবল অ্যাকাডেমি গড়ে তোলার জন্য বিভিন্ন স্টেপ ও নিয়েছেন। ১৭ বিশ্বকাপের পূর্বে যুবভারতী স্টেডিয়ামকে নতুন রূপে ঢেলে সাজানোও হয়েছিল।

এই সাজ-সজ্জা দেখে সার্টিফিকেট ও দিয়েছিলেন বিদেশি দলের ফুটবলার কোচ এবং টিম ম্যানেজমেন্ট। একসময় ৩০ কোটি টাকা বাজেট নির্ধারিত করা হত রাজ্যের ক্রীড়া এবং যুব কল্যানের উদ্দেশে।

তবে রাজ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্যমন্ত্রী পদে বসার পর সেই বাজেট প্রায় ৭০০ কোটি টাকার কাছাকাছি নির্ধারণ করা হয়। এর পাশাপাশি অজিত বাবু এও বলেন যে, আমি নিজে ছোটো ক্লাব থেকে খেলেছি তাই ছোটো ক্লাবগুলির অনেক সমস্যার সর্ম্পকে আমি জানি। ক্রিকেটের মত ফূটবলে মোটা অংকের টাকা পাওয়া যায় না।

তাই মমতা বহু কটূক্তির সম্মুখীন হলেও তা পাত্তা না দিয়েই সর্বদা ছোটো ক্লাবগুলিকে সাহায্য করেছেন। এমনকি রাজ্যে সরকার পি কে বন্দোপাধ্যায়, চুনী গোস্বামীর মতো মানুষগুলির অসুস্থতার খরচও বহন করেছে।

কিন্তু মমতা নিজের কালীঘাট মিলন সংঘকে পারিবারিক ক্লাব বলেই কোনরূপ টাকা দিয়ে সাহায্য করেননা। তবে কলকাতা লিগ এবং আই লিগ দ্বিতীয় ডিভিশনে খেলেছে কালীঘাট মিলন সংঘ ক্লাব।

রাজনৈতিক মহলে নয়ের দশক থেকে ব্যস্ত হয়ে পড়ায় নিজে সময়ে দিতে না পারলেও দাদার সঙ্গে দেখা হলেই, ক্লাবের খোঁজ নেন মুখ্যমন্ত্রী। এই কারণেই বাংলায় পুনরায় মমতার রাজত্ব প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় বাংলার ক্রীড়ামহল খুবই খুশি।