খুব শীঘ্রই আছড়ে পড়তে চলেছে ‘ইয়াশ’, ঘূর্ণিঝড়ের নিশানায় পশ্চিমবঙ্গ-ওড়িশা, কলকাতা সহ আট জেলায় ভারী-অতি ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা

‘ইয়াশ’-কে নিয়ে ইতিমধ্যেই আতঙ্ক ছড়িয়েছে বিভিন্ন জেলার মানুষের মধ্যে। এই ঘূর্ণিঝড়ের সাথে মোকাবিলা করার জন্য চারিদিকে চলছে জোড় কদমে প্রস্তুতি।

ঘূর্ণিঝড় ‘ইয়াশ’ প্রবল বেগে পশ্চিমবঙ্গ-ওড়িশার দিকেই ধেয়ে আসতে পারে, এমনটাই জানাচ্ছেন আবহাওয়া দপ্তর। এই ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণ করেছে ‘ওমান’। আরবিতে যার অর্থ দুঃখ।

রবিবার বঙ্গোপসাগরের উপর তৈরি হওয়া নিম্নচাপ সোমবার ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হবে। এই ঘূর্ণিঝড় প্রবল বেগে উত্তর-পশ্চিম দিকে এগিয়ে যাবে এবং বুধবার সন্ধ্যায় পশ্চিমবঙ্গের সাগরদ্বীপ ও ওড়িশার পারাদ্বীপ এ আছড়ে পড়তে পারে।

আবহাওয়া দপ্তর সূত্রে এমনটাই জানা গেছে।

এই ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে মঙ্গলবার থেকেই উপকূলবর্তী জেলাগুলিতে বৃষ্টিপাত শুরু হয়ে যাবে। উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনায় মাঝারি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।

হাওড়া তেও বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে, তবে হালকা। বৃষ্টিপাতের সাথে ঝড়ো হাওয়া বইতে পারে বলে জানিয়েছে হাওয়া অফিস।

বুধবার থেকে অন্যান্য জেলাগুলিতেও বৃষ্টিপাত শুরু হয়ে যাবে বলেই জানিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর। বুধবার ঝাড়গ্রাম, কলকাতা, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, হাওড়া ও হুগলিতে ভারী-অতি ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভবনা রয়েছে।

এছাড়াও বীরভূম, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, বর্ধমান ও নদিয়াতেও ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভবনা আছে। তবে মুর্শিদাবাদ, মালদহ ও দক্ষিণ দিনাজপুরে হালকা-মাঝারি বৃষ্টিরপাতের পূর্বাভাস রয়েছে বলেই জানিয়েছে হাওয়া অফিস।

আবহাওয়া দপ্তর সূত্রে খবর, উপকূলে প্রবেশের সময় ‘ইয়েশ’-এর গতিবেগ থাকতে পারে ১৫৫-১৬৫ থেকে কিলোমিটার। এই ঘূর্ণিঝড় আছড়ে পড়ার পর এর সর্বোচ্চ গতিবেগ হতে পারে ১৮৫ কিলোমিটার পর্যন্ত। পরে ধীরে ধীরে দুর্বল হবে এই ‘ইয়াশ’।

‘আমফানের প্রকোপ কাটতে না কাটতেই ‘ইয়াশের’ আগমন ভাবিয়ে তুলেছে রাজ্য ও প্রশাসনকে। এবার তারা আগে থাকতেই অনেকটা সতর্ক হয়ে গেছেন এবং মানুষের কাছেও সতর্ক বার্তা পৌঁছে দিচ্ছেন।

এই বিপদ মোকাবিলার জন্য প্রশাসনের তরফ থেকে একাধিক দল পাঠানো হয়েছে বিভিন্ন জেলায়।