সরকারের তরফে নতুন কর্মসূচী “বঙ্গবধ্বনি”,প্রকাশিত হল তৃণমূলের দশ বছরের উন্নয়নের রিপোর্ট কার্ড

বছরের প্রায় শেষে প্রকাশিত হল তৃণমূল কংগ্রেসের রিপোর্ট কার্ড৷ এই কার্ডে দেখানো হয়েছে যে বিগত দশ বছরে রাজ্যের মানুষ কোন কোন সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পেয়েছেন৷ ইতিমধ্যেই ঘোষণা হয়েছে রাজ্য সরকারের তরফে নতুন প্রকল্প “দুয়ারে দুয়ারে সরকার”৷ আর এবার ঘোষিত হল নতুন কর্মসূচী “বঙ্গধ্বনি”৷ আগামীকাল থেকে রাজ্যের সমস্ত বিধানসভায় বঙ্গধ্বনির মাধ্যমে মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছে যাবে রিপোর্ট কার্ড৷

এই রিপোর্ট কার্ড প্রকাশিত হয় দলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের হাত দিয়ে৷ এদিন উপস্থিত ছিলেন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য্য আর ইন্দ্রনীল সেন ,সুদীপ বন্দোপাধ্যায়,সুব্রত মুখোপাধ্যায় সহ সহ আরও নেতৃত্বরা৷ রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে যে ২০১১সালের পর থেকে বেড়েছে শিক্ষা খাতে বেড়েছে তিন গুণ৷ পাশাপাশি স্বাস্থ্য ও খাদ্য এই দুটি ক্ষেত্রেও বেড়েও বরাদ্দ৷ সুব্রত মুখোপাধ্যায়ের মাধ্যমে এটি “শ্বেতপত্র”৷ মমতা বন্দোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে সরকার বাংলার মানুষের পাশে কীভাবে দাঁড়িয়েছে,কীভাবে কাজ করেছে তার তালিকা রয়েছে এই কার্ডে৷

এদিন মহাসচিব পার্থ চ্যাটার্জী বলেন যে তৃণমূল সরকার দশ বছরের মধ্যে মোট ৮বছর কাজ করতে পেরেছে৷ এই বছর করোনা পরিস্থিতি এবং এক বছর উপনির্বাচনের জন্য কাজ করা সম্ভব হয়নি৷ তবুও সরকার কীভাবে মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছেছে,তাদের সুখ—দুঃখ খতিয়ে দেখেছে ,তাদের পাশে থেকেছে তা উল্লেখ করা হয়েছে কার্ডে৷ ৮বছরের কাজের খতিয়ান নিয়েই এবার মানুষের দোরে দোরে পৌঁছবে সরকার বলে জানান পার্থবাবু৷

গত বশ বছরে চালু হয়েছে বিভিন্ন সরকারি প্রকল্প৷ খাদ্য,বিদ্যুৎ,পানীয় জল এমনকি রাস্তাও তৈরী করেছে সরকার৷ স্বাস্থ্যসাথীর মতো সুবিধা এনেছে এই সরকার৷ সর্বদা থেকেছে মানুষের পাশে৷  “দিদিকে বলো”,”বাংলার গর্ব মমতা”—র পর এবার শুরু হল “বঙ্গধ্বনি”৷ এর মাধ্যমে মানুষের ঘরের দোরগোড়ায় পৌঁছে যাবেন জনপ্রতিনিধিরা৷

বাংলার উন্নয়ন হয়েছে কতটা ,তারই খতিয়ান দেবে রিপোর্ট কার্ড৷ শুক্রবার প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্রে সাংবাদিক বৈঠক হবে৷ এছাড়াও হবে মিছিল,তার মাধ্যমেই শুরু হবে বঙ্গধ্বনি৷ আগামী দশ দিনে প্রতিটা বিধানসভা কেন্দ্র থেকে তিন থেকে পাঁচটি দল যাত্রা শুরু করবে ধারাবাহিকভাবে৷ সূত্রের খবর ওই যাত্রায় চার হাজার নেতা নটি দলে ভাগ হয়ে ২৭হাজার ৫০০ এলাকায় যাবেন৷ রাজ্যের প্রায় আড়াই লক্ষ কিলোমিটার জুড়ে এক কোটি মানুষের সাথে সংযোগ করবে তারা৷ দেওয়া হবে “দিদিকে বলো” পকেট ক্যালেণ্ডারও৷

বঙ্গধ্বনি নামক এই কর্মসূচীর বাস্তব রূপায়ণ হবে প্রত্যেক বিধানসভা কেন্দ্রে তিনটি করে দল গঠনের মাধ্যমে৷ প্রথম শ্রেণির দলে থাকছেন জেলাাসভাপতি বা গুরুত্বপূর্ণ আধিকারিকরা৷ প্রচারের জন্য থাকবে গাড়ির ব্যবস্থাও৷ এছাড়াও প্রতি মিনিটের রিপোর্ট পেশ করতে হবে শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে বলেও জানানো হয়েছে এদিন৷ প্রচারের গাড়িতে থাকবে দলীয় নেত্রীর ছবি এবং দলের প্রতীক৷ সূত্র মারফৎ জানা গেছে যে ভোটকুশলী পিকের টিম যে কাজ করেছে তার পরিপ্রেক্ষিতে এই কর্মসূচী৷ ভোটের প্রাক্কালে তৃণমূলও যে কোমর বেঁধে মাঠে নেমেছে সেই ছবি স্পষ্ট৷