শিক্ষকরূপী ঈশ্বর, বাড়ি বসে বেতন নেওয়া অপছন্দ, নিজের বেতনের টাকায় রোগীদের ঘরে ঘরে খাবার ঔষধ পৌঁছে দেন তিনি

২০২০ সাল থেকে করোনা সমস্ত সাধারণ মানুষের চারিদিকে একটা গন্ডি টেনে দিয়েছে। আগের মতো আর কিছুই নেই। স্কুল, কলেজ, অফিস সবই বন্ধ। তাই ২০২০-র মার্চ মাস থেকেই বাড়িতে বসে বেতন পাচ্ছেন সমস্ত শিক্ষক-শিক্ষিকারা। বাড়িতে বসে বসে বেতন নেওয়া একদম পছন্দ করেন না শ্যামল জানা।

তিনি হলেন কাঁথির কুলাই পদিমা নিম্ন বুনিয়াদী বিদ্যালয়ের শিক্ষক। তিনি এই পরিস্থিতিতে নিজের শরীরের কথা চিন্তা না করেই করোনা আক্রান্ত রোগীদের বাড়িতে প্রয়োজনীয় খাবার , ঔষধ এবং টাকা পৌঁছে দিয়েছেন এবং দিচ্ছেন। এই কাজে শ্যামল বাবু তার স্ত্রীকেও পাশে পেয়েছেন। তার কাছে কাঁথি শহর ও কাছাকাছি শহর থেকে সাহায্যের জন্য ফোন আসছে।

ফোন পাওয়া মাত্রই শ্যামল বাবু ছুটে যাচ্ছেন ঐ অসহায় মানুষগুলোর পাশে দাঁড়ানোর জন্য। শ্যামল বাবু তার নিজের নম্বর সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করেছেন যাতে মানুষ তাকে সহজেই সাহায্যের জন্য যোগাযোগ করতে পারে।

শুধুমাত্র করোনা পরিস্থিতিতেই নয় এর আগেও তিনি এমন অনেক কাজই করেছেন। তিনি কলকাতা ডাক্তার দেখাতে এলে পথশিশুদের জন্য স্লেট, খাতা, পেন, পেন্সিল নিয়ে যেতেন। কোথাও ঘুরতে গেলে শ্যামল বাবু তার ব্যাগে করে জামাকাপড়, ওষুধ নিয়ে যেতেন অসহায় মানুষদের জন্য।

এছাড়া সন্তানহীন বৃদ্ধ বৃদ্ধদের প্রয়োজনীয় জিনিস পত্র জোগাড় করে দেওয়া, আর্থিক ভাবে পিছিয়ে পরা ছাত্র-ছাত্রীদের বই-খাতা ও খাবারের ব্যবস্থা করে দেওয়া, এছাড়াও দুঃস্থ মানুষদের জামা কাপড় উপহার দেওয়া। এইসব কাজ নিয়েই থাকতে তিনি পছন্দ করেণ। তিনি তোর ছাত্র-ছাত্রীদের সন্তানের মতোই ভালোবাসেন। শ্যামল বাবু ছাত্র-ছাত্রীদের ‘সন্তান দল’ বলে ডাকেন।

শ্যামল বাবু তার জন্মদিনে কৃষকদের হাতে অনেক কিছু তুলে দিয়েছেন। আগের বছর আমফানের সময় তিনি বহু মানুষের কাছে ত্রিপল প্রয়োজনীয় খাবার পৌঁছে দিয়েছেন। দরিদ্র পরিবারের মেয়েদের আর্থিক ভাবে সাহায্য করেছেন এবং স্বনির্ভর প্রকল্পের উদ্দেশ্যে তাদের হাতে তুলে দিয়েছেন ছাগল ও মুরগির ছানা।

শ্যামল বাবু সমাজ সচেতন মানুষ বললেও ভুল হাবে না। তিনি পরিবেশকে দূষণ মুক্ত করার জন্য অনেক কিছুই করেছেন। এ বছর প্রজাতন্ত্র দিবসের দিন শ্যামল বাবুকে এক সরকারি মঞ্চে কাঁথি প্রশাসনের তরফ থেকে কাঁথি মহকুমা শাসক এবং মহকুমা পুলিশ আধিকারিক ‘কোভিড যোদ্ধা’ সম্মানে সম্মানিত করেছেন।

শ্যামল জানাকে শিক্ষকরূপী ঈশ্বর বললে ভুল বলা হবে না। তার এই উদার মনোভাব আবারও প্রমাণ করল এখনও মানুষের মধ্য মানবিকতা বেঁচে আছে।